<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787</id><updated>2011-07-30T16:05:06.383-07:00</updated><title type='text'>শামসুজ্জামান সিদ্দিকী</title><subtitle type='html'></subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>14</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-2263275428939944469</id><published>2009-06-21T07:28:00.000-07:00</published><updated>2009-06-21T07:33:29.268-07:00</updated><title type='text'>মন্ত্রীদের সত্য কথা বলতেই হবে</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/Sj5EOIpD5nI/AAAAAAAAADk/i9Y_FGrjrLc/s1600-h/006948_38.jpg"&gt;&lt;img style="MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; FLOAT: left; HEIGHT: 240px; CURSOR: hand" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5349788416991290994" border="0" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/Sj5EOIpD5nI/AAAAAAAAADk/i9Y_FGrjrLc/s320/006948_38.jpg" /&gt;&lt;/a&gt; &lt;span style="font-size:130%;"&gt;মন্ত্রীর মূল ধাতু ‘মন্ত্র’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসে ঢুকে পড়েছে। অর্থ হল বিচক্ষণ মানুষদের কথাবার্তা। পনেরোশ’ খৃষ্টপূর্বাব্দ বেদীয় যুগ থেকে এই শব্দটির চালু রয়েছে বলে বাংলাপিডিয়া লিখেছে। ভক্ত-অনুরক্তদের স্বর্গীয় ভাবাবেগে মত্ত করার জন্য তান্ত্রিক হিন্দু ও বৌদ্ধ উপাসনালয়ে নানা ধরনের ‘মন্ত্র’ উচচারিত হয়। ‘মন্ত্র’ দেয়ার শব্দসমূহ অতি পবিত্র বলে গণ্য, প্রাঞ্জল্য ভাষায় পংক্তিবদ্ধ এবং অতি পাওয়ারফুলও বটে। এতে মন প্রশান্তিতে ভরে যায়, কথার যাদু মালায় সর্বত্র‌ই যেন শান্তির ধারা পরিলক্ষিত হয়। তান্রিক ধর্ম মতে, ‘মন্ত্র’ দিতে গেলে অবশ্যই একজন গুরু লাগে, অর্থাৎ প্রধান মন্ত্রনাদানকারীকে ধরতে হয়। ধর্মাচারকে স্বতঃসিদ্ধ করতে একই মন্ত্রসমূহ সুন্দর, সাবলীল ভাষায় বারবার বলা চাই। যদিও চতুর্থ শতাব্দীর বেদিক পূরোহিত কাতসা এবং বৌদ্ধ দার্শনিকপান্ডব বাসুবন্ধু বলেছেন, ‘মন্ত্র ফন্ত্র হলো একদম বোগাস। ওসবে কোন কাজ হয়না।’&lt;br /&gt;    &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;কাজ হোক বা না হোক ‘মন্ত্র’ শব্দের সাথে স্বর্গ ও আধ্যাত্মিকতার ভাব আছে বলে পশ্চিমেও পাদ্রীদেরকে ‘মিনিস্টার’ নামে ডাকা হয়। যেমন, অমুক হলেন ‘মিনিস্টার অব চার্চ হলিক্রস’ অর্থাৎ তিনি হলেন হলিক্রস চার্চের পাদ্রী ।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;পানি-পড়া, মন্ত্র-পড়া, ওঝা বা গনকদের কাজ-কর্ম্মের প্রভাব খুব বেশী মানুষদের উপর পড়ে না। এক ব্যক্তি থেকে বড়জোর একটি পরিবার। কিন্তু দেশ চালানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ বা মন্ত্রী-মিনিস্টাররা বোগাস কথা বললে পুরো জাতি প্রভাবিত হয়, প্রতারিত হয়। এমনকি বিভ্রান্তিতে পতিত হওয়ার রেকর্ডও আছে। যেমন, বুশ তার দেশের গোয়েন্দা প্রধানের দেওয়া মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;সারা দুনিয়ার শাসককূলই কম-বেশী এই মিথ্যা কথা বলার কাজটি সচেতনভাবেই করে থাকেন। অন্যভাবে বললে তারা ‘অধিক মিথ্যা’ কিংবা ‘কম সত্য’ কথা বলেন। ডঃ আসকার ইবন শাইখ ১৯ মে মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে এনটিভি’র একটি টকশো’ তে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বর্তমানে কোন্‌ জিনিস তাঁকে সবচেয়ে ব্যথিত করে। তিনি এক বিন্দু চিন্তা না করে বলেছিলেন, ‘মিথ্যা ভাষণ। সর্বত্রই এখন মিথ্যা। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সবাই মিথ্যা কথা অবলীলায় বলে যায়’।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;বাংলাদেশে এর চর্চা উপরদিক থেকে ইদানিং মারাত্মক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল জেনারেশন ধরে নিয়েছিল জড়াগ্রস্থ পুরোনো ব্যর্থ দিনগুলোকে পায়ে মাড়িয়ে নতুনরা দেশের দিনসব একদম বদল করেই ছাড়বে। কিন্তু বিধি বাম! লংকায় গেলে নাকি সবাই রাবণ হয়! আমাদের রাবনেরা এমন ভাবে মাথা ঝাকিয়ে, গা দুলিয়ে মিথ্যা কথা বলেন, ভাবেন হনুমানেরা বুঝি কিচ্ছু বোঝেনা! কত রাবনের প্রস্থান যে হনুমানদের ইতিহাসে ভরা সেসব নতুন করে বর্তমান রাবনদের বোঝাবে কে? &lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ বাংলাদেশের সাথে অনেক দেশকেই কিছুটা হলেও ‘আউলা’ করে দিয়ে গেছে। স্বাধীনতার অন্যতম এক মহানায়কের গর্বিত সন্তান ও চৌকষ একজন মন্ত্রী যখন চারদিন ‘সর্দি’ বা ‘হাইবারনেশন’ শেষ করে স্বপ্রণোদিত হয়ে মিডিয়াতে বললেন, ‘কিসের পদত্যাগ? আমরা দিন বদলের জন্য কাজ করছি। পরিবর্তন আনতে চাইলে নিজেদের পরিবর্তিত করতে হবে। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। কাজ করতে গেলে বাধা তো আসবেই সেগুলো ভেঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে (আমারদেশ, জুন৪, ২০০৯),’; ঠিক তখনি কানাডার পার্লামেন্টে তুমুল হট্টগোল বেধে গেল। হাউজ অব কমন্সে কানাডার ন্যাচারাল রিসোর্স মিনিস্টার লিসা রেইটের পদত্যাগের দাবী করল সবগুলো বিরোধী দল মিলে। লিসার স্বহস্তে লেখা ‘সিক্রেট’ সরকারী ডকুমেন্ট সিটিভি’র অটোয়া নিউজরুমে পড়েছিল। ৩ জুন লিসা হাউসে বিরোধী পার্লামেন্টেরিয়ানদের দাবীর মুখে বললেন, ‘অবশ্যই সঠিক পদ্ধতি না মানায় এই কান্ডটি ঘটেছে। পদত্যাগপত্র আমি আগেই জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহন করেননি।’ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার বিরোধী দলের তুমুল ‘হো’,‘হো’ ধবনির মধ্যে বললেন, ‘এটা লিসার ভুল নয়। তিনি ওই সময় সরকারী কাজেই অন্যত্র ছিলেন। তাঁর একজন স্টাফের অসতর্কতায় এমনটি হয়েছে। এর জন্য লিসাকে দায়ী করা সমীচিন নয়।’ এরপর আবারো মেডিক্যাল আইসোটোপ নিয়ে সহকারীর সাথে লিসার অসংলগ্ন কথাবার্তার টেপ জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে পড়ায় হারপার প্রশাসনও লজ্জা পেয়েছেন। লিসা সজল নয়নে দুঃখ প্রকাশ করেছেন পার্লামেন্টে সবার সামনে। ইতোমধ্যে রিসোর্স মিনিস্টার অফিসের কমিউনিকেশন বিভাগের ডিরেক্টর জ্যাসমীন ম্যাকডোনেল সব দায়-দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়ে ইস্যুটি থেকে নিজেকে সযত্নে প্রত্যাহার করে নিলেন।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;আর ওদিকে ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মত স্পীকারের পদত্যাগের পর সরকারে যেন শনির দশা লেগেই আছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই চারজন ফুল মন্ত্রী এবং দু’জন জুনিয়র মন্ত্রী ‘ব্যক্তিগত’ কারন দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ওয়ার্ক এন্ড পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী জেমস পার্নেল পদত্যাগপত্রটি পাঠানোর সময় সাহস করে প্রধানমন্ত্রী ব্রাউনকেও পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে সাথে একটি চিঠি জুড়ে দিয়েছেন। ব্রাউনের ‘শ্যাম না কূল রাখি’ অবস্থা! চিঠিতে পার্নেল লেখেন, ‘আমি মনে করি আপনার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ধরে রাখা মানেই বিরোধী দলকে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের সুযোগ করে দেয়া। ........ আমি আপনাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করুন এই যেমন আমি সরকার থেকে পদত্যাগ করছি।’ প্রধানমন্ত্রী এসব কথাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাইতো দিবেন, শাসনে থাকলে সবাই এমন পরিচিত প্রতিক্রিয়াই প্রথমে দেখান।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;যাহোক, সাধারন মানুষদের মত মন্ত্রীরাও বিপদে পড়ে গেলে মিথ্যা কথা বলেন। শুধু তাই নয়, পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার সময়ও শেষবারের মত ‘ব্যক্তিগত’, ‘পারিবারিক’, ‘স্ত্রী-সন্তানকে সময়দান’, ‘সর্দিজ্বর’ ইত্যাদি জাতীয় কথাবার্তা বলে নিশ্চিত প্রস্থান চান। কৌশলজনক কথা বলে এড়িয়ে যাওয়া আর ডাহা বোকা মার্কা মিথ্যা কথা বলা এক নয়। ‘রাষ্ট্রের প্রয়োজনে’ এসব মিথ্যা ও বাড়তি কথা বলার পরিণতি অনেক সময়ই যে মারাত্মক তা এক-এগারো বাংলাদেশে খানিকটা হলেও বুঝিয়ে দিয়েছে। ভেবেছিলাম, ‘লুকিং ফর শত্রুজ’ মার্কা মন্ত্রীদের কবল থেকে দিন বদলের মন্ত্রীসভা রক্ষা পাবে। কিন্তু এ দেখছি বাঘের আক্রমন থেকে বাঁচতে গিয়ে সিংহের থাবায় পড়ে জাতি এখন ‘শকিং ফর দিন বদলের মন্ত্রীজ’! &lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;‘মন্ত্রী’ শব্দটির সাথে পূত-পবিত্রের অমীয় ধর্মীয় গন্ধযুক্ত থাকলেও এখন তাতে মারাত্মক পচন ধরেছে। মিডিয়াতে এমনভাবে ইনারা মিথ্যা কথা বলেন যেন জনগন কিচ্ছু বোঝেনা! কিন্তু জনগন যে শুধু বোঝেন তাই ই নয়, মন্ত্রীরা মগজে কি চিন্তা লালন করেন সেটিও যে বলে দিতে পারেন, তা উনারা ঠাহর করতে পারেন না। সকল সরকারের দুই একজন ছাড়া সব মন্ত্রীই উচ্চশিক্ষিত হন। বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত হন, আবার লেখাপড়া শেষ করে বিদেশীনিকে নিয়ে ঘর করছেন  এমনজনকেও ধরে এনে মন্ত্রী বানানোর রেকর্ড আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভাইরাস এতই শক্তিশালী, বাইরের কোন ভাল অভ্যাসই এখানে কাজ করেনা। জিয়াতে নামলেই পূর্বের বদ অভ্যাসসমূহ মূহুর্তেই শরীরে এসে ভর করে। শুরু হয়ে যায় ঠিক পূর্বের স্থানে রেখে যাওয়া নোংরা বক্ররেখা থেকেই নতুন যাত্রা!  &lt;br /&gt;    &lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;পাঠক, এবার আসুন আমাদের ‘চমক মন্ত্রীসভার’ চমকানো কথাসমুদ্র থেকে প্রতিদিনকার খন্ডিত কিছু কথা তুলে আনি।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;গুরু মন্ত্রী সংসদে বললেন, ‘আগের আমলে অত হাজার কোটি টাকা শুধু বিদ্যুতের খাম্বা বাবদই লাপাত্তা হয়ে গেছে।’ পূর্ব্বতন মন্ত্রী বলেন, ‘তত কোটি টাকা তো পুরো বিদ্যুত মন্ত্রণালয়ের বাজেটেই ছিল না।’ আরেকজন মন্ত্রী সবদিক থেকেই এগিয়ে আছেন। ব্যবসায়ীদের বার্ষিক মিটিং-এ গিয়ে দেশে ব্যবসা-বানিজ্য ও কর্মবৃদ্ধির কথা বললেই ভাল শোনায়। তা না বলে বলেন, ‘জঙ্গি ও স্বাধীনতাবিরোধীরাই সেনা অফিসারদের মেরেছে (ইত্তেফাক, মার্চ ৭)। তাদের ইন্টারন্যাশনাল কানেকশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সরকারী তদন্ত কমিটি বল্ল, ‘না ওরা তো মারেনি (মার্চ২১, আমাদের সময়)।’ সাংবাদিকরা মন্ত্রীকে ধরে জিজ্ঞেস করল, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়ে আপনি এ কথা বললেন কেন? মন্ত্রী বললেন, ‘আমার মনে হয়েছে তাই বলেছি (প্রথম আলো, আমারদেশ ২৪ মার্চ)।’তদন্ত কমিটির পুরো প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বললেন, ‘প্রতিটি দেশেই তদন্ত প্রতিবেদনে তিনটি বিষয় থাকে। এগুলো হচ্ছে ‘সিক্রেট (গোপনীয়), টপ সিক্রেট (অতি গোপনীয়) এবং ওপেন (প্রকাশযোগ্য)। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গোপন জিনিস প্রকাশ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। আগামীতে পুরো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার সম্ভাবনা নেই (নয়াদিগন্ত, মে২৯)।’ আরেক বড় মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘যা প্রকাশ হয়েছে তাই ই পূর্নাঙ্গ। পূর্নাংগ প্রতিবেদনই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে (নয়াদিগন্ত, মে ২৯)।’&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;কুয়ালামপুর ৫৫ হাজার বাংলাদেশী ভিসা বাতিলের ঘটনায় মন্ত্রী বললেন, ‘এতে বংগবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের হাত থাকতে পারে (আমারদেশ, মার্চ১৮)।’ ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মহসিন শেখ ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর সব পত্রিকা প্রকাশ করে স্বজনদের বরাত দিয়ে লিখল, ‘তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোনো অভিযোগ নেই। কোনো থানায় একটি মামলা বা ডিও নেই। কেউ কখনো তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের কাছেও অভিযোগ করেননি।সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবদের কাছেও তারা ছিল খুবই প্রিয়। (আমারদেশ, মে৩০)।’ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বললেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। জনগণের সেবা করার জন্য ক্ষমতা নিয়েছি। প্রতিটি বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। আমরা সব সময় বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে। এ সরকারের আমলে বিচারবহির্ভুত হত্যার কোন ঘটনা ঘটেনি (যুগান্তর, আমারদেশ, মে৩১)।’ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেড় হাজারের বেশি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর প্রতিটি পেপার ও চ্যানেলের মাধ্যমে সারা দেশে খবর ছড়িয়ে গেল (যুগান্তর, জুন ৮; মানবজমিন, জুন ৯)। মন্ত্রী মহোদয় বিশ্বস্বাস্থ্যের দেয়া ঔষধগুলো রি-চেক, সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা জানার প্রয়োজন বোধ না করে বললেন,  ‘এসবই অপপ্রচার, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ২১ আগস্ট বোমা হামলা চালিয়েছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই এ কাজ করছে (আমারদেশ, নয়াদিগন্ত, জুন৯)।’  সৌদী সফর থেকে ফিরে এসে আগের রেকর্ড না চেক করেই মন্ত্রী উক্তি, ‘বিগত সাত বছরে সৌদির বাদশাহ্‌র সাথে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম বৈঠক (জুন ৮, নয়াদিগন্ত)।’ মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মণিপুরের পানি বিশেজ্ঞদের অবাক করে দিয়ে পিনাকীয় সুরে বললেন, ‘টিপাইমুখে বাধ দিয়ে ভারত পানি বিদ্যুত তৈরী করলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না (আমাদের সময়, ২০ মে),’ এবং ‘খুশী হয়ে ভারত যতটুকু পানি তাই ই আমাদের লাভ  (নয়াদিগন্ত ৮ জুন)।’&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;এসব আমাদের মন্ত্রীদের কথা, এরকম হাজারো উদ্ধৃতি দেয়া যায়। পাঠকদের ধৈর্য্যচুতি ঘটবে। আর হ্যাঁ, এসব উক্তির জন্য তো বিরোধীদলকেও দায়ী করা যাবেনা।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;এমন মন্ত্রীদের দিয়েই আমরা ডিজিটাল বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখব, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাব, মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে শিখব। আশা করতে পারিনা?&lt;br /&gt;    &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;সুন্দর করে কথা বলা একটা আর্ট। ‘সত্য কথা বলা’ কিংবা ‘কথা-বার্তার চেয়ে কাজ বেশী করা’ মন্ত্রীদের শিখতে হবে। সাংবাদিকদের মাইক দেখলেই দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হওয়া যাবে না। উন্নতদেশে মন্ত্রীরা মিডিয়া থেকে পালিয়ে বেড়ান, আর আমাদের দেশে মন্ত্রীরা অফিস থেকে বেড়িয়েই আট-দশটি মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যান।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;পাচঁ মাস খুব বেশীদিন নয়, এতে দিন বদল হয় না। তাই বলছিলাম, বাকী সাড়ে চার বছরে আমাদের মন্ত্রী-মহোদয়বর্গ ‘সত্য ও কঠিন কথা’ সোজা করে বলা শিখে যাবেন। আগের মন্ত্রীরা দেশটাকে বাজে অবস্থায় নিয়ে গেলেও আশা করবো দিন বদলের ‘ফ্রেশ’ মন্ত্রীরা এবার তা আর করবেন না। আরেকটা কথা না বললেই নয়, ইন্দিরা গান্ধীকে ভারতীয় সৈন্য ফেরত নেবার ‘কঠিন সত্য কথাটি’ কিন্তু সহজভাবে বলার রেকর্ড বাংলাদেশের রয়েছে। বাংলাদেশ কোন হেলাফেলাদের দেশ নয়। গর্ব করার মত অনেক কিছুই আমাদের রয়েছে। নোংরা ও অদূরদর্শী রাজনীতিবিদরা দেশটাকে এগিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি করলেও এদেশের মেধাবীরা বিশ্বে সৃজনশীল ইতিহাস সৃষ্টি করতে সাহায্য করছে। গ্লোবাল ভিলেজের যুগে মহারথীদের ভয়ে ভীত হবার কিছু নেই, মানে ইন্ডিয়ার নামটা আসলেই জিহবাটা যেন আড়ষ্ট না হয়ে যায়। জর্জিয়াতে রাশিয়া পারেনি, একক পরাশক্তি আমেরিকার প্রতিবেশী হয়ে ছোট্ট রাষ্ট্র কিউবা বুক ফুলিয়ে টিকে আছে, মহাশক্তিধর বুশ হা হয়ে ছিলেন যখন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মুখের উপর তাকে ‘শয়তান’ বলছিলেন। এসবের জন্য ছোট রাষ্ট্রদের যুদ্ধে যেতে হয়নি। আমরা অতি বিপ্লবী হতে চাইনা,  দরকারও নেই। শুধু চাই আমাদের সোজা-সাপটা সত্য কথাটা মন্ত্রীরা জোরের সাথে বলুক, বিশ্ববাসী জানুক। মনে রাখতে হবে, ‘শয়তান’ যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন তার ষড়যন্ত্র বড়ই দূর্বল (আল-কোরআনঃ ৪:৭৬)। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীও কিন্তু বারে বারে এর প্রমাণ দেখিয়েছে।&lt;br /&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;অস্টম শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক কান্ট বলেছিলেন, ‘ফিয়াত জাস্টিফিয়া, পেরিট মুন্ডুস (ইনসাফ নিশ্চিত কর, যদিও পৃথিবী একদিন ধবংস হয়ে যাবে)।’ কথাটাকে ঘুরিয়ে তিনি অন্যভাবে এরকমও বলেছেন, ‘ন্যায়-বিচারকে সমুন্নত রাখো এমনকি পৃথিবীর সব ‘বান্দর’দেরকে এর মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে হলেও।’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-2263275428939944469?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/2263275428939944469/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=2263275428939944469' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/2263275428939944469'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/2263275428939944469'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2009/06/blog-post_21.html' title='মন্ত্রীদের সত্য কথা বলতেই হবে'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/Sj5EOIpD5nI/AAAAAAAAADk/i9Y_FGrjrLc/s72-c/006948_38.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-1593360659014102191</id><published>2009-06-04T19:46:00.000-07:00</published><updated>2009-06-04T19:52:49.732-07:00</updated><title type='text'>তামিল রাষ্ট্র গঠন স্বপ্নই থেকে গেল</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SiiIRAyYRWI/AAAAAAAAADc/L7j6A4uhFNs/s1600-h/ltte_activits.jpg"&gt;&lt;img style="MARGIN: 0px 0px 10px 10px; WIDTH: 320px; FLOAT: right; HEIGHT: 213px; CURSOR: hand" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5343670783725552994" border="0" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SiiIRAyYRWI/AAAAAAAAADc/L7j6A4uhFNs/s320/ltte_activits.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাক্সে খুশীতে গোটা শ্রীলংকা একদিন বন্ধ ঘোষণা করে আতশবাজি ফুটিয়ে বিজয় দিবস পালন করলেন। তামিল বাদে সিংহলীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে একাকার উৎসবে মেতে উঠেছে। কি রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাপ্রধান সবাই জনতার সাথে মিশে ডেকচি ভর্তি খাবার থেকে একে অপরের গালে তুলে দিয়ে জয় প্রকাশ করে খাচ্ছে। মাত্র দু’মাস আগেও এরকম দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়। আর অন্যদিকে সারা বিশ্বের তামিলরা কাঁদছে। আইরিশরা এমনটি কেঁদেছিল আইরিশ গেরিলাদের পরাজয়ের পর। ১৭ মে ২০০৯ তারিখে স্বাধীন ভূমি প্রতিষ্ঠার আরো একটি স্বপ্নের করুণ মৃত্যু হয়ে গেল। সাথে থেকে গেল লক্ষ লক্ষ স্বজন হারানোর কত দূঃসহ স্মৃতি! রয়ে গেল বাস্তচ্যুত প্রায় তিন লাখ মানুষের পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু শিবির। টাইগারদের বিদেশ শাখা প্রধান সেলভরসা পরাজয় মেনে নিয়ে বিবৃতি দিলেন, ‘আমরা গোলাগুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের কেবল দূঃখ যে, এতগুলো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা আর বইতে পারছিনা!‘ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;চুড়ান্ত সেনা অভিযানের বেশ আগেই এলটিটিইরা ধরে নিয়েছিল এ যাত্রায় তারা আর বাঁচবেনা। সারা বিশ্বের লাখ লাখ তামিল ডায়াসপোড়াদের মধ্যে মূহুর্তেই এর পূর্বাভাস ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনায় ফেটে পড়েন তারা। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বোধ করি হয় কানাডার টরোন্টো ও অটোয়ায়। ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে তামিল ছাত্ররা তাদের মানবাধিকার লংঘনের আবেদনে সাধারণ ছাত্রদের সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়। ‘নো মোর জেনোসাইড ইন দ্যা শ্রীলংকা’, ‘স্টপ দ্যা ওয়্যার ইন শ্রীলংকা’, ‘উই ওয়ান্ট সিজফায়্যার’, ইত্যাদি ব্যানারে হাজার হাজার তামিলদের আন্দোলন কানাডা মিডিয়াতে বেশ কভারেজ পায়। একটানা সপ্তাহব্যাপী রাস্তা অবরোধ করে তারা টরন্টো শহরতলী অচল করে দেয়। এতেও এলটিটিইকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণাকারী কানাডিয়ান রক্ষণশীল সরকারের সহানুভূতি লাভে ব্যর্থ হয়ে গভীর রাতে তামিলরা নেমে আসে অন্টারিও’র সবচেয়ে ব্যস্ততম রাস্তা গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের টরোন্টো উপকন্ঠে। দূর্ধর্ষভাবে রাস্তা ব্লক করে, শিশু-কিশোর-যুবকদেরকে রাস্তার সামনে বসিয়ে হারিকেন, মোমবাতি জ্বেলে তারা অভূতপূর্বভাবে বিক্ষোভ করে। রয়্যাল কানাডিয়ান মেট্রো পুলিশ এধরণের ‘অনিরাপদ, ঝুঁকিপূর্ণ’ ও আইন অমান্য’ কর্মসূচী প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। শেষমেষ বিরোধী দলীয় নেতা মাইকেল ইগনাটিফ ও জ্যাক লেইটন শ্রীলংকার মানবাধিকার লংঘণের বিষয়টি পার্লামেন্টে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলনকে কোনমতে প্রশমিত করতে সফল হন। টরোন্টোতে আনুমানিক চল্লিশ হাজার, অটোয়াতে ষাট হাজার মানুষ নিয়ে তারা বিক্ষোভ করে যার সাথে শুধুমাত্র সাম্প্রতিককালে বুশবিরোধী আন্দোলনেরই তুলনা করা যায়। লন্ডনসহ বিশ্বের অনেক বড় বড় সিটিতেই ভারতীয় ও শ্রীলংকান তামিলরা মিলে এরকম বিক্ষোভ করেছেন। উল্লেখ্য, তামিল বসবাসরত প্রত্যেক দেশেই গেরিলাদের প্রতি সহানুভূতিশীল তামিলভাষীদের বিভিন্ন নামে সংগঠন রয়েছে। তাদের উপার্জিত আয়ের একাংশ তারা স্বাধীন তামিল প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলনরত প্রিয় যোদ্ধাদের তহবিলে জমা দিয়ে এতদিন একাত্মতা ঘোষণা করে আসছিল। &lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;১৯৭৬ সালের ৫ মে ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ তামিলদেরকে আজন্মশত্রু সিংহলীদের থেকে মুক্ত করতে টিএনটি (তামিল নিউ টাইগার) গোষ্ঠীকে দক্ষতার সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং দূর্ধর্ষ কর্ম সম্পন্নকারী শক্তিশালী একটি এলিট ফোর্স গঠণ করেন। নতুন নামকরণ করেন ‘এলটিটিই (লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম)’। ২৩ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে উত্তর ও পূর্ব শ্রীলংকার তামিলাঞ্চল জাফনার বাইরে লংকান সেনাদের উপর প্রথম হামলা চালিয়ে ১৩ জন সেনা খতম করে এলটিটিই তাদের শক্তিমত্তা বহির্বেশ্বে প্রথমবারের মত জানান দিয়ে যায়। অন্যদিকে গোটা তামিল সম্প্রদায়ের ভেতর স্বাধীনতার স্বপ্ন নতুন করে বাসা বাঁধে। দলে দলে তরুনরা টাইগারদের সাথে যোগ দেয়। মুক্ত দেশ পাওয়ার নেশায় উন্মাদ হয়ে এক একজন ভয়ংকর ও দূর্ধর্ষ গেরিলা হয়ে উঠে। এমনকি জীবন বিনাশী ‘সায়ানাইড ক্যাপসুল’ সবসময় তাদের গলায় শোভা পেত। আক্রান্ত হলেই তারা বিষের এই ট্যাবলেট গিলে মুক্ত দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করত। যদিও নির্মম বাস্তবতা হল, এর প্রবক্তা প্রভাকরণ জীবনের কঠিন সায়াহ্নে ‘সিংহলী’ সেনাদের থেকে বিষ খাওয়ার সেই সময়টুকু পাননি। আরো একটি প্র্যাকটিস তাদের মধ্যে ছিলো তা হল ‘Oath of loyalty’; তামিলরাষ্ট্র গড়ার আনুগত্যের কঠিন শপথ। &lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটিসমূহে আত্মঘাতী আক্রমণ চালানোর ব্রত নিয়ে ১৯৮৭ সালে এলটিটিই সুইসাইড স্কোয়াড ‘ব্ল্যাক টাইগার’ গঠণ করে। এবছরই তারা একটি আর্মি ক্যাম্পে প্রথম হামলা চালিয়ে চল্লিশজন সেনা বধ করতে সক্ষম হয়। ব্ল্যাক টাইগারদের মনোবল বহুগুণে চাংগা হয়ে উঠে। ‘নিরাপদ-যোদ্ধা’ হিসেবে শত শত কিশোর ও মহিলাদেরকে তারা প্রশিক্ষিত করে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে ছেড়ে দিয়ে ‘সফল’ আক্রমণের পারদর্শীতা দেখাত।&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;এই যুদ্ধে ভারতও একসময় প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৭ সালে অগনতি হতাশ ও উদবাস্তু তামিলদের ভেতর আভ্যন্তরীন অসন্তোষ তীব্রভাবে দেখা দেয়। সুযোগটি ইন্ডিয়া ভালভাবে কাজে লাগায়। একসময় ইন্দো-শ্রীলংকা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যদিও দ্বন্দ্বটি ছিল মূলতঃ সিংহলী ও তামিলদের মধ্যে। পঞ্চাশ হাজার ‘ইন্ডিয়ান পিস কিপিং ফোর্স (আইপিকেএফ)’ শ্রীলংকায় চলে আসে। তামিলদের ক্ষুদ্র কয়েকটি গ্রুপ এ চুক্তি মেনে নিলেও টাইগাররা মানতে পারেনি। তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকেও অন্তর্ভূক্ত করতে রাজী হয়নি ভারত। এলটিটিই’র অস্ত্র এবার ঘুরে যায় ইন্ডিয়ান আর্মির দিকে। এবছরই ৮ অক্টোবর রেশন ট্রাকের উপর হামলা চালিয়ে পাঁচজন ভারতীয় প্যারা-কমান্ডোকে মেরে গলায় জ্বলন্ত টায়ার পেঁচিয়ে রাখে যোদ্ধারা। আত্মসম্মান বাঁচাতে বেপরোয়া হয়ে উঠে অজনোপ্রিয় আইপিকেএফ। ‘অপারেশন পবন’ নামে তামিল নিধনে নির্মম অভিযান শুরু করে। টাইগাররাও হিংস্র ও প্রতিশোধপরায়ন হয়ে ওঠে। আগে থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলীরা ভারতীয়দের হস্তক্ষেপ কোনমতেই মেনে নিতে পারেনি। ফলতঃ দুই বছরের বেশী সময় ধরে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি গুণে নাস্তানাবুদ হয়ে শ্রীলংকা সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সর্বশেষ সৈন্যটি ফিরে যায় ১৯৯০ সালে। এইখানে পাঠকদেরকে যে বিষয়টি না জানালেই নয়, তাহলো প্রারম্ভে এলটিটিই গঠনে তরুন প্রভাকরনকে ভারত কর্তৃক সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সবধরনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি। ৭০’র দশকে ইন্দিরা সরকার ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’কেও এর সাথে সম্পৃক্ত করে। এমনকি প্রভাকরনের একসময় অফিসও ছিল তামিলনাড়ুতে। ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেসের থলেতে ভারতীয় তামিলদের ভোট পাকাপোক্ত করতেই শ্রীলংকাবিরোধী আন্দোলনকে উৎসাহিত করেছেন যার শেষ হলো বহু বন্ধুর ও রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে। &lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;ভারতীয় শান্তি রক্ষী বাহিনী স্বদেশে ফিরে গেলেও প্রতিহিংসাপরায়ন টাইগারদের রাগ এতটুকুও কমেনি। সুযোগ খুঁজতে থাকে বদলা নেয়ার। সুইসাইড স্কোয়াড দলের ব্ল্যাক টাইগাররা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শান্তি চুক্তি সম্পাদনকারী দুই দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধানকেই নির্মমভাবে শেষ করে দেয়। রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে ১৯৯১ সালে আর শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রানাসিংহ প্রেমাদাসাকে ১৯৯৩ সালে।&lt;br /&gt;তিন দশকের এই লড়াইয়ে যুদ্ধ-বিরতির হরেক রকমের প্রস্তাবনা এসেছে। স্বাধীন রাষ্ট্র থেকে সরে এসে স্বায়ত্বশাসন, স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস কত কিছু! অন্ততঃ চারবার শান্তিচুক্তি ভেঙ্গে যায়। সর্বশেষটি ভন্ডুল হয় ২০০৬ সালে। তখন থেকেই শ্রীলংকান সেনাবাহিনী সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে এলটিটিইকে কোনঠাসা করে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় এক সময় যারা দেশের এক তৃতীয়াংশ বা কমপক্ষে ১৫ হাজার বর্গকি.মি. এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত সেই দুর্ধর্ষ ও অজেয় টাইগারদের তাড়িয়ে সেনারা মোল্লাইথিভু জেলার মাত্র ১.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জংগলের মধ্যে আটকিয়ে ফেলে করে। কট্টর তামিলবিরোধী প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাক্স তখন থেকেই বিজয়ের বার্তা গুণতে থাকেন। যাহোক, নৃশংস এই যুদ্ধে দুই পক্ষের প্রাণহানী হয়েছে প্রায় পৌণে এক লাখ বনি আদমের, বাস্তুচ্যুত ও ডায়াসপোড়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ তামিল। উল্লেখ্য, শ্রীলংকার মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি। এর মধ্যে ৭৪% বৌদ্ধ ধর্মানুসারী সিংহলী, মাত্র ১৮% তামিল হিন্দু, বাকী ৮% মুসলিম ও অন্যান্য। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;শুরু থেকেই তামিল মুসলিম সম্প্রদায় প্রভাকরণের সাথে থাকলেও ক্রমান্বয়ে তিনি এলটিটিকে শুধুমাত্র হিন্দুদের বাহিনীতে পরিণত করেন। আশির দশক থেকে তিনি এলটিটিই নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চল থেকে মুসলমানদেরকে সম্পূর্ণরুপে বিতাড়িত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। সবচেয়ে বড় মুসলিমবিরোধী ক্যাম্পেইনটি শুরু হয় ১৯৯০ সালে। এ বছরে এক গ্রীষ্মেই উত্তরাঞ্চল থেকে ৩৭০ জন এবং পূর্বাঞ্চল থেকে ১১ জন মুসলিমকে হত্যা করে টাইগাররা। প্রচুর মাদ্রাসা-মসজিদ তছনছ করা হয়। কয়েক ডজন হাজীকে সৌদী থেকে ফেরৎকালে হত্যা করা হয়। গণহত্যার বাইরেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক নামকরা ও নামহীন মুসলমানদের অকাল সমাধি হয়। ১৯৮৯ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখের মধ্যে ম্যানার অঞ্চলের মুসলমানদেরকে ভিটে-মাটি চিরতরে ছাড়ার নোটিশটি এভাবে দেয়া হয়, ‘ All Muslims living in Manner island should leave by 28 October. Before leaving, they must seek permission and clearance at the LTTE Office. The LTTE will decide their exit route’ (অর্থাৎ ম্যানার আইল্যান্ডের সব মুসলমানদেরকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আইল্যান্ড ছাড়তে হবে এবং ছাড়ার পূর্বে অবশ্যই এলটিটিই অফিস থেকে অনুমতি ও ছাড়পত্র সাথে নিতে হবে। আর টাইগাররাই সিদ্ধান্ত নিবে কোন পথ দিয়ে তারা বের হয়ে যাবে।) &lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;এলটিটিই’র শক্ত ও সুসংগঠিত মিলিটারী কাঠামো ছিল। আত্মঘাতী স্কোয়াড ‘ব্ল্যাক টাইগার’, সুসজ্জিত মেরিন বাহিনী ‘সি টাইগার’, এমন কি মডার্ণ একটি এয়ার ফোর্স ‘এয়ার টাইগার’ও ছিল (যা কিনা পৃথিবীর ইতিহাসে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত কোন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে প্রথম বিমানবাহিনী), ইন্টেলিজেন্ট উইং, পলিটিক্যাল উইং সবই তাদের ছিল। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটিকে আমেরিকা, কানাডা, বৃটেনসহ ৩২টি দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;মিলিটারী শক্তি হিসেবে প্রধাণত এলটিটিইর ব্যাপক পরিচিতি থাকলেও পর্যায়ক্রমে এরা নর্থ আইল্যান্ডের গোটা এলাকায় একটি ক্রিয়াশীল স্বঘোষিত বেসামরিক ‘গভর্ণমেন্ট’ সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতেও সক্ষম হয়। এই মিনি সরকারের অধীনে বিচারবিভাগ (ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট, এমনকি আপিল কোর্ট) ছিল। ধর্ষণ, খুন-খারাবি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধসমূহ বিচারের জন্য দুটো হাইকোর্ট আর তামিল ইলমদের বিচারের দায়িত্বে ছিল সুপ্রীম কোর্ট। বিচার বিভাগ ল’বুকের আপডেট ভার্সনও বের করত। টাইগাররা দাবী করত তাদের বিচারালয় ও নিজস্ব পুলিশবাহিনী সক্রিয় থাকায় জাফনাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কম ছিল। যদিও সমালোচকরা বলে থাকেন, এই পুলিশবাহিনী স্বেচ্ছাচারী এলটিটিই’র আজ্ঞাবহ থাকায় জনসাধারণ সারাক্ষণ ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকত। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক দিকসমূহ দেখভালের জন্য টাইগাররা সোশ্যাল ওয়েলফার চালু করেছিল। ফান্ডে টাকা আসত জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স ও বিদেশ থেকে সহানুভূতিশীল সংগঠনসমূহ থেকে। এই অর্থ তামিলদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করত। অভিন্ন শিক্ষা পদ্ধতির জন্য সুন্দর একটা স্কুলিং সিস্টেমও তারা প্রণয়ন করেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি না দিলেও এলটিটিই নিজেদের জন্য বানিয়েছিল একটা হিউম্যান রাইট্‌স কমিশন।&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;‘ভয়েস অব টাইগারস্‌’ নামে একটি রেডিও স্টেশন এবং ‘ন্যাশনাল তামিল ইলম টেলিভিশন’ নামে একটী টিভি স্টেশন টাইগার নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সম্প্রচারিত হত। ‘ব্যাংক অব তামিল ইলম’ নামে উচ্চসূদের একটি ব্যাংক তাদের ছিল। প্রশাসনিক রাজধানীর নাম ছিল কিলিনোচছি। ২০০৪ সালের প্রলয়ংকরী সুনামীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য এলটিটিই ‘সুনামি টাস্ক ফোর্স’ গঠণ করে সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;তাদের মহিলা শাখাটিও ছিল খুব শক্তিশালী। চরম পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিগৃহীত, নির্যাতিত ও অবহেলিত মহিলাদেরকে টাইগারদের ‘নারী-স্বাধিকার’ অবস্থান বেশ আকর্ষণ করেছিল। জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নিম্নবর্ণ ছাড়াও অপ্রত্যাশিতভাবে অগণতি শিক্ষিত ও উচ্চ শ্রেণীর মেয়েরাও এতে যোগ দেয়। আনুমানিক চার হাজার মহিলা ক্যাডার ছিল। এদের মধ্যে একশোজন আত্মঘাতী ‘ব্ল্যাক মহিলা টাইগার’ সদস্য প্রাণ হারায়। ‘ফ্রিডম বার্ড’ নামে তাদের প্রথম অপারেশনটি হয় ১৯৮৭ সালে এবং প্রথম আত্মঘাতী মহিলা যোদ্ধার নাম ‘মালতি’। যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়া সাংস্কৃতিক ও প্রকাশনা অংগনেও মহিলা টাইগারদের প্রবল পদচারণা ছিল। মোদ্দাকথা, তারা তাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে চমকপ্রদ ও সৃষ্টিশীল নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে শ্রীলংকান তামিল ছাড়াও সারা বিশ্বের তামিলদের একচ্ছত্র সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। এমন একটি সুসংগঠিত ও সুসজ্জিত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী গেরিলা গোষ্ঠীর সর্বশেষ পরিণতি অনেককেই হতভাগ করেছে। ধরাছোঁয়ার বাইরে ত্রাস সৃষ্টিকারী,তামিল কমিউনিটির অবিসংবাদিত ও অপ্রতিরোধ্য প্রবাদপুরুষ ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের ক্ষুদ্র একটি প্রাইভেট কার যোগে জংগল থেকে পলায়নরত অবস্থায় সিংহলী সেনাদের হাতে রুগ্ন মেষশাবকের ন্যায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করতে মৃত্যুর পরে টাইগার প্রধাণের মরা-মুখ এদিক ওদিক ঘুরিয়ে তামিলভূমি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন-সাধ চিরতরে মিটানোর দৃশ্য সরকারী টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিতও হয়েছে যা কেউ আগে ভাবতেই পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যাগুরু সিংহলীরাই দেশ চালাচ্ছে যাদের পূর্ব-ইতিহাসে অন্যান্য গোষ্ঠীর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির রেকর্ড খুব বেশী নাই। যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে পরাজিত ও বিধ্বস্ত তামিল জাতির সাথে তারা কেমন আচরণ করবে তাই-ই এখন দেখার বিষয়। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-1593360659014102191?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/1593360659014102191/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=1593360659014102191' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1593360659014102191'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1593360659014102191'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2009/06/blog-post.html' title='তামিল রাষ্ট্র গঠন স্বপ্নই থেকে গেল'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SiiIRAyYRWI/AAAAAAAAADc/L7j6A4uhFNs/s72-c/ltte_activits.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-3434189923065741949</id><published>2009-03-27T06:55:00.000-07:00</published><updated>2009-03-27T07:16:24.319-07:00</updated><title type='text'>দূঃসময়ের সাক্ষী</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SczczqMKG-I/AAAAAAAAADE/UK3qPOdc7Nc/s1600-h/1005MA1.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5317868040074435554" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand; HEIGHT: 232px" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SczczqMKG-I/AAAAAAAAADE/UK3qPOdc7Nc/s320/1005MA1.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-family:verdana;font-size:130%;"&gt;‘ফরেন পলিসি’ নামে একটি আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কোনো দেশের বিদ্যমান রাজনীতি, মিলিটারি, অর্থনীতি ও সামাজিক উপাদানগুলোর প্রধানত ১২টি সূচক নিরীক্ষা করে ‘ব্যর্থ বা অকার্যকর রাষ্ট্র’-এর সার্টিফিকেট ইস্যু করে থাকে। এগুলোর মধ্যে সংবিধান অবজ্ঞা, নিরাপত্তাহীনতা, প্রতিরাহীনতা, বাজে অর্থনীতি এবং অসম উন্নয়নের পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস, মানবাধিকার, মানবপাচার, ভূরাজনৈতিক চাপ এবং বহির্দেশীয় হস্তক্ষেপ প্রভৃতি উলেখযোগ্য। প্রতিটি পয়েন্টে দেশের মধ্যে গড়ে সাড়ে ৯ এবং সর্বমোট ১১৪ দশমিক ২ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করায় ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’র খেতাবটি সোমালিয়ার কপালে জুটেছে। সুদানের ঝুলিতে ১১৩, জিম্বাবুয়ের ১১২ দশমিক ৫, শাদের ১১০ দশমিক ৯ এবং ইরাকের ভাগে পড়েছে ১১০ দশমিক ৬ পয়েন্ট করে। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-family:verdana;font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;এ ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই যে, সোমালিয়া বর্তমানে এমনই এক দেশ যেখানে শান্তি নেই, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তো দূরের কথা দুই দশক ধরে কার্যকর কোনো সরকারও নেই সেখানে। সব জাতীয় প্রতিষ্ঠান অকার্যকর থাকায় দেশটির নেগেটিভ ইমেজ বিশ্বে বহুল পরিচিত। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-family:verdana;font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;কী কারণে সোমালিয়া এ পর্যায়ে এসে পৌঁছল? কারাই বা এর জন্য দায়ী? এ থেকে বাংলাদেশের এ মুহূর্তে কি কিছু শেখার রয়েছে? সোমালিয়ানরাও তো আমাদের মতো হোমোজিনিয়াস বা সমসত্ত্ব জাতি! তারা সবাই দেখতে মোটামুটি একই রকম। একই ভাষা, বর্ণ এবং শতকরা ১০০ ভাগ অভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে কোন বিরোধের ফলে বর্তমানে তাদের এই লজ্জাকর পরিণতি? আমাদের মতো সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমিক এবং বিজয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এককালের গর্বিত দেশ সোমালিয়া কেনইবা গৃহযুদ্ধ, অরাজকতা ও লুটপাটের রাজত্বে পরিণত হয়ে গেল? &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সোনালি অধ্যায় ছিল সোমালিয়ার। তাদের নতুন নতুন অনেক শহর তৈরি আর অবিশ্বাস্য রকমের উন্নয়নের স্মৃতি পুরনো দিনের ঢাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নবম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউরোপের বড় বড় শহরের একই আদলে মোগাদিসু শহর। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলে পনেরো শতক পর্যন্ত। সুলতান আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল গাজীর নেতৃত্বে ১৫৪৩ সালে সোমালিয়ানরা ‘ওইনা দাগা’র যুদ্ধে ইথিওপিয়ান-পর্তুগিজ যৌথ বাহিনীকে পর্যদুস্ত করে ইথিওপিয়ার তিন-চতুর্থাংশ দখল করে নেয়। এরপর ফ্রেঞ্চ, ব্রিটিশ, ইতালী অনেকেই এলো। সোমালিয়ান বীর, প্রবাদপুরুষ মুহাম্মদ আবদুলাহ হাসান হজ্জ্ব থেকে ফিরে এসে দেখেন, তার দেশ ব্রিটিশ কলোনির অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এমনকি, ব্রিটিশ সৈনিকরা আবদুলাহকে নিজ দেশে ঢুকতে পর্যন্ত বাধা দিয়ে বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছিল। অগ্নিমূর্তি ধারণ করে হাজী আবদুলাহ হাসান চড় মেরে বসেন দখলকারী এক ব্রিটিশ সেনাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই অজেয় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্রিটিশরা তাই তার নাম দেন ‘ম্যাড মোলা’। ১৯৩৬ সালের মোগাদিসু টাউনের ছবি দেখলে সহজেই লালবাগের কেলা বা সোনারগাঁওয়ের পুরান চেহারা যে কারো চোখের সামনে জ্বলজ্বল করবে।&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;‘আফ্রিকার শিং’ বা ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলা হয় সোমালিয়াকে। আরব সাগর ও লোহিত সাগরের কোল ঘেঁষে ইরিত্রিয়া, জিবুতি, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া মিলে মানচিত্রে গণ্ডারের শিঙের আকৃতির মতো দেখায় বলেই জায়গাটির এ নামকরণ। লোহিত সাগরের মুখে অবস্থান বলে সোমালিয়া মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভারত সাগরও এখানে এসে মিলেছে। অন্যভাবে বলা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানই সোমালিয়ার ওপর সাম্রাজ্যবাদীদের লোলুপদৃষ্টির মূল কারণ। বর্তমানে ঠিক বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে এমন চক্রান্তই চলছে। প্রায় ৬ লাখ ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সোমালিয়ায় আনুমানিক ১৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার বেশির ভাগ বাস করেন উর্বর ভূমি, বিশেষত জুবা ও শেবেল নদীর উপকূলবর্তী অঞ্চলে। মাত্র ১৫-২০ ভাগ মানুষের বাস শহরাঞ্চলে। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় (১৯৬০) সোমালিয়া আফ্রিকার গ্রামীণ গণতন্ত্রের মডেল বলে পাশ্চাত্যে খ্যাতি লাভ করেছিল। ১৯৬৯ সালে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে আর্মি কমান্ডার সাঈদ বারী (সোমালিয়ানরা তাকে সিয়াদ বারী বলে ডাকেন) ততকালীন প্রেসিডেন্ট আবদুর রশিদ আলী শেরমার্ককে হত্যা করে মতা দখল করেন। তিনি সোমালিয়ার ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে গড়ে তোলেন চীনের আদলে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’। নিজেকে ঘোষণা করেন জ্যালে সাঈদ বা কমরেড সাঈদ হিসেবে। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সোমালিয়ানদের জন্য অনেক ভালো কাজও তিনি করেছেন। নিচু থেকে উচ্চ সব পর্যায়ের শিক্ষাই সবার জন্য বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেছিলেন। শিক্ষালয়ে প্রত্যেকের জন্য কুরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন, যার কারণে এখনো সব সোমালিয়ানই সুন্দর করে কুরআন তিলাওয়াত করতে সম। সার্বজনীন রূপ দিতে সোমালিয়ান ভাষা রোমান হরফে লেখা চালুর ব্যবস্থা তিনিই করেছেন, যেমনটি মালয় ভাষার ক্ষেত্রে মাহাথির মোহাম্মদ করেছেন। একটানা ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে ‘লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে’ বেড়ান কমরেড সাঈদ বারী। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;সোমালিয়াকে আয়ত্তে রাখা দুই পরাশক্তি আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর মূল কারণ আমরা আগেই বলেছি। সাইদ বারীকে এক পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ত্যাগ করলে ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি তাদের সাথে আগের সব মৈত্রী চুক্তি বাতিল করে দেন। বহিষ্কার করেন স্পর্শকাতর বিভাগগুলোতে কর্মরত ডজন ডজন রুশ উপদেষ্টা। আনুগত্যের মস্তক এবার ঝুঁকে পড়ে পাশ্চাত্যের দিকে। দেশটির পতন মূলত তখন থেকেই শুরু হয়। সোমালিয়ানরা বলে থাকেন, রাশিয়ার কথা মতো ১৯৭৭-৭৮ সালে ইথিওপিয়া আক্রমণই ছিল বারী প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল, ঠিক সাদ্দাম হোসেন যেমন আমেরিকার ভুয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ইরাক ধ্বংসের বীজ বুনেছিলেন কুয়েত আক্রমণ করে। ইথিওপিয়ার দখলকৃত ঔপনিবেশিক আমলের সোমালিয়ার দ্বীপগুলো (যেগুলোতে এখনো সোমালিয়ানভাষীরা বাস করেন) কব্জা করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন সোমালিয়া থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। কিউবা ও সোভিয়েত মিলে সাঈদ বারীর অপ্রতিরোধ্য হস্ত সঙ্কুচিত করতে বাধ্য করে। এই অঞ্চলে নৌ-স্থাপনার মোক্ষম সুযোগ ভেবে সাঈদ বারীর ‘নতুন প্রেমিক’ বেশে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ওদের আশীর্বাদ অব্যাহত থাকে। বিনিময়ে জোটে অর্থনীতি ও সামরিক খাতের নাম করে বছরপ্রতি ১০০ মিলিয়ন ডলারের ‘প্যাকেজ ডিল’, ঠিক যেমনটি জেনারেল পারভেজ মোশাররফ পেয়েছেন বুশের তথাকথিত ওয়ার অন টেররের প্রেমিক সেজে। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;সোমালিয়াকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে একনায়ক সাইদ বারীকে আমেরিকা ও রাশিয়া ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছে। আরেকটি সত্য কথা হলো, বাংলাদেশের মতো সোমালিয়ারও কপাল খারাপ। ভালো প্রতিবেশী নেই। পূর্ব থেকেই সোমালিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়া থেকে উতসারিত হয়ে আসছে। ওদিকে ইথিওপিয়া হলো পরাশক্তির আজ্ঞাবহ। গোত্রীয় বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব সোমালিয়াতে আগে থেকেই ছিল। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত স্বৈরাচারী বারী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার সুযোগে সেটিও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিদ্রোহী ব্যবসায়ী নেতা আলী মাহদি এবং মিলিটারি কমান্ডার ফারাহ আইদিদ মোগদিসু আক্রমণ করে বসেন। ১৯৯১ সালের ২৬ জানুয়ারি বারী যুগের অবসান ঘটে। তারপর যা হওয়ার তাই-ই শুরু হয়ে গেল। রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী বলে কিছু রইল না। কমান্ড, শৃড়খলা একে একে খসে পড়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ল সোমালিয়া। অস্ত্র চলে গেল ট্রাইবাল লিডার, গডফাদার ও দস্যুদের (যারা সমুদ্রের জাহাজ পর্যন্ত ছিনতাই বা জিম্মি করে অর্থ দাবি করে) হাতে। শুরু হলো অরাজকতা, ডাকাতি ও লুটপাটের রাজত্ব। দুঃসময়ের সাক্ষী সোমালিয়ানরা স্ববদেশভূমি ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবীতে। ১০০ শতাংশ শিতি এবং অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ সোমালিয়ান জাতি এবং এক সময়কার ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’দের নতুন পরিচয় হলো ‘যাযাবর’। অকার্যকর তত্ত্বের এ যেন সফল কার্যকরণ! &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৫ সালের আরেক ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ সিকিমের কাহিনীও মোটামুটি একই রকম। দুঃসময়ের এ যেন আরেক সাক্ষী। মাত্র ৭ হাজারের একটু বেশি বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সিকিমকে ভারত ২২তম প্রদেশ বানিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আগ পর্যন্ত ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চোগিয়াল রাজারা শাসন করতেন। মানুষগুলো সবাই দেখতে একই রকম। বেশির ভাগই নেপালি বংশোদ্‌ভূত এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সাজানো একটি দেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, সিকিমের পুরনো নাম হিন্দু ধর্মের দেবতার নামানুসারে ছিল ‘ইন্দ্রকিল’ অর্থাত ইন্দ্র দেবের বাগান। মানচিত্রে বুড়ো আঙুলের মতো দেখতে। সিকিমের চার পাশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ভুটান, চীনের তিব্বত ও নেপাল। বিশ্বের পর্যটকদের কাছে ‘হট স্পট’ বলে পরিচিত ছিল সিকিম। কিন্তু ষড়যন্ত্র তাদেরকেও ছাড়েনি। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;সিকিমের সর্বশেষ যুবরাজ পলডেন নমগিয়াল মতা গ্রহণের আগে ১৯৬০ সালে নিউইয়র্ক পরিভ্রমণ করেন। তখন সাক্ষাত মেলে আমেরিকান ধনাঢ্য মেয়ে হোপ কুকের। বৌদ্ধ রীতি অনুযায়ী বিয়েও করেন তাকে। বৃদ্ধ রাজা তাশি নমগিয়াল মারা যান ১৯৬৩ সালে। এবার নতুন ও সর্বশেষ চোগিয়াল রাজা হলেন আমেরিকান মেয়ের বর পলডেন। ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে গঠন করেন মন্ত্রিসভা। এই অসময়ে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোতেও রয়েছে ভারতের ‘পরীক্ষিত-বন্ধুরা’ ক্ষমতায়। রাজ্য হারানোর মর্মান্তিক গল্পের শেষ অধ্যায় হলো, ১৯৭৩ সালে হঠাত দেশব্যাপী শুরু হয়ে যায় চরম গোলযোগ ও অস্থিরতা। রাজা পলডেনের অমতা সম্পর্কে ভালো করেই জানা ছিল ভারতপন্থী সব বলয়ের। সিকিমের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তো চুক্তি অনুসারে বরাবরই ভারতের হাতে। নেহেরু ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে এভাবেই শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়ার মতো সিকিমের কথিত স্পেশাল স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা করে রেখে গিয়েছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যম ইতোমধ্যে সার্থকভাবে বিশ্বব্যাপী প্রচার করে সিকিমের বিরুদ্ধে ‘অকার্যকর রাষ্ট্রের তত্ত্ব’। এরই ধারাবাহিকতায় সুযোগ বুঝে ১৯৭৫ সালে দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলে ভারত। সর্বশেষ রাজা পলডেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শ্বশুরবাড়ি নিউইয়র্কে ১৯৮০ সালে। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত আমরা বলতে পারি, আমাদের প্রিয় দেশটি সোমালিয়া বা সিকিম হওয়ার পর্যায়ে আসেনি। আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আবারো ঘুরে দাঁড়াবে, ‘কমান্ড অব চেইন’ দ্রুত ফিরে আসবে, শোককে শক্তিতে পরিণত করে আবার সম্মুখপানে আমাদের সেনারা ধাবিত হবেন, অন্তত এ আশাটুকু করতে চাই। যত অপপ্রচারই চালানো হোক না কেন, কারো সাধ্য নেই এ দেশকে ‘অকার্যকর রাষ্ট্রে’ পরিণত করা। অনেক চেষ্টা করে ভুটানকেও পারেনি। ভুটান আজ নিজ্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। নেপালে অনেকবার ‘প্রো-ইন্ডিয়ানরা’ শাসন করেছেন, এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনী পর্যন্ত সেখানে দীর্ঘদিন মোতায়েন থেকেছে। কাজ হয়নি। বরঞ্চ ভারতবিরোধী শক্তিই দিন দিন বেড়েছে সেখানে। মাওবাদীরা আজ নেপাল শাসন করছেন। শ্রীলঙ্কার অবস্থাও অনুরূপ। কোনো প্রতিবেশীই ভারতের ‘অবিশ্বাসী প্রভুত্ব’ চায় না। বৃহত রাষ্ট্রের উসকানিমূলক প্রচারণা এবং তথাকথিত গবেষণা প্রতিবেদন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রতিফলিত না হলে জাতি তার অস্তিত্ব সঙ্কটে কখনো পড়বে না। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মোট চারটি উপাদান নিয়ে একটি কার্যকর রাষ্ট্রের সংজ্ঞা নিরূপিত হয়। জনগণ, সরকার, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব। শেষোক্ত দু’টি উপাদানের মূল নিয়ন্ত্রণকারীদের বাংলাদেশে আমরা নাম দিয়েছি বাংলাদেশ রাইফেলস ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যদি রাষ্ট্রের উপরি উক্ত উপাদানগুলোর ভঙ্গুরতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়; অর্থাত বিভাজিত জনগণ, একদেশদর্শী কিংবা বিদেশপ্রেমিক সরকার এবং সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তাহীনতা, তখনি কথা এসে যায় অকার্যকর বা ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর একটা সুশৃংখল বাহিনীকে শেষ করে ফেলার অপপ্রয়াসের মতো নির্মম ঘটনা এ দেশে ঘটেনি। এর চেয়েও নির্মম সত্য হলো, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন গুরুতর হামলাও জাতিকে বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারল না। বরঞ্চ স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্ম ও বাংলাদেশের শত্রুরা এই সুযোগে ভালো করে আবারো বুঝে নিলো, বর্তমানের অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা রাজনীতি কোনো কিছুতেই এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবে না; এমনকি দেশের অস্তিত্বের ওপর চূড়ান্ত হামলা এলেও! অধিকন্তু দিনে দিনে আশঙ্কা বেড়েছে, উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত নব নব উদ্ভট এবং বিভক্তি উতপাদনের বিকৃত বীজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে চলতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে আজ থেকে ২০ বছর পর ভবিষ্যত বাংলাদেশের চেহারা কেমন হবে? নাইন-ইলেভেন আমেরিকানদের অনেক কিছু শেখালেও ওয়ান-ইলেভেন মনে হয় আমাদের কিছুই শেখায়নি! স্কটিশ একটি প্রবাদবাক্য হলো, ‘জোর করে ঘোড়াকে পানির কাছে নেয়া যায়, কিন্তু তাকে পানি পান করানো যায় না।’ ঘুমের মানুষকে জাগানো যায়, কিন্তু যারা জেগে ঘুমায়, তাদের জাগাবে কে?&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://www.dailynayadiganta.com/2009/03/22/fullnews.asp?News_ID=135406&amp;amp;sec=6"&gt;লেখাটি নয়াদিগন্ত ছেপেছে মার্চ২২, ২০০৯ এ &lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-3434189923065741949?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/3434189923065741949/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=3434189923065741949' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/3434189923065741949'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/3434189923065741949'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2009/03/blog-post.html' title='দূঃসময়ের সাক্ষী'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SczczqMKG-I/AAAAAAAAADE/UK3qPOdc7Nc/s72-c/1005MA1.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-6393752214667804717</id><published>2009-02-06T06:15:00.000-08:00</published><updated>2009-03-27T07:17:47.550-07:00</updated><title type='text'>‘শান্তির স্বপ্নে’ও প্রেতাত্মার থাবা</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SYxGok3akcI/AAAAAAAAACs/65B4slINLkA/s1600-h/ghost.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5299688524413047234" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand; HEIGHT: 230px" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SYxGok3akcI/AAAAAAAAACs/65B4slINLkA/s320/ghost.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ‘ইন দ্যা লাইন আব ফায়ার’ (প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০০৬) নামে আত্মজীবনী মূলক বই লিখে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ সারা দুনিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। তিনি নাকি বইতে কারগিল যুদ্ধ, বিজ্ঞানী কাদির খান ইত্যাদি নিয়ে অর্ধসত্য বা মিথ্যা কথা বলেছেন।পাকিস্তানের নিরাপত্তার স্বার্থ বিঘ্ন হতে পারে এমন অনেক বিষয়ে তথ্য পাচারের বিস্তর অভিযোগ উঠলেও ঐবছর তার বইয়ের ব্যাপক কাটতি কিন্তু কেউ আটকাতে পারেনি। আর তাবৎ বিশ্ব ভাল করেই জানে, দু’একটি পরাশক্তি হাতে থাকলে বড়-ছোট কোন অভিযোগই কিছুদিন পরে আর অবশিষ্ট থাকে না। আমেরিকা, বৃটেন কিংবা উন্নতবিশ্বে সেনাপ্রধান কে বা তিনি কিইবা বললেন তা নিয়ে দুনিয়ার মানুষ খুব বেশী মাথা ঘামায় না।কারন তাঁরা সরকারী চাকুরিজীবি, অর্পিত দায়িত্ব পালন করাই তাঁদের কাজ।কিন্তু আমাদের মত দেশগুলো বিশেষ করে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ফিজি ইত্যাদির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উলটা। কারণ ইনারা সরকারী চাকুরির পাশাপাশি ‘উপরি’ কিছু দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এই উপরিই তাঁদের অতিরিক্ত পরিচয় বাড়াতে সাহায্য করে। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;প্রজাতন্ত্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ আসনে আসীন ব্যক্তিবর্গ সাধারনত চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে আত্মজীবনীমূলক বই লিখে থাকেন। কখনো তাঁরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অনেক অপ্রিয় সত্য কথা সারা জীবনের জন্য চেপেও যান।যেমন, বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ।একটি দলের উপর তিনি এতই মনক্ষুন্ন যে, আত্মজীবনীমূলক বই লেখার ইচ্ছা এখন আর করেন না।উল্লেখ্য, সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালে আরো এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছেন।তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন, ‘মেয়াদ আর কত বাড়বে? সবকিছুর একটা শেষ আছে।’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;যাহোক, সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের আত্মজীবনীমুলক বই ‘শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ’ বেরিয়েছে।জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষকেরাই বিচার করবেন গুরুত্বপূর্ণ কোন গোপন তথ্য জেনারেল তিনি জনগনকে জানিয়েছেন কি না অথবা সেগুলো বাইরে জানানোর আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা।আমরা সেদিকে না গিয়ে বইয়ে বর্ণিত বহুলখ্যাত ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর অজানা রহস্য ও সেসময়ে প্রকাশিত জনপ্রিয় দেশী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া বিবেচনা করে আলোচনা করব।আর শেষে তৃতীয় বিশ্বের অনেক সেনাপতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বুশকে নিয়ে একটি গল্প দিয়ে আজকের নিরস আলোচনাটির সমাপ্তি টানবো। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;জরুরী অবস্থা না এলে হয়তো আমরা জানতেই পারতাম না জেনারেল মইনের রয়েছে অসাধারন লেখনী ক্ষমতা। সুন্দর ভাষা ও শব্দ চয়নে ইতিবাচক কলাম লিখে তিনি ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছেন।বাংলা নববর্ষ ১৪১৫ (১৪ এপ্রিল ২০০৮) নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর একসাথে প্রকাশিত অসাধারন লেখাটি পজেটিভ বাংলাদেশ গড়তে বেশ সাহায্য করবে।তিনি আশাবাদী ও স্বপ্নবিলাসী মানুষ যা নিজেই বলে থাকেন।সেজন্যই হয়তোবা ওয়ান-ইলেভেন আনতে সহায়তা করেছেন।সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ বা মন জয় করতে নিজস্ব ব্র্যান্ডের গনতন্ত্র, ২৮শে অক্টোবর, জাতির জনক, স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে জনপ্রিয় কথাও বলেছেন।যেরকম আমরা এরশাদের মুখ থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয়ার পরে দূর্নীতি ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রায়শই শুনতাম।এমনকি দূর্নীতির এই বরপুত্র কৃচ্ছতা সাধনের নিমিত্তে মিডিয়াকে খবর দিয়ে সাইকেল চালিয়েও একসময় অফিস করতেন। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;এক-এগারোর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নায়কদের মুখ থেকে আমরা এর অন্তর্নিহিত রহস্য আগে জানতে পারিনি। শুধু জেনেছিলাম এটি পূর্বপরিকল্পিত।জেনারেল মইন বইতে এর বিস্তারিত বিবরন দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘১১ জানুয়ারি খুব ভোরে উঠে ফজরের নামায পড়ে কায়মনে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললাম, হে আল্লাহ, জীবনে আমি অনেক ভুল করেছি………....... মোনাজাত শেষ করে আমি অফিসের সময় শুরু হওয়ার আগেই অফিসে চলে এলাম। প্রথমে খবর ও পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে টেলিফোন পেলাম। আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিঃ গুইহিনো কোনোরকম ভনিতা না করেই জানালো, সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত নির্বাচন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরকম একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি ভূমিকা রাখে তাহলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের এরূপ কঠোর হুঁশিয়ারির পর আমার বুঝতে অসুবিধা হলো না যে, এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তুলবে।’ তাহলে বোঝা যায়, জাতিসংঘের কঠোর হুঁশিয়ারীই তাঁকে ১-১১ আনতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। আসলে সত্যি কি এরূপ ঘটেছিল? কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন ইস্যুতে জাতিসংঘ কি এমন অশোভন হুমকি দিতে পারে? ইকোনোমিস্ট ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭-এ এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘They must have known that the United Nation’s threat was almost certainly hollow. After all, Pakistan and Fiji didn’t lose their peacekeeping contract after coups in their countries (অর্থাৎ বাংলাদেশের জেনারেলরা অবশ্যই নিশ্চিত ছিলেন যে, ইউএনের এই থ্রেটটা ছিল একটা ফাঁকা বুলি। কারন পাকিস্তান ও ফিজিতে জেনারেলরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার পরেও তাদের সাথে ইউএন’র পিসকিপিং কন্ট্রাক্ট কিন্তু বাতিল হয়ে যায়নি।)’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আমেরিকা অঞ্চলের মানবাধিকার আইনজীবীদের সংগঠন ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জুরিস্ট’র কানাডা চ্যাপ্টারের সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক ল’ ইয়ার্সের কর্মকর্তা অ্যাটর্নি উইলিয়াম স্লোন ২০০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন্স এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনালস’ নামক একটি সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানি স্টাইলে বাংলাদেশে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হঠাৎ করে আসেনি। ১-১১-এর পরিস্থিতিও পূর্বপরিকল্পিত।নির্বাচনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যার নীলনকশাও পুরনো।‘পিলে চমকানোর মতো এসব তথ্য ফাঁস করে জ্যাকসন হাইটসে উইলিয়াম আরো জানিয়েছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগের সাথে সাথে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনের ইস্যুতে কী ধরনের আন্দোলন হবে এবং নির্বাচন বানচালের জন্য কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির অবতারণা করা হবে, এরপর জরুরী আইন হতে পারে, জরুরী আইনের সময় সামরিক বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হবে, এমনি অবস্থায় চালানো হবে দুর্নীতি দমন অভিযান এবং সে অভিযানের টার্গেট হবেন দুই নেত্রী, সংস্কারের নামে প্রধান দু’টি দলকে ভেঙে চুরমার করার পর আমেরিকার পছন্দের লোকদের নেতৃত্বে গঠন করা হবে নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ফ্রন্টের লোকজনের সমন্বয়ে সরকার গঠন করা হবে।’ তিনি দাবী করেন এসব অনেক আগেই এক ডেইলির সম্পাদক ও এক এমপির মাধ্যমে তিনি জেনেছিলেন । (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত মার্চ১০, ২০০৮) সে সময় ডঃ কামাল হোসেনও বলেছিলেন, ‘এক-এগারো আমরাই এনেছি।’ সেসময়ে কারাধীন শেখ হাসিনার এক অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডঃ কামাল হোসেন আরো বলেছিলেন, ‘দেশ গোল্লায় যাক। তাই বলে দুই নেত্রীকে পূজা করতে হবে নাকি? (আমারদেশ, মে১, ২০০৮)’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;তাহলে আমরা কি করে বিশ্বাস করবো সব বাহিনীর প্রধান জেনারেল মইন এসবের কিছুই কি অগ্রিম জানতেন না বা এর সাথে নিজেকে কখনো অন্তর্ভূক্ত করেননি? না কি ধরে নিব অদৃশ্য কোনো প্রেতাত্মার থাবা আমাদের সাহসী সেনাপতিকেও নির্মম সত্য প্রকাশে টুটি চেপে ধরেছে? &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আমরা ১-১১ পূর্ব-প্রেক্ষাপটটি বিবেচনায় আনলে সহজেই বুঝতে পারি শক্তিধর রাষ্ট্রদূতদের সাথে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসালিয়ান। তিনিই জাতিসংঘের পক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়েছিলেন।সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘২২ জানুয়ারীর ঘোষিত নির্বাচনে সেনাবাহিনী সহায়তা দিলে আগামী দিনে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আদৌ যোগ দিতে ও বেতন ভাতা কমাতে পারবে কিনা সেটি বিবেচনা করা হবে। অবশ্যি পরে এই ধমকা-ধমকি পরে ভূয়া বলে ধরা পড়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে যে বিবৃতি পাঠানো হয়েছিল সেখানে বাংলাদেশ সম্পর্কে উৎকন্ঠা ছিল, কিন্তু এ ধরনের কথা ছিল না। রেনেটা বিবৃতিতে নিজ দায়িত্বে এই কথাগুলো ঢুকিয়ে ছিলেন।’ (সূত্রঃ আমারদেশ, ১২ অক্টোবর, ২০০৮) ইকোনোমিস্টও লিখেছে, ‘বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি যা করেছে জাতিসংঘের গত ষাট বছরের ইউএনের ইতিহাসে তা নেই। এই হুমকির পরেই জেনারেল মইন বাংলাদেশের রাস্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের অফিস বরাবর মার্চ করে ইমার্জেন্সী জারী, ইলেকশন বাতিল এবং মিলিটারী ব্যাকড্ কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে ‘আদেশ’ দেন। (ফেব্রুয়ারী ২১, ২০০৭)’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;সেসময় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরীও এমনটি বলে প্রেসিডেন্টের নিকট মইনের ‘বিনয়াবনত হয়ে অনুরোধের’ দাবীকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জরুরি অবস্থা জারির কাগজপত্র এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র ইত্যাদি কাগজপত্র সেনাপ্রধান আগেই তৈরি করে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতিকে জোর করে এসব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়টি নিয়ে তার পত্নী ও আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। আমাকে তিনি তাদের উপস্থিতিতে ডেকেছিলেন। কিন্তু আমাকে সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। (আমাদের সময়, ফেব্রুয়ারী ২, ২০০৯) &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;সেসময়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম রূপকার ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরী পরোক্ষভাবে জেনারেল মইনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আজ বিভিন্ন জন বিভিন্ন মত প্রকাশ করছেন। প্রত্যেকেই সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করছেন। আমি নিজেও ওয়ান ইলেভেনের ঘটনাবলির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ওইদিন অন্যদের সঙ্গে আমিও উপস্থিত ছিলাম বঙ্গভবনে। ১১ জানুয়ারি সারারাত বঙ্গভবনেই ছিলাম। আমি সকল ঘটনার সাক্ষী। তিনি বলেন, ইতিহাসই বিচার করবে ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তারা নায়ক না খলনায়ক। আমরা কেন নিজেরা নিজেদের নায়ক বানাতে যাব? জেনারেল মাসুদ বলেন, ওয়ান ইলেভেন নিয়ে আমারও অনেক কিছু বলার আছে। অনেক অজানা তথ্য আমি জানি। একদিন সেসব অবশ্যই বলব। আজ দেখছি, অনেকেই সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে অনেক কথা বলছেন। এসবের জবাবও একদিন আমি দেব। এখন নয়। এখন আমি সরকারি কর্মচারী। এখন কিছু বললে নিজের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে বলতে হবে। সব কিছু বলাও সম্ভব হবে না। ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ইতিহাসের কাছে আমি দায়বদ্ধ। সেই দায় আমাকে একদিন মেটাতেই হবে। (আমাদের সময়, ফেব্রুয়ারী৪, ২০০৯)’ &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;মইনের উক্ত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি টিআইবি প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ ‘১/১১-এ প্রেসিডেন্টের কাছে বিনয়াবনত হয়ে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানান’-এর বিপরীতে সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি যদি বাইরে কান পাতেন তাহলে মানুষের কাছে অন্য কাহিনী শুনতে পাবেন।’ উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে জেনারেল মইন এমনসব বুদ্ধিজীবি ডেকে এনেছিলেন যাঁরা বাংলাদেশে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তায় বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্ধ নিয়ে ফিবছর কথা বলে থাকেন। এমনকি ওই অনুষ্ঠানেও অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেছেন, ‘জেনারেল মইন অন্যত্র স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সেনাবাহিনীর (সশস্ত্রবাহিনী) কর্মের স্বচ্ছতা নেই (নয়াদিগন্ত জানুয়ারী৩০, ২০০৯)।’ অথচ প্রবীন এই অধ্যাপক ভাল করেই জানেন কোন দেশেরই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাহিনীর আভ্যন্তরীন কর্মকান্ড জনসমক্ষে উন্মোচন বা সরকার ছাড়া কাউকে স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে দেয়ার সুযোগ নেই।মইন কিন্তু এর ন্যুনতম প্রতিবাদও করেননি। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;প্রেসিডেন্টের ভাবার জন্য কিছু সময় চাওয়া নিয়ে মইন অন্যত্র লিখেছেন, ‘আমি জানতাম ইতোপূর্বে উপদেষ্টা পরিষদে অনেক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত অজানা কারন ও প্রভাবে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। যার কারনে আমরা কোনো দুষ্টচক্রকে আবার নতুন কোনো খেলা শুরু করার সুযোগ দিতে চাচ্ছিলাম না।’ ‘দুষ্টচক্র’ বলতে তিনি কাদের বুঝিয়েছেন তা সচেতন পাঠকদের বুঝতে আশা করি কষ্ট হবেনা। বর্তমান সরকারে অন্য জোট ক্ষমতায় থাকলে জেনারেল মইন এমন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করতেন কিনা তা নিয়ে যেকোনো পাঠকই সন্দেহ করতে পারেন।কারন এক সময় সব জোটই সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতা করলেও বর্তমান পরিস্থিতি অনেকের জন্যই শাপে বর হয়েছে। বুদ্ধিজীবিদের সুরও পাল্টেছে, পত্র-পত্রিকাগুলোও হয়তো জরুরী অবস্থা নিয়ে আর মাথা ঘামাতে রাজী নয়। অথচ ২২শে অক্টোবর, ২০০৭ এ জেএফকে স্কুল অফ গভর্ণমেন্ট একই গোত্রীয়ভুক্ত বুদ্ধিজীবিরা প্রতিষ্ঠানটির ডীন ডঃ ডেভিড এলউড বরাবর ইমেইলে অনুরোধ জানিয়ে ইন্টারনেটে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে নেমে পড়ে সেনাপ্রধাণকে এক অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ওয়ান-ইলেভেনের এক বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে ১১ জানুয়ারী ২০০৮-এ দৈনিক প্রথম আলো ‘বঙ্গভবনে সেই সময়ে যা ঘটেছিল’ শিরোনামে যা লিখেছে তার সাথে মইনের বর্ণনার মূল পার্থক্য তেমনটি নেই। মইন শুধু প্রেসিডেন্টের সাথে তাঁর আচরনগত ‘পার্থক্য’ দেখিয়েছেন যা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের বুদ্ধিজীবিরাও বিশ্বাস করেননি।পাঠকেরা প্রথম আলোর ওই তারিখের আর্কাইভে গিয়ে দেখে নিতে পারেন।একটি পত্রিকা কি করে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট আভ্যন্তরীন ব্যাপারাদি এমন খুঁটিনাটিভাবে জানতে পারে তা ভাবতেই অবাক লাগে।একটা সময় ছিল যখন সেনাবাহিনী ও বিচারপতিদের নিয়ে লেখার আগে সাত-পাঁচ ভাবতে হতো, আজ উলটো সংশ্লিষ্ট বিভাগের স্বয়ং মহারথীরাই নয়-ছয় লিখে উদ্ভট জটলা সৃষ্টিতে সাহায্য করছেন। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;একটি গল্প দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করতে চেয়েছিলাম। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;২০০৯ সালের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পেনসেলভেনিয়া এভিনিউ ধরে একজন বৃদ্ধ লোক হোয়াইট হাউসের সামনে পাতা একটি বেঞ্চে এসে বসলেন।&lt;br /&gt;প্রহরারত এক মেরিন গার্ডের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আমি একটু ভিতরে যেতে চাই। প্রেসিডেন্ট বুশের সাথে দেখা করব।’&lt;br /&gt;মেরিন ভ্রুঁকুঁচকে লোকটির দিকে তাকালেন। বিনয়ের সাথে বললেন, ‘স্যার, বুশ এখন আর প্রেসিডেন্ট নন এবং এখানে তিনি আর থাকেন না।’&lt;br /&gt;লোকটি ‘ওকে’ বলে চলে গেলেন।&lt;br /&gt;পরদিন লোকটি আবারো হোয়াইট হাউসে এসে মেরিন গার্ডকে একইভাবে ভিতরে ঢুকে প্রেসিডেন্ট বুশের সাথে দেখা করার আগ্রহ ব্যক্ত করলেন।&lt;br /&gt;মেরিন উত্তরে বললেন, ‘স্যার, গতকাল আপনাকে যা জবাব দিয়েছি আজো তাই দিচ্ছি। বুশ ইজ নো লংগার প্রেসিডেন্ট এন্ড নো লংগার রিসাইড হিয়ার।’&lt;br /&gt;লোকটি এবারো আগের মত মেরিনকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলেন।&lt;br /&gt;তৃতীয় দিনেও ব্যক্তিটি আগের মতই হোয়াইট হাউসে এসে ওই মেরিনকেই বললেন, ‘আই উড লাইক টু গো ইন এন্ড মিট উইথ প্রেসিডেন্ট বুশ (I would like to go in and meet with president Bush)।’ সংগতকারনেই মেরিন আর রাগ থামাতে পারলেন না। অগ্নিমূর্তি ধারন করে লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘স্যার, আজ দিয়ে তিনদিন আপনি একাধারে মিঃ বুশের সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন। আর আমি আপনাকে বারে বারে একই কথা বলে যাচ্ছি মিঃ বুশ ইজ নো লংগার প্রেসিডেন্ট এন্ড নো লংগার রিসাইড হিয়ার। আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন?’&lt;br /&gt;বৃদ্ধ লোকটি এবার সহজভাবে মেরিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ওহ্, আই আন্ডারস্ট্যান্ড। বুশ যে ‘নো লংগার আওয়ার প্রেসিডেন্ট’ কথাটি আমার ভারী পছন্দের। আই জাস্ট লাভ হিয়্যারিং ইট।’&lt;br /&gt;মেরিনগার্ড মূহুর্তেই লোকটির দিকে আকর্ষন বাড়িয়ে একটি স্যালুট দিয়ে বললেন, ‘সি ইউ টুমোরো ,স্যার।’&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;২০১০ সালের কোনো একদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেড কোয়ার্টারে সামনে কোনো এক বাংলাদেশীর এমন প্রশ্নের জবাবে হয়তো তখনকার সেনাপ্রধান গার্ড লোকটিকে স্যালুট দিয়ে বলবে ‘সি ইউ টুমোরো স্যার’। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;a href="http://www.dailynayadiganta.com/2009/02/22/fullnews.asp?News_ID=130412&amp;amp;sec=6"&gt;ফেব্রুয়ারী২২, ২০০৯ এ নয়াদিগন্তে এসেছে &lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-6393752214667804717?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/6393752214667804717/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=6393752214667804717' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/6393752214667804717'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/6393752214667804717'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2009/02/blog-post.html' title='‘শান্তির স্বপ্নে’ও প্রেতাত্মার থাবা'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SYxGok3akcI/AAAAAAAAACs/65B4slINLkA/s72-c/ghost.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-8633439831052542501</id><published>2008-11-07T15:07:00.000-08:00</published><updated>2008-11-07T15:13:53.250-08:00</updated><title type='text'>ওবামা কি সত্যি পারবেন পৃথিবীটাকে ‘চেঞ্জ’ করে ফেলতে?</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;   &lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SRTKwza-PaI/AAAAAAAAACk/lreOVi0_brw/s1600-h/obama.jpg"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5266056804088823202" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand; HEIGHT: 247px" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SRTKwza-PaI/AAAAAAAAACk/lreOVi0_brw/s320/obama.jpg" border="0" /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/a&gt; &lt;span style="font-size:130%;"&gt;ইলেকশনের একদিন আগে ওবামার ‘দিস ইজ এ ডিফাইনিং মোমেন্ট ইন আওয়ার হিস্ট্রি  (This is a defining moment in our history)’ নামক একটি আর্টিকেল ‘দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্ণাল’ প্রকাশ করে।এতে তিনি লিখেছেন, ‘কাল থেকে আমাদের জাতির জন্য আমি আপনাদেরকে নতুন করে একটা মহান ইতিহাস লেখার আহ্‌বান জানাই। যদি আপনারা আমাকে ভোট দেন, তাহলে আমরা নিছক একটা নির্বাচনেই জিতব না, সবাই মিলে দেশটাকে, এমনকি পুরো দুনিয়াটাকেই বদলিয়ে দিব (Tomorrow, I ask you to write our nation's next great chapter... If you give me your vote, we won't just win this election -- together, we will change this country and change the world)।’ তিনি ম্যাককেইনের চরম নোংরা আক্রমণের জবাব এক সপ্তাহ আগে এভাবে দিয়েছিলেন, ‘আমি আরো এক সপ্তাহ রিপাবলিকানদের বাজে কথা শুনতে প্রস্তুত, কিন্ত আমেরিকানরা আরো চার বছর ম্যাককেইনের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে বুশের বস্তাপচা  নীতি টানতে আর প্রস্তুত নয়।’   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;    সবাই মোটামুটি আশা করছেন, ওবামা তাঁর স্ব-জাতির এই ক্রান্তিকালে কিছুটা  হলেও পরিবর্তন আনতে পারেন অথবা ভিন্নভাবে বললে বলতে হবে, পরিবর্তন তাঁকে আনতে হবেই। কিন্তু ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে বসে পেন্টাগনের আগ্রাসী ভূমিকা থেকে হাত গুটিয়ে পুরো পৃথিবীটাকে আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যারাক ওবামা কিভাবে বদলাতে পারবেন সেইটার এখন দেখার বিষয়।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;     বুশের বিদায় ঘন্টা উৎসবের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল আমেরিকানদের মধ্যে। একাধিক কুটির শিল্প বিভিন্ন চমৎকৃত দ্রব্যাদি যেমন, ক্যালেন্ডার, ম্যাগ্নেট, টি-শার্ট ইত্যাদি নিয়ে আগ্রহভরে প্রস্তুত হয়েছিল বুশ আমলের দ্রুত সমাপ্তির এই প্রতীক্ষিত মূহুর্তের আশায়। কিন্তু প্রতীক্ষিত দিনটি যখন এসেই যাবে অর্থাত বুশ ওভাল অফিস ছেড়েই যাবেন অথবা সবচেয়ে ব্যয়বহুল চাকরিটি যখন ওবামা করা শুরু করবেন, তখন তিনি বুঝবেন বুশ তার উত্তরাধিকার রত্নের জন্য এমন এক উইল রেখে গিয়েছেন যা বাস্তবায়ন করতে গেলে পৃথিবীর নাড়ি-ভুড়ি সব ছিঁড়ে খেতে হবে।  &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;     মে ৩১, ২০০৮ এ সাউথ এশিয়া টাইমস্‌ ‘ওয়ার্ল্ড পলিসি ইন্সটিউটের আর্মস ট্রেড রিসোর্স সেন্টার’-এর সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট ফ্রিডা বেরিগ্যান (Frida Berrigan) এর একটি বিশাল গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ ‘পেন্টাগন কিভাবে দুনিয়াটাকে সাজাচ্ছে (How the Pentagon Shapes the world)’ প্রকাশ করেছে। আজকের নিবন্ধে আমরা উক্ত আর্টিকেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করব।      প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯ জানুয়ারী ২০০৯ এ যেই প্রেসিডেন্টের আসনে বসুন, তিনি আর পেন্টাগনকে পঞ্চভূজ দালান হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন না। আমেরিকান সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ‘কোল্ড ওয়্যার’ শেষে যেভাবে দুনিয়াটাকে ‘ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড’ বানিয়েছে তা থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতে পারবেন না। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপাত্য, শান্তি শান্তি বলে বিভক্তির বীজ বোনা, হাতেম তাঈ-র মত দয়ালু সেজে দেশে দেশে নাক গলানো, মিলিটারীকে এমন উচ্চ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করা যে এর সমকক্ষ দুনিয়াতে যাতে আর কেউ না থাকে। সরকারী কর্মকর্তারা ২০০১-এর সেপ্টেম্বরের একেবারে শুরুতে বুশ প্রশাসনের আরো ৬০ টি জাতির উপর টার্গেট নেয়ার ফুটপ্রিন্টও প্রকাশ করে ফেলেছিল। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা পেন্টাগণকে এমনভাবে প্রস্তুত করেছেন যেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই সংশ্লিষ্ট দেশ বা আন্তর্জাতিক আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ‘যৌক্তিক’ ভাবেই আঘাত হানতে পারে। ২০০২ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড প্রতিরক্ষা কৌশলের ক্লাসিক শর্টহ্যান্ড ১-৪-২-১ প্রকাশ করেন। এর ব্যাখ্যা এরূপ,  আমেরিকা তার নাগরিকদের রক্ষার কথা বলে প্রথমেই চারটি সংবেদনশীল অঞ্চল (ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য)-এ আগ্রাসন চালাবে। এদের মধ্যে দুই অঞ্চলকে এক সাথে পরাস্ত করতে সক্ষম এবং অন্য আরেকটি অঞ্চলে সময়ের ব্যবধানে এমনিতেই পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিত হয়ে যাবে।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;   &lt;br /&gt;     ১) পেন্টাগণের আকাশচুম্বী বাজেটঃ  &lt;br /&gt;     বুশ প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই এই বিভাগে বাজেট  দ্বিগুণ করে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে ফেলেন। ২০০৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র নিয়মিত বাজেট বেড়ে দাঁড়াবে এরও প্রায় দ্বিগুণ (৫৪১ বিলিয়ন ডলার)। কারণ তহবিল সরবরাহ করতে হবে ‘যুদ্ধব্যয়ে (war spending)’ ও ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (war on terror)’-সহ নিজেদের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক  ব্যবস্থার জন্য। ফেব্রুয়ারি ২০০৮ পর্যন্ত কংগ্রেসের বাজেট অফিসের সূত্র ধরে বলা হয়েছে, আইন প্রণেতারা ৭৫২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্ধ করেছেন আফগানিস্তান, ইরাকসহ অন্যান্য স্থানে চলমান যুদ্ধ খরচের জন্য। ২০০৯ অর্থবছরের জন্য যে আরো ১৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়বে তাও পেন্টাগণ আগেভাগে বলে রেখেছে। অর্থাৎ সামনের বছরে ডলারের পরিমান আর বিলিয়নে থাকবে না চলে যাবে ট্রিলিয়নের ঘরে। নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট বব হারবার্ট (Bob Herbert) লিখেছেন, একশো ডলারের নোট যদি একত্রে সাজানো হয় ছয় ইঞ্চি উঁচু বানাতে এক বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়বে। এক বিলিয়ন ডলার ওইভাবে স্তরে স্তরে সাজালে এর উচ্চতা হবে ঠিক ওয়াশিংটনের দূর্গ পর্যন্ত, আর এক ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চতা হবে ১৬০ কিমি যা কিনা আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ শৃংগ হিন্দু কুশের চেয়েও বিশ গুণ বেশী উঁচু।  &lt;br /&gt;     ফেডারেল গভর্ণমেন্টের এই ‘বিবেচনামূলক প্রোগ্রাম (discretionary program)’-এর জন্য শুধুমাত্র সামরিক খাতেই সমগ্র বাজেটের প্রতি ডলারের ৫৮ সেন্টই ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ পেন্টাগণের সর্বমোট বাজেট আমেরিকার শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা, বিচার বিভাগ, সাবেক সৈন্যদের সুযোগ সুবিধা, আবাসন সহযোগিতা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, কৃষি, জ্বালানী এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পখাতসমূহ মিলে সর্বমোট বরাদ্ধেরও বেশী।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     ২) কূটনৈতিকের ভূমিকায়  পেন্টাগণঃ &lt;br /&gt;     আঠার শতক থেকে আমেরিকান রাস্ট্রদূতেরা সেদেশের প্রেসিডেন্টেরই প্রতিনিধিত্বই করতেন। তারা আমেরিকার পররাস্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ মানছে কিনা তা নিশ্চিত করত অথবা সেসব দেশকে মেনে চলতে বুঝাতো। একজন রাস্ট্রদূত তাদের কাজের ধরণ এভাবে বুঝিয়েছিলেনঃ “The rule is: if you’re in Country, you work for the ambassador. If you don’t work for the ambassador, you don’t get country’s clearance”      কিন্তু দিন পাল্টেছে। বুশীয় আমলে পেন্টাগণ এই মডেলটি উল্টিয়ে দিয়েছে। সিনেটর রিচার্ড লুগার (Richard Lugar) এর ২০০৬ সালের কংগ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাস্ট্রদূতেরা এখন অনুভব করেন তাদেরকে মিলিটারী অফিসারদের অনুগত হতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তারা নিজেদেরকে দুই নম্বর টীম মনে করেন। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;    নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস (Robert Gates) -ও এই সমস্যা সম্পর্কে অনবহিত নন। তিনি এর জন্য সামনের বছরে অতিরিক্ত আরো অর্থ বরাদ্ধের আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের মাত্র ৬৬০০ ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা রয়েছে, যার জন্যই মূলতঃ সেনাদের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এ সংখ্যা বাড়াতে আরো টাকার প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে একজন রাস্ট্রদূত ক্ষোভের সাথে বলেছেন, ওই অতিরিক্ত অর্থও সামরিক খাতেই ব্যয়িত হবে।   &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     কূটনৈতিক চাল দিতে গিয়ে আমেরিকান রাস্ট্রদূতেরা যে শব্দসমূহ ব্যবহার করেন তাহলো, ইন্টারএজেন্সি, কো-অপারেশন, সিকিউরিটি প্রবলেম, রিজিওনাল প্রবলেম ইত্যাদি। নাইন ইলেভেনের পর সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ মেনে না চললে, ‘সহযোগিতা (co-operation)’এর সংজ্ঞা পালটে ‘হুমকি (Threat)’-তে রূপ নেয়।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     ৩) অস্ত্রডিলারের ভূমিকায় পেন্টাগণঃ &lt;br /&gt;     আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ সম্মন্ধে মানুষের ধারণা একেবারেই ধোঁয়াটে। এর জন্য বরাদ্ধ হয় ‘কালো টাকা (Black Budget)’। গোয়েন্দা বিশারদরা বলেছেন, এই এক দশক আগেও এর পরিমাণ ছিল ২৬ বিলিয়নে। ৯/১১এর পর (২০০৩ সালে) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৪০ বিলিয়ন ডলারে। ‘স্পাইস্‌ ফর হায়ার (Spies for Hire)’ গ্রন্থের লেখক অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক  টিম শোরোক (Tim Shorrok) এর মতানুযায়ী, পেন্টাগণ বর্তমানে ইউএস ইন্টেলিজিন্সের আশি ভাগই নিয়ন্ত্রণ করছে যার পরিমাণ গত বছরে ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার। প্রাক্তণ সিআইএর কর্মকর্তা ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-র বিশেষজ্ঞ মেল গূডম্যান (Mel Goodman) এর দৃষ্টিতেঃ  The Pentagon has been the big bureaucratic winner in all of this”  &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     ২০০৬ সালে আমেরিকা একাই অস্ত্র বেচেছে সারা পৃথিবীর অর্ধেক (১৪ বিলিয়ন ডলার) পরিমান। এর মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে পাকিস্তানের কাছ থেকে  এফ-১৬ এর জন্য এবং সৌদী আরবের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পূনর্বিন্যাসের জন্য চুক্তি হয়েছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া (৫.৮ বিলিয়ন ডলার), ৩য় অবস্থানে বৃটেন (৩.৩ বিলিয়ন ডলার)। মজার ব্যাপার হল, ৭০ ভাগেরও বেশী অস্ত্র বিক্রি হয়েছে উন্নয়নশীল দেশসমূহ যারাই মূলতঃ আমেরিকার ওয়ার্ল্ড পার্টনারের গিনিপিগ।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;     ৪) গ্লোবাল ভাইসরয় এবং ‘স্বর্গ নিয়ন্ত্রণকারী দেবতার’ ভূমিকায় পেন্টাগনঃ &lt;br /&gt;     বুশামলে পেন্টাগন ভাইসরয়সূল্ভ সামরিক প্রত্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ব সমাজকে সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। সত্যি বলতে কি, ৯/১১-এর আগ পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর এমন কোন দেশ ছিল না, যেখানে আমেরিকা সেনাবাহিনীর প্রভাব কোন না কোনভাবে পড়েনি। এ বছর ‘ইউএস আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম-Africom)’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানচিত্রের সেই শূন্যতাও পূরণ করা হল। মিসর বাদে এ অঞ্চলের সব দেশকে এই কমান্ডের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। মিসরকে বিশেষভাবে রাখা হয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে। নব্য ঔপনিবেশকতা বিস্তৃত করার এই ধারাকে বুশ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেনঃ “enhance our efforts to bring peace and security to the People of Africa and promote our common goals of development, health, education, democracy and economic growth in Africa”.  &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;     আফ্রিকান এফেয়ার্সের সহকারী  প্রতিরক্ষা সেক্রেটারী তেরেসা উইল্যান (Theresa Whelan) মন্তব্য করেছেন,  It is about increasing the global reach of the Pentagon.   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;     ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ দখলই যথেষ্ঠ নয়, চাই নভোমন্ডলও। মনে হয় কিছু স্বর্গের নিয়ন্ত্রনও পেন্টাগন চাইছে। জাতীয় মহাকাশ নীতি (National Space Policy) ‘ইউএস স্পেস কমান্ড ভিশন ২০২০’ প্রকাশ করে বুশ প্রশাসন বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও তাদের অধিকার রয়েছে ‘মহাকাশ প্রতিরোধের’ অর্থাৎ মহাকাশে বাঁধা-বন্ধনহীনভাবে তারা যা চাইবে তাই প্রতিস্থাপন করতে পারবে। সেই সাথে থাকবে প্রতিরক্ষার দায়িত্বও তাদের উপরই।   &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     সম্প্রতি আরো খবর বেরিয়েছে ইউরোপ, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকায় ‘ভালো সাফল্য’ অর্জনের পর মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম (এসপিপি) এখন সম্প্রসারিত হচ্ছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। হনহুহু থেকে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর একজন স্টাফ সার্জেন্টের প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার কোনো অঙ্গরাজ্যের পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধটি অনুমোদন করেছেন ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের অধিনায়ক অ্যাডমিরাল টিমোসি কিটিং। তিনি বাংলাদেশের পার্টনার হিসেবে আমেরিকার কোনো একটি অঙ্গরাজ্য খুঁজে দেয়ার জন্য ন্যাশনাল গার্ড প্রধান লে. জেনারেল স্টিভেন ব্লামকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ হবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর সাথে জোটবাঁধা ৫৯তম রাষ্ট্র। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হয় ১৯৯৩ সালে-সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সদ্য স্বাধীন দেশগুলোকে ন্যাটো আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য বানানোর আশা দিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পার্টনার করা হয় তাদেরকে। পরে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা হয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই পার্টনারশিপের জাল। (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত ৩ নভেম্বর, ২০০৮)      &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;   উপরোক্ত পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে উপসংহারে বলা যায়, বুশ সরকারের আট বছরের এতসব কূটকৌশল ও অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রভাব সামনের সব বাজেটেই পড়বে। সরকারে যেই আসুক না কেন পেন্টাগনের এই রাক্ষুসী ভূমিকা থেকে কেউই বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। ফলত. নানান ভিশন দাঁড় করিয়ে আমেরিকার নাগরিকদের ট্যাক্স গুণতে হবে চক্রবৃদ্ধি হারে। যেমন হতে পারে, কমপ্লেক্স ২০৩০ ভিশন, ইউএভি রোডম্যাপ ২০৩০, আর্মির ভবিষ্যত যুদ্ধ পন্থা, যোগাযোগ বিভাগের ভিশন ২০৫০, পরিবেশ সুরক্ষা ভিশন ২০৫০  ইত্যাদি যার তালিকা কখনো শেষ হবার নয়। আর এই ব্যয়বহুল খরচের মাশুল দিতে হবে অন্ততঃ তৃতীয় বিশ্বকে অস্ত্র বিক্রি, তেল কব্জা, মানুষহত্যাসহ অজস্র কূটচক্রান্তের মাধ্যমে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;/span&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-8633439831052542501?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/8633439831052542501/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=8633439831052542501' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8633439831052542501'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8633439831052542501'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/11/blog-post.html' title='ওবামা কি সত্যি পারবেন পৃথিবীটাকে ‘চেঞ্জ’ করে ফেলতে?'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SRTKwza-PaI/AAAAAAAAACk/lreOVi0_brw/s72-c/obama.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-1108351283713653719</id><published>2008-10-23T09:01:00.000-07:00</published><updated>2008-10-23T09:18:19.992-07:00</updated><title type='text'>কুশিক্ষা যখন উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ করে</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SQCjgZI2wjI/AAAAAAAAACc/svW18P7AS3Y/s1600-h/600px-Education_-_Grad_Hat_svg.png"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5260384141667910194" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand; HEIGHT: 320px" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SQCjgZI2wjI/AAAAAAAAACc/svW18P7AS3Y/s320/600px-Education_-_Grad_Hat_svg.png" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;খুব পুরোনো একটা প্রবাদবাক্য নিয়ে আমার মতো সবাই বোধ করি স্কুল জীবনে ভাব-সম্প্রসারণ লিখতেন,‘দূর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য, সর্পের মস্তকে মণি থাকলেও সে কি ভয়ংকর নহে?’এরসাথে আরো একটি যোগ না করে পারছিনা ‘গুরুজনে করো নতি, সেবা করো কায়মনে।’এই লেখাটি শুরুর দিন (অক্টোবর ২২, ২০০৮) দৈনিক কাগজে আসা দুইটি খবর উপরোক্ত দুইটা প্রবাদ বাক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে তাঁরই বিভাগের ছাত্র/ছাত্রীরা নৈতিক স্খলনজনিত কারনে জুতা-পেটা করছেন, আরেকটি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তাঁর বাসভবনে সর্বশেষ হামলাকারী তাঁরই প্রিয় (!) ছাত্রদের জরুরী আইনে দ্রুত গ্রেফতার করানোর জন্য পুলিশের আইজিপি থেকে শুরু করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় পর্যন্ত হন্তদন্ত হয়ে তদবির করছেন।&lt;br /&gt;দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গুরুজনদের উপর হামলা আমরা এর আগে অনেক দেখেছি।এমনকি আহত ছাত্রদের দেখতে এসেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসিকে নিক্ষিপ্ত বালিশ, থুথু, অকথ্য গালিগালাজ ইত্যাদি মোকাবেলা করতে হয়েছে।নিঃসন্দেহে এসব খারাপ কাজ, এর কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ। কিন্তু এর সাথে আরো একটা বিষয় এড়ানো উচিৎ হবেনা, তাহলো কিছু কিছু শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের এত ঘৃণাই বা কেন?যে ছাত্ররা আজো কম শিক্ষিত প্রাইমারী স্কুলের কোনো শিক্ষককে দেখলে অতি আদবে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারেনা, সেই একই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচচ ডিগ্রীধারী পন্ডিতদের দিকে কেন ধেয়ে আসে? এর জন্য শুধু কি ছাত্রদেরই দোষ দিব নাকি দূর্জন বিদ্বানদের ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপও এসব চাপা ক্ষোভ বিস্ফোরণের একটি অন্যতম কারণ? &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;নীল, সাদা, হলুদ ইত্যাদি রঙে রঞ্জিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছদ্মাবরনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিভক্ত করে রেখেছেন যা দুনিয়ার অন্য কোন দেশের শিক্ষকেরা শুনলে শুধু অবাকই হন না, উলটো প্রশ্ন করে বসেন, ‘এও আবার কি করে সম্ভব?’ নিষিদ্ধ না থাকা যেকোন রাজনৈতিক দলের সদস্য যে কেউই হতে পারেন, প্রচারও করতে পারেন তার নিজস্ব মতাদর্শ-এটা তার নাগরিক অধিকার। এসব কোনটাই দোষের নয়, কিন্তু সমস্যা হল যখন কিনা কেউ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে বসে তার বেড়ে উঠা অতীতের গন্ডি ও বিশ্বাসের বাইরে আসতে পারেন না।বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারকে যদি আমি আমার প্রিয় রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তরটি বানিয়ে ফেলি তখনই সমস্যা দেখা দেয়।সেক্ষেত্রে আমি তো আমার পদের সম্মান রাখতে পারলাম না। তবে হ্যাঁ, মিডিয়া হাতে থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব! ঘোড়াকে যেমন আকাশে উড়ানো যায়, আবার ঈগলকেও পানিতে ডুবানো যায়।যাঁরা নিজেদেরকে বিশ্বজনীন মানবতাবাদী বলে সারাক্ষন মুখে ফেনা তোলেন, তাঁরা নিজেরা বোঝেনও না যে বিপরীতাদর্শের প্রতি তাঁদের একপেশে ফ্যাসিস্ট মনোভাবের কারনেই মানবতা সবচেয়ে বেশী ভুলন্ঠিত হয়। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচচশিক্ষা নিতে সম্পূর্ন অযৌক্তিকভাবে মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গোটা ভর্তি পদ্ধতিই যেখানে নতুন করে সাজানোর কথা শিক্ষাবিদরা বলছেন, সেখানে কি করে ভর্তি পরীক্ষার কিছুদিন আগে উচচমাধ্যমিক স্তরে বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে ২০০ নাম্বার করে থাকতে হবে বলে কিছু বিভাগ যোগ্যতা নির্ধারণের একটি মাপকাঠি বানায়? ছাত্রদের বৃহৎ একটি অংশের উপর কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের যেসব বিভাগসমূহ এই অবিচার করছে বা করতে যাচ্ছে সেগুলোর নাম পত্রিকায় এসেছে বাংলা, ইংরেজী, লিংগুয়েস্টিক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, লোক প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ। পাঠকেরা নিশ্চয়ই জানেন, যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করে ‘ও’ বা ‘এ’ লেভেলে ডিগ্রী নেয় তারাও বাংলা বা ইংরেজী বিষয়ে ২০০ নাম্বারের পরীক্ষা দেয় না।একই কায়দায় এসব ছাত্রদের উপর আপত্তিকর ওইসব শর্তসমূহ আরোপ না করায় ‘ক’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের দায়ী ব্যক্তিদের কেউ যদি ‘দূর্জন বিদ্বান’ বলে গালমন্দ করে প্রতিরোধ করতে আসে তাদেরকে কে ঠেকাবে? &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;‘সব ছাত্রদের সমানভাবে দেখা উচিৎ’ এটা সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়রা হরহামেশা বললেও অনেকের কার্যকলাপ ঠিক এর উল্টো। সর্বোচচ বিদ্যাপীঠে এমন শিক্ষকেরও প্রমাণ মিলে যাঁরা তাঁর একাংশ ছাত্রদের বিরুদ্ধে বখে যাওয়া আদু ভাই, ধাড়ি ছাত্রনেতাদের চেয়েও বেশী কথা বলেন।একটি নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ যখন অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন ঠিক সেই সময়ে নন-ইস্যুকে ইস্যু বানানোর মতলব, আর যাই হোক, নিশ্চয়ই ভাল বলা যাবেনা। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার অনূমোদিত যেকোন পদ্ধতিকে অস্বীকার করাতো আইন অমান্যেরই শামিল।ভর্তি পরীক্ষা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নির্ধারনের মাপকাঠি হয় তবে ঢাকা ভার্সিটির উচিৎ বুয়েটের অবিতর্কিত পদ্ধতি সম্মন্ধে জ্ঞানলাভ করা। বিআইটি বা বর্তমানে অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহও মোটামুটি একই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।দেশের সব ছাত্রদেরকে সমানভাবে মূল্যায়ন করায় এনিয়ে আজো তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তাছাড়া কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ব্যক্তিগত রুঢ আচরনের অভিযোগ থাকলেও বুয়েটের শিক্ষকেরা কোন সময়েই নিজেদেরকে লাল, সাদা, কালো, নীল, হলুদ ইত্যাদি আবরনে বৃত্তাবদ্ধ করে রাখেন নি।বলা বাহুল্য, এজন্যই বোধ হয় তাঁদেরকে কখনো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কোথাও দৌড়াতেও হয়নি। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;কমিউনিজম ও একনায়কতান্ত্রিক দেশ ব্যতিরিকে যেকোন দেশেই শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক মডেল বিদ্যমান। বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে দমন নয়, বরঞ্চ উৎসাহিত করাই হল গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার স্বীকৃত একটি মৌলিক উপাদান। নিজস্ব কালচারকে টিকিয়ে রাখতে জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিরন্তরভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে । তাদের জনপ্রিয় একটি শ্লোগান হল, ‘Celebrate your own festival (নিজের উৎসব নিয়ে আনন্দ করো)’। আমেরিকা ও কানাডাতে ক্যাথলিক স্কুল, জুইশ স্কুল, ফ্রেঞ্চ স্কুল, ইসলামিক স্কুল এমনকি তামিল স্কুলও দেখেছি। সেসব স্কুল থেকে পাশ করা গ্রাজুয়েটদের শর্তের মারপ্যাঁচ দিয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই এমন কোন হিংসাত্মক সিদ্ধান্ত নেয়না। আমেরিকার যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি মাস্টার্স করেছি, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে শুরু করে এর উদ্ধেশ্য পর্যন্ত প্রসপেক্টাসে স্পষ্টভাবে বিধৃত করা হয়েছে খ্রীস্টান আদর্শ প্রচারের মহৎ ব্রতের কথা।এমনকি প্রতিটি ক্লাসে ক্রুশবিদ্ধ যীশুর প্রতিকৃতি শোভা পেলেও কর্তৃপক্ষ কিছু মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য সুন্দর একটি মসজিদের ব্যবস্থা করতে ভোলেননি।মাল্টি কালচারিজম উৎসাহিত করতে কানাডায় বছরে একটি দিনকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ভিলেজ ফেস্টিভ্যাল’ বলেও অভিহিত করা হয়। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্ধেশ্যের দিকে না তাকিয়ে আমরা উক্ত বিভাগসমূহের সম্মানিত শিক্ষকদের মোটিভের দিকে তাকাতে পারি।ধরে নিলাম, তাঁরা তাঁদের বিভাগসমূহকে আরো আধুনিকীকরন করতে চাচ্ছেন। তার মানেটা কি? সেটি তো হওয়া উচিৎ ছিল পদ্ধতি আরো সহজ করে বেশী ছাত্রদেরকে কাছে টেনে নিয়ে আসা।কথা ছিল, সনাতনী গৎবাঁধা শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে ব্যবহারিক উন্নত শিক্ষায় ছাত্রদেরকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করা।পক্ষে কোন্‌‌ দেশের উদাহরন তাঁরা টানতে চাচ্ছেন?সেসব দেশের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র চীন ছাড়া তো হারাধনের অবশিষ্ট আর কেউ নেই। সবাই আজ বাস্তবতা স্বীকার করে ভিন্ন পদ্ধতির সৌন্দর্য্য শিখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টারে রাতদিন খাটছেন।আর আমাদের দেশে চলছে এর উল্টোটা! কি বিচিত্র পৃথিবী! &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;এবার দেখি, বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন মানুষের এই মৌলিক অধিকারটি নিয়ে কি বলে। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছেঃ&lt;br /&gt;‘২৮(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। (৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না। ২৯(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে। (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।’&lt;br /&gt;আর জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ বা ‘দ্যা ইউনিভার্স্যাল ডিক্ল্যারেশন অব হিউম্যান রাইটস’-র ২৬ নং অনুচ্ছেদে ১ থেকে ৩ নং ধারায় এভাবে বলা হয়েছেঃ&lt;br /&gt;Everyone has the right to education. Education shall be free, at least in the elementary and fundamental stages. Elementary education shall be compulsory. Technical and professional education shall be made generally available and higher education shall be equally accessible to all on the basis of merit. (অর্থাৎ, লেখাপড়া শেখা প্রত্যকেরই অধিকার।এটা হতে হবে বিনা পয়সায়, অন্ততপক্ষে প্রাইমারী শিক্ষাসমূহ। টেকনিক্যাল এবং পেশাগত শিক্ষা অবশ্যই সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে।আর উচচশিক্ষার দুয়ার সবার জন্য সমানভাবে মেধার ভিত্তিতেই নির্ণিত হবে।)&lt;br /&gt;Education shall be directed to the full development of the human personality and to the strengthening of respect for human rights and fundamental freedoms. It shall promote understanding, tolerance and friendship among all nations, racial or religious groups, and shall further the activities of the United Nations for the maintenance of peace. (অর্থাৎ, শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিত্ত্ব উন্নত করনের নির্দেশনা দিবে এবং সম্মানের ভিত্তিতে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা মজবুত করবে।প্রত্যকে দেশ, জাতি বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা পারস্পরিক বোঝাপোড়া, সহমর্মিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহ যোগাবে। জাতিসংঘের শান্তি বজায় রাখা কর্মসূচীতেও এটা উৎসাহ যোগাবে।)&lt;br /&gt;Parents have a prior right to choose the kind of education that shall be given to their children. (অর্থাৎ, ছেলেমেয়েদের যেকোন ধরনের শিক্ষা প্রদানের অধিকার পিতা-মাতাদের রয়েছে।) &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;পরিশেষে বলব, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এমন মানুষ নিশ্চয়ই লুক্কায়িত আছে, যারা চায় না বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাক। সারা দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়সমূহ উস্কে দিয়ে হিংসা, হানাহানি ছড়িয়ে এরা হয়তো ছাত্রদেরকে সারাক্ষন ব্যস্ত রাখতে চায়। আর যেকোন অন্যায়, জুলুমের পরিনতি যে কখনো ভাল ফল বয়ে আনেনা পাকিস্তানের স্বৈরশাসক মোশাররফের সাম্প্রতিক মাদ্রাসাবিরোধী জংগীদমন অভিযান তার বড় প্রমান। একই প্রক্রিয়ায় লালন-ভাস্কর্য, মাদ্রাসা ছাত্ররোধ ভর্তি ইত্যাদি ইস্যু সুপরিকল্পিতভাবে তৈরী করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে গ্লোবাল ষড়যন্ত্রকারীরা আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশকে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-র অংশীদার ও জংগী দেশ বানাতে মরিয়া হয়ে উঠছে। মাননীয় ভিসি ডঃ ফায়েজ যেমন তাঁর বাসা আক্রমনকারী দুস্কৃতকারীদেরকে আচ্ছামত শাস্তি দেওয়ানোর জন্য অস্থির হয়েছেন, ঠিক তেমনি তাঁর আরো দ্বিগুন-তিনগুন অস্থির হওয়া উচিৎ যেন একদল ছাত্র/ছাত্রীর মহামুল্যবান জীবন ও গোটা দেশ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি না খেলে। ব্যক্তিগতভাবে আমার সারা গোষ্ঠীর কেউ-ই মাদ্রাসায় লেখাপড়া না করলেও এই অবিচারের বিরুদ্ধে যেমন কলম ধরে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হচ্ছি, আর যাঁরা এর ভুক্তভোগী তাদের মনোবেদনা আঁচ করতে সংশ্লিষ্টদের খুব বেশী কষ্ট হওয়ার কথা নয়। গায়ের জোরে এরকম উদ্ভট সিদ্ধান্ত জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে চালাকি করে প্রকারান্তরে নিজেদের বুদ্ধির দীনতা প্রকাশ করার মাঝে কোন কল্যান নেই।‘করো নতি’ যাঁদের প্রাপ্য ছিল,তার বদলে সেসব উচচশিক্ষিত পন্ডিত শিক্ষকদেরকে যেন ছাত্ররা ‘ভয়ংকর’ বা ‘দূর্জন বিদ্বান’ আখ্যায়িত করে এড়িয়ে না চলে (ঠিক যেমনটি আমরা ‘মণি’ থাকা সত্ত্বেও সর্পকে এড়িয়ে চলি) সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-1108351283713653719?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/1108351283713653719/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=1108351283713653719' title='5 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1108351283713653719'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1108351283713653719'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/10/blog-post_23.html' title='কুশিক্ষা যখন উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ করে'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SQCjgZI2wjI/AAAAAAAAACc/svW18P7AS3Y/s72-c/600px-Education_-_Grad_Hat_svg.png' height='72' width='72'/><thr:total>5</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-518999977133947500</id><published>2008-10-10T03:13:00.000-07:00</published><updated>2008-10-10T03:18:51.901-07:00</updated><title type='text'>ফিনিক্স পাখি এবং দুই নেত্রী</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SO8q9RuPxXI/AAAAAAAAACU/yfmlBbSkyBw/s1600-h/Phoenix50qImari269h.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5255466522382419314" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SO8q9RuPxXI/AAAAAAAAACU/yfmlBbSkyBw/s320/Phoenix50qImari269h.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ফিনিক্স পাখির সাথে দুই নেত্রীর তুলনা করা হচ্ছে। প্রাচীন গ্রীক পূরা কাহিনী অনুসারে ফিনিক্স হল এমনই পবিত্র ‘অগ্নি-পাখি’ যার জীবন চক্র আবর্তিত হয় হাজার বছর ধরে। মনোলোভা স্বর্ণের লেজ এবং লাল, গোলাপী ও নীল রঙের পালক দ্বারা আবৃত ময়ুর সদৃশ এই পাখির প্রকৃত অর্থে কোন মৃত্যু নেই। হাজার বছর পূর্তি অর্থাৎ যমদূত আসার ঠিক আগেই দারুচিনি দিয়ে ফিনিক্স নিজের বাসা নিজেই বানিয়ে তা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আর নির্মমভাবে দগ্ধীভূত এই পাখি ও তার বাসার ভস্ম থেকেই জন্ম নেয় নতুন ডিম্বের। প্রাণ পায় নব জীবনের, শুরু হয় আবারো জাতিশ্বর ফিনিক্সের অবিনাশী যাত্রা। বেঁচে থাকে পূর্ব জনমের আয়ুস্কালের মতই। কাহিনীমতে, ফিনিক্স পাখিকে হিংসুকেরা আঘাত করলে এর পালক থেকেও জন্ম নেয় নতুন প্রাণ।এদের চোখের পানিও বদলে দিতে পারে কারো জীবন। অগ্নি ও পবিত্রতার বদৌলতে এরা মৃত্যু পথযাত্রীদেরও সাময়িক জীবন দেয়ার ক্ষমতা রাখে। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     প্রবীন রাস্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান দুই নেত্রীকে কাল্পনিক অসাধারন ক্ষমতাধর এই পাখির সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর কাছে নিশ্চয়ই  যুক্তি রয়েছে। এই উপমহাদেশের কথাই ধরুন। ইন্দিরা গান্ধীর ভস্ম থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন ফিনিক্স রাজীবের। রাজীবের পালক থেকে সোনিয়া, ‘অগ্নিমুখ’ থেকে এল রাহুল। জুলফিকার ভুট্টোর ‘গলার রশি’ ধরে থেকে জন্ম হলো ফিনিক্স পাখি বেনজীরের। তাঁর রক্ত ডিঙিয়ে চলে এল আসিফ জারদারী। জন্ম হল নতুন ফিনিক্স বিলাওয়ালের। বাপের সাথে মিলিয়ে নাম ছিল ‘বিলাওয়াল জারদারী’। কিন্তু ফিনিক্স পাকাপোক্ত করে নামও পালটে রাখা হল ‘বিলাওয়াল ভুট্টো’। শ্রীলংকার ফিনিক্সজনক হলেন সলোমন বন্দরনায়েকে। শত্রুর আঘাতে তাঁর ‘পবিত্রাগ্নি’ থেকে চলে এলেন একসাথে স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে এবং মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গে। বাংলাদেশের অতীত ও ভবিষ্যত ফিনিক্স পাখিদের কথা সবার সামনে পরিস্কার থাকায় আলোচনা নাইবা করলাম।    &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     ইতিহাসে সূত্র ধরে আপনাদের উপরো আঘাত এল । দুই দলেই জন্ম নিল কিছু ইঁদুরের। কেঁপে ঊঠছিলেন আপনারা। ভাবতেও পারেননি এত্থেকে আবার জেগে উঠবেন। কিন্তু ওই যে ফিনিক্স পাখি, আঘাত এলে আবার নতুন করে গজায়! আপনাদেরকে নিঃশেষ করতে পারেনি। তরবারীর নীচে মাথা রেখে কলমযোদ্ধারা জনতাকে জাগিয়ে দিয়ে জিতিয়ে দিল। বাংলার মানুষেরা প্রানভরে ভালবাসল। কিন্তু আপনারা কি নতুন করে জন্ম নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন? সমগ্র দেশের নেত্রী হয়েও বিদেশে এসে সারাক্ষন যখন ‘দল’, ‘দল’ করেন, যারা  বিদেশে বসে ‘দেশ’,’দেশ’ করে তাঁরা বড্ড অসহায় হয়ে পড়ে। আর ফখরুদ্দিন সাহেব তো আপনাদের দুইজনকে পেঁচিয়ে জাতিসংঘের সাধারন সভায় ২৬ সেপ্টেম্বরে গর্বের সাথে স্বদেশ সম্মন্ধে বললেন, ‘দশকের পর দশক ধরে চলে আসা দুর্নীতি দেশের গনতন্ত্র ও অর্থনীতিকে গ্রাস করেছিল’। গতবছর বলেছিলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে দুর্নীতির দুষ্টচক্রে গণতন্ত্রের উপাদানগুলো আবদ্ধ ছিল’। নিজের দেশ সম্মন্ধে সেই দেশেরই শীর্ষনেতৃবৃন্দের এরকম ‘নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মার্কা’ টাইপের কথাবার্তা  পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে পড়ায় বিদেশীদের নিকট থেকে মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজি আমরা। ‘কার আমলে বেশী দূর্নীতি’ এ নিয়ে ঝগড়া বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে এক লাফ উপরে আর দুই লাফ নীচে নামাতেই জনম শেষ হয়ে যাবে, সমাধান মিলবেনা। যাহোক, পারবেন কি দলীয় গন্ডীর উর্ধ্বে উঠে মনটাকে আকাশের মত উদার করে সব মানুষকে ভালবাসতে? দলতো অনেক করলেন, দেখলেনও অনেক।জেনে গেলেন দৃশ্য-অদৃশ্য শক্তির নানান খেলা। আরো জানলেন, কারা আপনাদের সত্যি সত্যি ভালবাসে আর কারা আপনাদেরকে ভালবেসে চালাকি করে। জনতার কাতাড়ে না গিয়ে কোন্‌ শেকড়হীনেরা নিজেদের অস্তিত্ব বা গুরুত্ব বাড়াতে আপনাদের ব্যবহার করে? ঘৃণা ও বিভক্তির রাজনীতি করে। তাই বলে বলছিনা দল ছেড়ে দিতে। দলই আপনাদের পরিচয় বাড়িয়ে দিয়েছে, সত্য। বলছি মনটাকে অনেক বড় করতে। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     ধরুন, আপনি  ঢাকা থেকে বিমানে চড়ে বিদেশ যাত্রা করছেন। জিয়া থেকে একটু উপরে ঊঠেই হয়তো আপনি খোঁজার চেষ্টা করেন আপনার প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নয়াপল্টন বা বঙ্গবন্ধু এভিনিঊয়ের হেড অফিস। আর একটু উপরে উঠে দেখতে চান ঢাকা শহর, পরে খুঁজে ফেরেন বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষা আপনার প্রিয় মেগাসিটিকে। এক সময় হয়তো হাতড়ে খোঁজার চেষ্টা করেন সমগ্র বাংলাদেশটাকেই। সেটিও একসময় দৃষ্টির সীমানায়  হারিয়ে যায়। এবার খোঁজেন উপমহাদেশ, তারপর এশিয়া। পার হয়ে যান একসময় প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ইত্যাদি। এই আপনাকেই যদি মহাকাশের অভিযাত্রী বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় মহাশুন্যের কোন গ্যালাক্সিতে, এবার আপনি  দেশ মহাদেশের ঊর্ধ্বে উঠে খুঁজতে চাইবেন  সমগ্র পৃথিবীটাকে। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;   ওবামা ও ম্যাককেইনের নির্বাচনী প্রচারনায় সারা আমেরিকানদের সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করবার অভিপ্রায়ের কথা মনে পড়ছে। তাঁদের কথা আপনাদের মুখ দিয়ে বলায়েই না হয় আজকের আলোচনা শেষ করব। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     কেন এমন হলো?&lt;br /&gt;     অন্তর্নিহিত রহস্য পূর্বে আঁচ করতে না পারলেও এটি ছিল গতানুগতিক হেঁয়ালী, একরোখা, পশ্চাদমূখী ও স্মরণশক্তিহীন বা ‘পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় অপরিবর্তনশীল’ রাজনীতির লৌহ কপাটে আত্ম-উপলদ্ধির করাঘাত। সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন ও  মেরুদন্ডহীন মনোবৃত্তির প্রতি প্রচন্ড বিদ্রোহ। দলীয় শৃংখলে আবদ্ধ হিংস্র ও বর্বর মানুষ পেটানো রাজনীতির বিপরীতে অমিয় সুবাতাসে দেশটাকে শান্তি ও উন্নয়নের মরু উদ্যানে পরিনত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। স্তাবকদের শঠতা, মিথ্যা কুহেলিকা ছিন্ন করে প্রখর দৃষ্টি নিয়ে শত্রুকে চিনে সম্মুখপানে চলার প্রতিযোগিতা। মোদ্দাকথা, ব্যারিস্টার রফিকের ভাষায় ‘চোর-বাটপারদের’ চিরতরে কবর দেয়ার সাহসী চেতনাই যেন হয় ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষা।     &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;    দেশের মানুষই এত্থেকে কিন্তু আপনাদেরকে উদ্ধার করল, দল করেনি। সাধারন মানুষ নামের অজেয় শক্তি এই মূহুর্তে অনেককেই মাইনাস করে দিল, আপনাদেরকে করেনি। সাথে আরো একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে গেছে। সেটা হলো প্রতিটা রাজনৈতিক দলই এদেশের মাটি থেকেই উৎসরিত। প্রতিপক্ষ দলসমূকে কথায় কথায় ‘অমুক দেশের দালাল’, ‘তমুক দেশের আলাল’ বলে যে গালমন্দ করেন, কই তাঁরা তো কেউই আপনাদের উদ্ধার করতে এল না! বরঞ্চ দৃশ্য-অদৃশ্য বিনি সূতোর মালায় তাঁরা কি করেছে তা তো সাব-জেলে বসেই জেনেছেন নিশ্চয়ই। এদেশের সাধারন জনতাই আপনাদের উদ্ধার করেছে। দয়া করে তাদের ভালবাসাকে আর ফিরাবেন না।          &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;    দুই নেত্রীর মুখ চাওয়া-চাওয়ির কথা বলতেই ‘অসভ্য’ কথা বলার মহড়া আবার শুরু হয়ে গেছে। সংসদের বাইরে ‘পলিসি সামিট’ এই মূহুর্তে প্রয়োজন রয়েছে কিনা সে প্রসংগ বাদ দিয়েই বলতে পারি যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা গলদঘর্ম হয়ে যাবেন কিন্তু এরকম কোন সুশীল দেশ খুঁজে পাবেন না যেদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ‘হ্যান্ডশ্যাক’ পর্যন্ত হারাম। কংগ্রেস-বিজেপি, পিপিপি-পিএমএল, মালয়েশিয়ায় বিএন-কাআদিলান রাকায়েতসহ দুনিয়ার সাপে নেউলে সম্পর্ক অন্যান্য দলের দিকে তাকালেও হিসাব মেলেনা। কানাডার কনজারভেটিভ-লিবারেলদের মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবান দেখলে বাংলাদেশের সংসদের দৃশ্য সহজেই চোখে ভাসে। অথচ, পার্লামেন্ট ভাঙার আগে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের বাসভবনে আলোচনা করতে এসে বিরোধী দল নেতা স্টিফেন ডিওনের হাস্যরসাত্মক ছবি আমাদের জন্মভূমিতে কল্পনায়ও কেন পাইনা?&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;      এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা!&lt;br /&gt;     অতিথি আপ্যায়ন, এমনকি শত্রুকেও পাশে স্থান দেওয়ার হাজার বছরের সমৃদ্ধ কালচারের দেশে কোন্‌ স্তাবকেরা আপনাদেরকে মাটি নয় যেন ‘ধাতব পদার্থের তৈরী’ অতি দানবীয় রূপে রুপান্তরিত করে দিলো? অথচ, বার বার প্রধানমন্ত্রী ও মানুষের দৃষ্টিতে লৌহ মানবী হয়েও চল্লিশোর্ধ ছেলেকে জড়িয়ে পাগলের মত চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দেন, নবজাতক নাতী-নাতনীদের দেখার জন্য বা সদ্য প্রসূতা মেয়েকে অপত্য স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য পাগল হয়ে যান! এর উত্তর আগে  জানলেও এখন বোধ করি আর অজানা নেই। আব্দুলদের মাইনাস করার মত আপনাদেরকে এই বন্দনা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। লন্ড্রী করা সাদা জামা-কাপড় পড়ে এসব মিডিয়া বাঘদের সুফী সুফী কথাবার্তা জাতি অনেক শুনেছে। এবার লুটেরা বা ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান পোপ’ নয়, ইতিবাচক মনোবৃত্তির সত্যিকার দেশপ্রেমিকদের জাতি দেখতে চায়। প্রতিদ্বন্দ্বীতার চরম মূহুর্তে মাত্র চার হাজার মানুষের প্রানহানি  নাইন ইলেভেনের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজনীতি বাইরে রেখে ওবামা ম্যাককেইন এক মঞ্চে উঠতে পারলেও, লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের দিনটিতেও আপনারা এক হতে পারেন না।  &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;    আপনারা কি পারবেন না ভবিষ্যত প্রজন্মের দিকে চেয়ে শুধু সামনের দিকের কথাই বলতে?  অনেকযুগ তো পেরিয়ে এলেন। শুধু পেছনের দিনের কথা বলে জাতি কি কিছু পেয়েছে? চিরদিন বিভক্তি আর ঘৃণা নিয়ে কোন জাতি বাঁচতে পারে? কোন দেশের রাজনীতিই ‘অতীত’ নামক কুপমুন্ডকতা এভাবে জগদ্দল পাথরের  মত ঘাড়ে চেপে বসে জাতিকে যুগের পর যুগ উস্কে দেয়না। আমেরিকায় ডেমোক্রেট রিপাবলিকান মোটামুটি সব প্রেসিডেন্টের ঝুলিতেই একাধিক কেলেংকারীর কলংক থাকলেও সমালোচনার তীর ঠিক আগেরজনের বেশী অতিক্রম করেনা। আর আমাদের দেশে আগেরজন তো দূরে থাক অশ্রাব্য বাক্যবানের শূল কারো জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে নিয়েও চলে। পুরাতন ফিনিক্সদের স্ব-স্ব অবস্থানে রেখে দিন, তাঁদের নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না। এ বছর ৪ এপ্রিল আমেরিকার কালোদের প্রবাদপুরুষ মার্টিন লুথার কিং-এর ৪০ তম হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে প্রার্থনা সভায় নিজের বাবার নির্মম হত্যাকান্ড স্মরন করে তার ছেলে চল্লিশ বছর পিছনে ফিরিয়ে না তাকিয়ে চল্লিশ বছর সামনের দিকে তাকাতে আমেরিকাবাসীদের আহবান জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘পুরোন কথা তুলে এনে কি লাভ, চল্লিশ বছর পর আমরা দুনিয়াতে কি দিব তাই নিয়েই ভাবুন।‘ &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;    কি চাই এবার?&lt;br /&gt;    তাই বলছিলাম, আশার কথা শোনান। জাতিকে ভিশন ও  বাস্তবভিত্তিক  পরিকল্পনা দেখান। রূপকথার গল্পের ফুলঝড়ি বা দুয়োরানী-সুয়োরানীর শোকগাঁথা কল্পকাহিনী নয়। সশ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আপনাদের কেউ বলছেন ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মধ্যআয়ের দেশে পরিনত করবেন, অত সালের মধ্যে নিরক্ষতামুক্ত দেশ উপহার দিবেন, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন ইত্যাদি।কিন্তু কিভাবে? সেটি নিয়ে ন্যুনতম কোন গবেষনা তো আপনাদের দলের ওয়েবসাইট বা কোথাও চোখে পড়ল না! &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;     সবার আগে ঠিক করুন ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা ‘কৌশলী’। বাংলার মানুষদের মনন , ঐতিহ্য ও মাটির গন্ধে মিশে আছে এবং গ্লোবাল পলিটিক্সের বর্তমান ধারা নখদর্পনে এমন আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনস্ক  মানুষদের নিয়ে গড়ে তুলুন ‘থিংক ট্যাংক’। আগে থেকে আপনাদের সেসব আছে কিনা জানিনা। থাকলে তা পালটিয়ে ফেলুন। কারন, তাঁরা যা দেবার, জাতিকে তা দিয়ে ফেলেছেন। রাস্তায় শবের উপর বিভীৎস নৃত্য ও ওয়ান ইলেভেনের ধারনা কয়েক বছর আগে কানাডিয়ান আইনজীবি উইলিয়াম স্লোন জানলেও আপনারা কিন্তু তা জানেননি। দেশজ থিংক ট্যাংক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডালপালা আপনার পাশে থাকলে আগে থেকেই ইংগিত পেতেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট স্টেটের পলিসি ও প্ল্যানিং ডিরেক্টর রিচার্ড হায়াস এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, ‘Of many influenc on US foreign policy formation, the role of think tank is among the most important and least appreciated’।      &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;    ম্যাককেইনের দলীয় সম্মেলনে দেয়া ভাষন দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করার ওয়াদা প্রথমেই আপনাদেরকে দিয়েছিলাম। ওবামার কথাটাও এমনি ছিল। এবার সেটি কল্পনায় আপনাদের দুজনের স্ব স্ব মুখ থেকে পৃথকভাবে না হয় শুনে নেই! ‘বাংলাদেশীরা এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে আর বিষোদগার দেখতে চায় না। দেশের দুই দলের সদস্যদের সাথেই কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। আমাদের মূল সমস্যাটা কোথায় তা আমি জানি। আর এও জানি নিরপেক্ষভাবে দলের উর্ধ্বে ঊঠে কিভাবে এর সমাধান করতে হয়। আসুন, আমরা সব দলের মধ্যকার ভাল ভাল ধারনাগুলো কাজে লাগাই। আমরা সবাই এক স্রষ্টার বান্দা, সবাই বাংগালী।এই বাংলাদেশের জন্যই আমি যুদ্ধ করেছি। আর এবার আমি ঠিক আপনার (অর্থাত দেশের মানুষের) জন্যই লড়ব’। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://www.dailynayadiganta.com/2008/10/10/fullnews.asp?News_ID=107826&amp;amp;sec=6"&gt;*দৈনিক নয়াদিগন্ত ১০ই অক্টোবর, ২০০৮ এ ছেপেছে &lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-518999977133947500?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/518999977133947500/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=518999977133947500' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/518999977133947500'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/518999977133947500'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/10/blog-post_10.html' title='ফিনিক্স পাখি এবং দুই নেত্রী'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SO8q9RuPxXI/AAAAAAAAACU/yfmlBbSkyBw/s72-c/Phoenix50qImari269h.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-8792615959565608541</id><published>2008-10-04T17:51:00.000-07:00</published><updated>2008-10-06T16:54:55.390-07:00</updated><title type='text'>শুরু হলো পথ চলা</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOgPvWApJSI/AAAAAAAAACM/oYvTOaPf8-A/s1600-h/ROSE%2520FLOWER-2.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5253466271364228386" style="FLOAT: right; MARGIN: 0px 0px 10px 10px; CURSOR: hand" alt="" src="http://1.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOgPvWApJSI/AAAAAAAAACM/oYvTOaPf8-A/s320/ROSE%2520FLOWER-2.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt; &lt;span style="font-size:130%;"&gt;শরতের শিশির ভেজা আজকের সকালের আকাশও মেঘহীন। ম্যাপল ও পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে ঝকঝকে উত্তাপহীন এক ফালি সরু রোদ ওর চোখমুখে এসে চিকচিক করছে। ঠিক সময়ে আসা স্কুল বাসের সামনে ওর সমবয়সী অনেকের সাথেই পরিচয় করিয়ে দিলাম। শক্ত করে ধরে রাখা কচি হাতটা ছেড়ে দিতেই বুকের ভেতর কোথায় যেন খচখচ করে উঠল। ওর মা এ পর্যন্ত তিনবার চোখ মুছেছে। ভেতর থেকে বলা হল জুনিয়র কিন্ডার গার্টেন স্টুডেন্টরা আগে উঠবে। লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে সাদা মহিলা ড্রাইভারকে বললাম, ‘হার নেইম ইজ সামারাহ্‌, শি ইজ এ ব্র্যান্ড নিউ জে.কে স্টুডেন্ট’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামারাহ্‌ বেড়ে উঠছে। আজ ওর জীবনের প্রথম শিক্ষালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু। সপ্তাহ খানেক ধরে উত্তেজনায় ছটফট করছে সে। যেদিন স্কুলব্যাগ কিনে দিলাম এক মূহুর্তের জন্যও কাঁধ থেকে সরেনি। আয়নার সামনে গিয়ে বারেবারে দাঁড়ায়। এপাশ ওপাশ ঘুরে ফিরে দেখে। অনাবিল আনন্দ ও উদ্দীপনায় রাতে ঘুমাতেও পারেনি। ব্যাগের ভিতর কি কি ভরবে, পানির বোতলটা কোন পাশে থাকবে, খাবারইবা কিভাবে রাখবে, এই ব্যাগের সাথে ক্লাসমেটের আর কারো ব্যাগ যদি মিলে যায় তবে চিনবে কেমনে, টিচারইবা ব্যাগটি দেখে কি বলবে, এরকম কত যে নিষ্পাপ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছি আমি! বিরক্ত হইনা। আমার অফিস-ব্যাগ যেইখানে রাখি ঠিক তার পাশেই ওর স্কুল-ব্যাগটা রেখে স্থির নয়নে অবলোকন করে বারবার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক’দিন আগে বাবা ও ছেলেকে নিয়ে চমৎকার একটা এটাচমেন্ট ই-মেইলে কে যেন পাঠিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বারান্দার রেলিং-এর উপরে একটি কাককে দেখিয়ে বাবা তাঁর তরুন ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘মাই ডিয়ার সান, বলতো ওটা কি?’&lt;br /&gt;ছেলের সহজ উত্তর, ‘কাক, বাবা’&lt;br /&gt;একই প্রশ্ন আবারো, ‘প্রিয় বৎস, ওইটার নাম কি?’&lt;br /&gt;‘বললাম তো কাক, বাবা।‘&lt;br /&gt;বাবা আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘কি নাম পাখিটার?’&lt;br /&gt;‘তুমি কি শুনছো না? বললাম তো কাক’&lt;br /&gt;আবারো, ‘পাখিটার নাম কি যেন?’&lt;br /&gt;পিতার প্রতি ছেলের এবার বিরুক্তি চরমে। বলে, ‘তোমাকে আমি আর কতবার বলব, এটা কাক, এটা কাক, কাক, কাক, কাক, কা...ক, কা....ক, কা........’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা এবার ছেলেকে ডাকেন। বেডরুমে আদরের ছেলেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর পুরোনো দিনের ডায়েরীর পাতা উল্টিয়ে দেখান। ওর বয়স যখন তিন বছর, বারান্দার ঠিক সেই স্থানটিতেই একটি কাক বসেছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলে আজকের মতই পিতার কাছে জানতে চেয়েছিল ‘ওইটা কি, বাবা?’&lt;br /&gt;‘কাক, মাই ডিয়ার সান’, বাবার উত্তর।&lt;br /&gt;ছেলে বাবাকে বারবার একই প্রশ্ন করে চলে। একবার, দুইবার, তিনবার নয়, ছাব্বিশ বার। বিরুক্তিহীনভাবে বাবা&lt;br /&gt;প্রতিবারই ছেলের প্রশ্নের উত্তর অবলীলায় সঠিকটাই দিয়েছেন। শুধু তাই নয় প্রতিবারই ছেলেকে কোলে তুলে গালে একটি করে চুমোও।&lt;br /&gt;বাবা আজ ডায়েরীতে লাল কালি দিয়ে বড় বড় করে লিখলেন, ‘এই রিটায়ার্ড বয়সে বিশ বছরের ছেলে তাঁর সেই প্রশ্নের উত্তর তিনবারও দিতে পারল না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি সামারাহ্‌র দিকে তাকিয়ে ওর মত করে ভাবার চেষ্টা করি। চুপচাপ ওর কান্ডগুলো পরখ করি।&lt;br /&gt;‘বাবা, আমি কিন্তু অনেক বড় হয়ে গেছি’।&lt;br /&gt;জিজ্ঞেস করি, ‘কত বড় হয়েছো, মা? আমার সমান?’&lt;br /&gt;‘না, তোমার চেয়ে একটু ছোট। আমি তো আর বেবি না, আমি হলাম বিগ গার্ল, সাওদা হল বেবি’। ঈশারা করে ওর এক বছর বয়সের বোন সাওদাকে দেখায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্কুল বাসে চড়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কল্পনা করছে কার্টুন বোঝার পর থেকেই। ‘আমি কিন্তু তোমার গাড়ীতে চড়ে যাব না। বাসার সামনে যে স্কুলবাসটা আসে, ওইটাতেই যাব। আর হ্যাঁ, বাসের ভিতর থেকে তোমাদেরকে ‘বাই’ দিব। তোমরা কিন্তু আমার সাথে আসবা না। ঠিক আছে।‘&lt;br /&gt;আমি বলি, ‘ঠিক আছে। তুমি তো আমার বড় মেয়ে!’&lt;br /&gt;‘আর শোনো, তোমরা আমার জন্য ওয়েট করবা। স্কুল থেকে যখন ফিরব, তখনি একসাথে বাসায় আসব, তার আগে না কিন্তু, ও.কে। আচ্ছা, আমার জন্য তোমাদের মন খারাপ হবে না? সাওদা তো আমাকে মিস করবে’।পাকামী করে আরো বলে, ‘কিন্তু কি আর করা! আমাকে তো স্কুলে যেতেই হবে। তাই না?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এদেশে চার বছর বয়স থেকে জুনিয়র কিন্ডার গার্টেন স্কুলে যাওয়ার নিয়ম। বছরে মোট দুইটি স্কুল সেশন। শরৎ (Fall) শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে আর শীতেরটা (Winter) শুরু জানুয়ারী । গ্রীষ্মে (Summer) না গেলেও চলে। জুনিয়র কিন্ডার গার্টেনে নতুনদের ভর্তি হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতে। জন্ম তারিখ যদি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শেষদিনেরও কোন এক দিনের মধ্যে পরে, তবুও সে ওই সেশন ধরতে পারবে, যদিও তার বয়স চার বছরের কম। মাত্র ছয়দিনের জন্য সামারাহ্‌কে পরের সেশন থেকে যেতে হচ্ছে। অবশ্যি পাশের ইসলামিক সেন্টারে আমরা ওকে আগেই দিয়েছি। আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা করে সপ্তাহে চারদিন আরবী শেখে। বাংলাদেশী একজন ছাত্রও নাই, উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের শিশুরাই ওর ফ্রেন্ড। প্রথম দিকে আশপাশে থাকতে চাইতাম।‘পার্সোনালিটি’তে সম্ভবত খুব আঘাত লাগত। ‘বড়’ দাবী করে আমার প্রস্থান নিশ্চিত হয়ে তবেই ও ওস্তাদের কাছে ফিরত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি আমার শৈশবে সাড়ে চার বছর বয়সের জীবনের স্মৃতি হাতড়াতে থাকি। এমন অনুভূতি কি হয়েছিল? ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের সিটিজেন মেয়ের তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক বাবার জীবনে এরকম অনুভূতি কি হয়েছিল? না হয়নি। গ্রামে আমাদের বাড়ীর গা লাগানো মাদ্রাসা। মামা-খালাদের সাথে কবে যে খেজুর পাতার উপর বসে ছাত্রজীবন শুরু হয়ে গিয়েছিল মনেই নেই। মাদ্রাসা থেকে চার বছর পর পালিয়ে গেলাম প্রাইমারী স্কুলে। উদ্দেশ্য প্রাইমারী স্কুলের ফার্স্ট বয়কে টপকানো। সহপাঠিদের টিটকারী ‘মাদ্রাসায় ফার্স্ট হওয়া খুবই সহজ, প্রাইমারীতে গেলে পারবা না’! সেই যে শুরু হয়ে গেল আর থামেনি পথ চলা। ব্যাক-প্যাক, বাথরুম ট্রেইনিং, লাঞ্চ-ব্যাগ, হাইজেনিং ট্রেইনিং সেগুলো স্বপ্নেও ছিলনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্কুল অফিসিয়ালি শুরুর আগে কর্তৃপক্ষ ছাত্র/ছাত্রী সবাইদের একদিন ডেমো দেন।আমরা প্যারেন্টরা ক্লাস রুমে বসে দেখলাম ক্লাস টিচার কিভাবে পড়াচ্ছেন। কাঁচি দিয়ে পেপার কাটা, ক্রেইয়ন দিয়ে ছবি আঁকা, গ্লু দিয়ে কাগজ লাগানো, টবে সানফ্লাওয়ারের বীজ রোপন ইত্যাদি। কার্টুন ও গানের তালে তালে বর্ণমালার পরিচয় দিতে গিয়ে দেখলাম ভীষন মনোযোগী তরুনী টিচার যেন স্টুডেন্টদের চেয়েই বেশী নাচছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকদিন ছিল ‘প্যারেন্ট-টিচার-স্টুডেন্ট’ সিটিং। এটা ঠিক ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে। মেয়েকে নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন ও পরামর্শগুলোই মূলতঃ টিচারের সাথে শেয়ার করা।তিনি আমাদেরকে অভয় দিয়ে বললেন, ‘সিনিয়র স্টুডেন্টরা ভেরী কো-অপারেটিভ। তারা ওদের খুব হেল্প করবে। এক একজনকে বাস থেকে সোজা নিয়ে আসবে ক্লাস রুমে। এভাবেই তাদের কাজ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চিন্তা করোনা’। সামারাহ্‌র ক্লাস টিচার মিস পিকুলা লাঞ্চ ব্যাগ, ব্যাক-প্যাক, এক্সট্রা প্যান্ট-শার্ট, জুতা (দূর্ঘটনা সামাল দেয়ার জন্য স্কুল থেকে পরামর্শ দেয়া হয় কাছে রাখতে) ইত্যাদি রাখার জন্য প্রত্যেক ছাত্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত ক্যাবি আমাদের দেখালেন । তিনি একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে লিখতে বললেন মেয়ের যেসব দিকটা আমাদের ভাল লাগে সেসব। কাগজটা হাতে নিয়ে একটু ভাবি। এমন লোককেও জানি প্রথমদিনেই হেড টিচারের কঞ্চির কষাঘাত আমাদের গ্রামের অনেককে আর স্কুলমূখী করতে পারেনি। সকাল ৯ টা থেকে একটানা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভিন্ন দেশের সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে সামারাহ্‌র প্রথম জীবনে ছন্দময়তা আসবে তো? অস্থির হয়ে যাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কানাডার স্কুলিং সিস্টেম বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রত্যেক বোর্ড যে একই নিয়ম মেনে চলবে তা কিন্তু নয়। অনেক জায়গায় জে.কে হাফ-ডে’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। কিন্তু আমাদের অঞ্চলে ফুল-ডে। পার্থক্য হল প্রত্যেক দিনের বদলে ফুল ডে ওয়ালাদের ক্লাস হয় সপ্তাহে মাত্র দুইদিন প্লাস দুই সপ্তাহে এক শুক্রবার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮। সামারাহ্‌র স্কুলের যাওয়ার চুড়ান্ত দিন। আগের রাতেই ওর মা যত্নসহকারে মোটামুটি প্রস্তুতিপর্ব সেরে রেখেছে। এখন শুধু স্যান্ডউইচ বানানো বাকি। খুব ভোরে ঘুম থেকে ডেকে উঠালাম। মনে হয় রেডী হয়েই ছিল। ধরমর করে উঠে বলে ‘আজ আমার স্কুল?’ বলি, ‘হ্যাঁ, আজ তোমার স্কুল’। ‘আমি বাসে করে যাব না?’ আমি বলি, ‘হ্যাঁ। তুমি বাসেই যাবা, মা।‘&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ সামারাহ্‌ স্কুলে যাবে। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আজ মনে পড়ছে ২০০৪ সালের জানুয়ারির ৫ তারিখ। প্রচন্ড শীত, হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা। মিশিগানের আকাশ পরিস্কার। আগের রাতে মুষলধারায় বরফ পড়েছে। ফজরের নামাজ শেষে বাম দিকে সালাম ফেরাতেই ফোন রিং। এমন অসময়ে ফোন? ধরতেই ওপার থেকে হেনরীফোর্ড ক্লিনিকের মিডওয়াইফ রোস্কির কন্ঠ। ‘তোমার স্ত্রীকে এখনই নিয়ে আসো। আজকেই বেবি আউট করব আমরা।‘&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডিঊ ডেট পার হওয়ার তিনদিন পরও পেইন না উঠায় অনাগত বেবির কোন ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্যই তাদের এই পরিকল্পনা।ওর মা তখনো নামাজ পড়েনি।ওজু করছে। ফোনের কথা কিছুই বলিনা। চুপচাপ বসে থাকি। মিডওয়াইফের পরামর্শ অনুযায়ী আগেই একটা ব্যাগ মোটামুটি গোছানো আছে। ওর নামাজ শেষে বললাম, ‘ব্যাগটা নাও, হাসপাতালে যেতে হবে’। চমকে উঠে ভয়ার্ত কন্ঠে ও বলে, ‘কেন?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গাড়ীর ইমার্জেন্সী লাইট অন করে ফ্রি ওয়ের পাশ ঘেঁষে বিকল্প পথ ধরে ধীরে ধীরে ড্রাইভ করি। তুষারপাতের দরুন রাস্তাটি বেশ পিচ্ছিল। ছেলেপুলেরা থোকা থোকা সাদা বরফ দিয়ে রাস্তার দু’পাশে কৌতুক করে ‘পোলার বিয়ার’ বানিয়ে রেখেছে। সূর্যের নিস্তেজ ও মায়াবী রোদ বরফকণার উপর আছড়ে পড়ে সকালটাকে বেশ মনোরম সাজে সাজিয়েছে। আর আমি ড্রাইভ করছি নতুন জীবনের সন্ধানে। এক মায়ের পেটফুঁড়ে উৎসরিত হবে আরো একটি তাজা প্রাণ! কল্পনার সমুদ্রে সাঁতাড় কাটি আমি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রায় পনের মিনিট পর ডেট্রোয়েট হেনরীফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হলাম। বাচচা-কাচচা হওয়ার সময় বা পরবর্তী সবচেয়ে দূর্দান্ত নিদ্রাহীন দিন-রাতগুলোতে দেশে যেখানে পুরুষ মানুষদের খবরই থাকেনা, সেখানে পরবাসী মানুষগুলোর প্রতিটা মূহুর্তই যেন কাটে চরম ব্যস্ততা, শঙ্কা ও উদ্বিগ্নতায়।চাইল্ড বার্থ ক্লাসে তাই ইনস্ট্রাক্টররা বলেন, প্রেগন্যান্ট শুধু মাম্মি নন, ড্যাড্ডিও। ‘মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত কথাটা’ কেন যে বলা হয়েছে তার প্রমাণও সহজেই মেলে। সন্তান প্রসববেদনার সাথে দুনিয়ার কোন কষ্টেরই বুঝি তুলনা নেই! আমাদের অনুরোধেই হাসপাতালের ডেলিভারী রুমে সাঁটানো ছিল ‘শুধুমাত্র মেয়েরাই ঢুকতে করতে পারবে’ এই ধরনের একটা সাইনবোর্ড। বয়স্ক এক অভিজ্ঞ সাদা মহিলা ছিলেন ধাত্রী। বললেন এ পর্যন্ত প্রায় তিনহাজার বাচচা তাঁর হাত দিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সাথে ছিলেন এক নার্স। ভয়ংকর এই কষ্টের মুহুর্তে বললাম, ‘এই জন্যই মনে হয় আমাদের নবী বলেছেন, জননীর পায়ের তলায় সন্তানের বেহেশত’। কথাটা শুনে দুইজনই চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘Who is your Prophet?’ নাম বলতেই মিডওয়াইফ বললেন, ‘হি মাস্ট বি এ ওয়াইজ ম্যান’। বিরতিহীন টানা নয় ঘন্টা কষ্ট শেষে ৭ পাউন্ড ৭ আউন্স এবং একুশ ইঞ্চি উচ্চতার সামারাহ্‌কে পেলাম বুধবার ৬ই জানুয়ারীর বিকাল চারটা চৌদ্দ মিনিটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চোখের সামনে বড় হয়ে স্কুলে যাওয়ার বয়স ওর হয়ে গেল! আজকে অফিসে যাওয়া পিছিয়ে দেই। গতকাল অফিসের সবাই কংগ্রাচুলেশন দিয়েছে। ওর দিকে তাকিয়ে থাকি, মারাত্মক প্যাকড্‌ সে। পিঠে ‘ব্যাক-প্যাক’, এক হাতে ‘লাঞ্চ ব্যাগ’, অন্য হাতে ইমার্জেন্সী কাপড়চোপড় ও স্কেটস্‌সহ আরো একটি। সামারাহ্‌কে নিয়ে হলুদ রঙের স্কুলবাসের কাছে আসি। কানাডা আসা চার বছর হয়ে গেলেও কোন ধরনের বাস বা ট্রেনে উঠার অভিজ্ঞতা এখনো হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ও অভিজ্ঞের মত নিশ্চিন্তে অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে বাসের কোথায় গিয়ে যেন বসল! দেখতে পাচ্ছিলাম না। উলটো দিকে গিয়ে দেখি জানালার পাশে বসে হাসছে। আমি হাত উঁচু করে উড়ন্ত আদর জানিয়ে দিয়ে ‘আল্লাহ হাফেয’ বলি। আমাকে ‘বা....ই (b....y....e)’ বলে ফেরত দেয়, যার জন্যই মূলতঃ  অপেক্ষা করেছিল প্রায় ছয়মাস! একসময় ২২১ নাম্বারের স্কুলবাসটি ছেড়ে দেয়।ওর অন্তবিহীন পথের এই মুহুর্তটা সূচনা ভেবে কিছু সময়ের জন্য কেন যেন আনমনা হয়ে যাই! দৃষ্টির সীমানার বাইরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি কটকটে হলুদ রঙের চলন্ত বাসটির দিকে তাকিয়ে থাকি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-8792615959565608541?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/8792615959565608541/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=8792615959565608541' title='7 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8792615959565608541'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8792615959565608541'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/10/blog-post_04.html' title='শুরু হলো পথ চলা'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOgPvWApJSI/AAAAAAAAACM/oYvTOaPf8-A/s72-c/ROSE%2520FLOWER-2.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>7</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-3288393235973525349</id><published>2008-10-02T14:48:00.000-07:00</published><updated>2008-10-02T15:59:55.531-07:00</updated><title type='text'>A President's email and Our Negative Attitude</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOVEO5_B8XI/AAAAAAAAAB8/s2GDAUD84Xs/s1600-h/images.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5252679563271598450" style="FLOAT: right; MARGIN: 0px 0px 10px 10px; CURSOR: hand" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOVEO5_B8XI/AAAAAAAAAB8/s2GDAUD84Xs/s320/images.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;One of the most commonly used words in the West is “appreciate”. For any good job, this word is expressed in so many ways that it would have been hard for me to realize unless I had experienced it myself. If these Westerns don’t like something, they just remain silent, never would you hear them personally attack with words, as it is the case in our country. Even the policemen, while handing over tickets, would say nice words like “Have a wonderful day”, “take care”, etc. For today, let us keep aside all the negative sides we talk a lot about Western people and concentrate on this. The other day, at a baby center I came across 101 phrases to keep the young kids happy! “Wonderful”, “Angel”, “Cutey”, “You are so beautiful”, “You are really something”, “You really are outstanding in a bunch of kids, and I am not kidding at all” are just a few among others. I tried hard to match these with the way the teachers, religious leaders or the elder ones from our part of the world behave with kids. I tried hard, but in vain. While our teachers think they have “blessed” their students by marking a little higher than the lowest, the teachers from western hemisphere start marking with the assumption that their students have gained the fullest mark, and refrain from reducing marks unless they make any mistake. These people do make fun, but of weather or animals, while we spend hours making fun of other people. Politicians don’t mind joking around with their biggest opponent, causing no harm to their honor and dignity. Natural disasters like Tsunami can bring together two former US Presidents of two different poles, such as George Bush Sr. and Bill Clinton. Even the people from our closest neighbor, no matter how severe division they have among themselves, they never show it to others. Like us, they don’t make fun of the negative things of their own nation in front of non-Indians. The respected elders, knowledgeable ones can come to much use, as they serve as a huge tree giving us shelter and shade. At times, with wise words from their heart, they can create a wonderful feeling among the younger ones. Though their efficiency is limited, through their personality they can create a beautiful atmosphere. That is the reason we don’t even want our seriously ill, bed-ridden parents to leave this beautiful world. Even if they do leave us, we feel we are left outside in a stormy day with the umbrella taken off from top our heads. Not to mention, never did so many knowledgeable people ever rule our Bangladesh at any given time. We must say we are lucky from this perspective. Though we have seen many graduates, post-graduates or barristers at once, this is for the first time we are experiencing so many PhD’s among the rulers at a time. Presidential role is almost similar in the three neighboring countries of the Sub-continent. Though knowledgeable, their role was to remain silent, unvoiced and provide shelter as a big tree. Unless they blow up, it is never easy to realize how far-reaching the root is of these trees. Faruk Loghari blew up twice, once in 1996 and again in 1997 and dissolved two parliaments- “kicking out” two elected Prime Ministers, Nawaz Sharif and Benazir Bhutto. Even our polite and soft-spoken president Abdur Rahman Bishwash once showed off his power by firing an Army Chief just before the 1996 polls. These exclusive, serious men seated on that gorgeous throne, who are only seen of cutting ribbons, distributing certificates, performing prayers in opening ceremonies, visiting graveyards and placing flowers in their formal attire, sometimes also know how to exhibit their hidden power and create sense of responsibility among their people. While the Presidents and professors of America or other Western countries are busy jogging in a T-shirt or showing off their cowboy nature, the respectable people of the Subcontinent and Asia are busy competing how far more serious can they be, or, in other words, showing off how great personality they possess! If a student in Dhaka accidentally bumps into a teacher in a shopping mall and says out phrases like “Hey, my teacher is here” or “Are you crazy?!”, it is easy to guess what will be the fate of that student, the next day in class. As America awaits upcoming polls, interesting stories are already in the air, related to the front-runners, now Senators, Governors, Mayors, Congress Members, etc. It is heard that Mike Huckabee still refrains himself from touching a glass door while entering any store, as he didn’t forget his teen memory of earning pennies by wiping off finger-stains from glass doors. Mitt Romney used to work with wrench to stop the flow of sewage pipes. Hillary Clinton used to separate intestines from fish with a fork! Republican Fred Thomson used to work in a shoe factory. Democrat Barack Obama used to do the most odd job- collecting ice cream at Baskin’s Robbins, because he used to eat more than he collected! Republican Rudy Guiliani, before going to study Law, was a priest at a church and used to sell medicine. And if such stories of our great respectable people ever come out in the air, no wonder how ashamed they would be! Well, time has changed a lot these days. Anyway, we were talking about the most recent President of India- the nuclear scientist in sandals- Dr. A P J Abdul Kalam. Just a few days before he retired, he delivered a speech in Hyderabad and he himself distributed it among Indians worldwide through e-mail. Talking about e-mails, although the young generation school kids of our country have got themselves already used to e-mailing and chatting, it is heard that it is not very well practiced among our senior executives. Some bigmouth people have already spread a rumor related to this: One of our senior executives had once gone to Australia to attend a conference. During break time, delegates from other countries asked him his e-mail address. He replied, “I didn’t get it yet, I will give you after asking my secretary”. Well, this is also just another joke that has no last answer. So, we do not know what the delegates replied. Well, criticizers did their job; let’s not believe in it. We were talking about the speech by Dr. A P J Abdul Kalam. As the topic of his speech matches so much with the case of Bangladesh, it is sensible enough to talk about it. He asked his fellow Indians: “Why is the media here so negative? Why are we in India so embarrassed to recognize our own strengths, our achievements? We are such a great nation. We have so many amazing success stories but we refuse to acknowledge them. Why? We are the first in milk production. We are number one in Remote sensing satellites. We are the second largest producer of wheat. We are the second largest producer of rice. Look at Dr. Sudarshan, he has transferred the tribal village into a self-sustaining, self-driving unit. There are millions of such achievements but our media is only obsessed in the bad news and failures and disasters.” He says, “I was in Tel Aviv once and I was reading the Israeli newspaper. It was the day after a lot of attacks and bombardments and deaths had taken place. The Hamas had struck. But the front page of the newspaper had the picture of a Jewish gentleman who in five years had transformed his desert into an orchid and a granary.””It was this inspiring picture that everyone woke up to. The gory details of killings, bombardments, deaths, were inside in the newspaper, buried among other news. In India we only read about death, sickness, terrorism, crime. Why are we so NEGATIVE? Another question: Why are we, as a nation so obsessed with foreign things? We want foreign TVs, we want foreign shirts, we want foreign technology.”He asks the conscience of the people of his nation, “Do we not realize that self-respect comes with self-reliance? I was in Hyderabad giving this lecture, when a 14-year-old girl asked me for my autograph. I asked her what her goal in life is. She replied: I want to live in a developed India. For her, you and I will have to build this developed India.”He seeks 10 minutes from his nation saying, “You must proclaim. India is not an under-developed nation; it is a highly developed nation. Do you have 10 minutes? Allow me to come back with a vengeance. Got 10 minutes for your country? If yes, then read; otherwise, choice is yours”“YOU say that our government is inefficient.YOU say that our laws are too old. YOU say that the municipality does not pick up the garbage.YOU say that the phones don't work, the railways are a joke, The airline is the worst in the world, mails never reach their destination.YOU say that our country has been fed to the dogs and is the absolute pits.YOU say, say and say.” Now he asks the hard question, “What do YOU do about it?”Then he tells his nation, “Take a person on his way to Singapore. Give him a name - YOURS. Give him a face - YOURS. YOU walk out of the airport and you are at your International best. In Singapore you don't throw cigarette butts on the roads or eat in the stores. YOU are as proud of their Underground links as they are…. YOU would not dare to buy an employee of the telephone exchange in London at 10 pounds (Rs.650) a month to, 'see to it that my STD and ISD calls are billed to someone else. 'YOU would not dare to speed beyond 55 mph (88 km/h) in Washington and then tell the traffic cop, 'Jaanta hai main kaun hoon (Do you know who I am?). I am so and so's son.Take your two bucks and get lost.' YOU wouldn't chuck an empty coconut shell anywhere other than the garbage pail on the beaches in Australia and New Zealand. Why don't YOU spit Paan on the streets of Tokyo? Why don't YOU use examination jockeys or buy fake certificates in Boston??? We are still talking of the same YOU. YOU who can respect and conform to a foreign system in other countries but cannot in your own. You who will throw papers and cigarettes on the road the moment you touch Indian ground. If you can be an involved and appreciative citizen in an alien country, why cannot you be the same here in India?Once in an interview, the famous Ex-municipal commissioner of Bombay, Mr. Tinaikar , had a point to make. 'Rich people's dogs are walked on the streets to leave their affluent droppings all over the place,' he said. 'And then the same people turn around to criticize and blame the authorities for inefficiency and dirty pavements. What do they expect the officers to do? Go down with a broom every time their dog feels the pressure in his bowels?In America every dog owner has to clean up after his pet has done the job. Same in Japan. Will the Indian citizen do that here?' He's right. We go to the polls to choose a government and after that forfeit all responsibility. We sit back wanting to be pampered and expect the government to do everything for us whilst our contribution is totally negative. We expect the government to clean up but we are not going to stop chucking garbage all over the place nor are we going to stop to pick a up a stray piece of paper and throw it in the bin. We expect the railways to provide clean bathrooms but we are not going to learn the proper use of bathrooms. We want Indian Airlines and Air India to provide the best of food and toiletries but we are not going to stop pilfering at the least opportunity.This applies even to the staff who is known not to pass on the service to the public. When it comes to burning social issues like those related to women, dowry, girl child! and others, we make loud drawing room protestations and continue to do the reverse at home. Our excuse?'It's the whole system which has to change, how will it matter if I alone forego my sons' rights to a dowry.' So who's going to change the system?”In his one and a half page long speech, he gave many more thought provoking examples like this. “Like lazy cowards hounded by our fears we run to America to bask in their glory and praise their system”, he says. “When New York becomes insecure we run to England. When England experiences unemployment, we take the next flight out to the Gulf. When the Gulf is war struck, we demand to be rescued and brought home by the Indian government. Everybody is out to abuse and rape the country. Nobody thinks of feeding the system. Our conscience is mortgaged to money.”He finished his speech echoing J. F. Kennedy 's words to his fellow Americans to relate to Indians.....We can also end this discussion like him. But before that, let us pay a little attention to how we do ourselves is: Our newspapers make lead news of how three brilliant students from BUET dies in Buriganga, but we never hear of their golden success stories. In this 21st century we get to see how hundreds of hunger-stricken people compete for the food thrown from a helicopter in those rural areas where SIDR had taken away millions of lives, but we never get to see anything to make them overcome this trial and gather back their strength to live again. Where do we hear the story of how, with the same hands these energetic people gather the torn out body of their closed ones from trees and paddy fields, put it into grave and get back, with the same hands to earn a living. When the whole world appreciates us with a “Well done Bangladesh” for the way we fought back with one of the greatest disasters of the century, we are busy blaming each other instead of participating in the effort to bring them back to life. In the June 2007 O Level exams of University of Cambridge International Examinations (CIE), three Bangladeshi kids, Ibrahim Mohammad Junaidur Rahman, Nabil Tarik Hossain and Sajjad Khan Moushum scored the highest number in three subjects across the whole world! Where the Director of CIE does not hesitate to feel prou&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOVBxZ9dI2I/AAAAAAAAAB0/nswxI4H1lIU/s1600-h/images.jpg"&gt;&lt;/a&gt;d of them, none of our newspapers, except very few came forward to write an editorial on these golden kids, pride of our nation. Another Bangladeshi origin American Mohammad Rahman, is doing PhD in Bio-engineering in a combined project of American Texas University and Indian TATA Memorial Hospital. He discovered an unbelievable patent, researching on “Oral Cancer Screening Device”, he invented a machine named The Portable Screening System (PS2), which is cheap and can be run on battery. It can diagnose oral cancer by differentiating between normal and pre-cancer tissues. Even the M. D professors of University of Texas are proud of him. And in our country, days after days Yaba queen Nikita gains a big portion of the lead news, while our pride Mohammad Rahmans’ news is hardly in the lead. These few are not the only success stories we have. Many such examples are scattered around us. But we the unfortunate are only busy with the rotten dead bodies of the animals and ill-fated people, the diseases around us and the terrorism of our country. Now let’s consider the above e-mail and imagine three things: First, let’s imagine Dr. Iajuddin instead of Dr. Kalam; second, let’s imagine Bangladesh instead of India; and third, the way Dr. Kalam echoed how J F Kennedy addressed to fellow Americans, let’s imagine Dr. Iajuddin echoing the same to fellow Bangladeshis:“ASK WHAT WE CAN DO FOR BANGLADESH AND DO WHAT HAS TO BE DONE TO MAKE BANGLADESH WHAT AMERICA AND OTHER WESTERN COUNTRIES ARE TODAY"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://newsfrombangladesh.net/view.php?hidRecord=223861"&gt;Please click here to read in NFB&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[The article was originally written in Bengali language, and published in a national bangla daily JaiJaidin on Decemeber20, 2007. Maimuna Musarrat who is serving as Administrative Coordinator in 'Asian University for Women' in Bangladesh translated it. Her email address: &lt;a href="mailto:munamust@yahoo.com"&gt;munamust@yahoo.com&lt;/a&gt;]&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-3288393235973525349?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/3288393235973525349/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=3288393235973525349' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/3288393235973525349'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/3288393235973525349'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/10/presidents-email-and-our-negative.html' title='A President&apos;s email and Our Negative Attitude'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SOVEO5_B8XI/AAAAAAAAAB8/s2GDAUD84Xs/s72-c/images.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-8257338451183023294</id><published>2008-09-19T17:46:00.000-07:00</published><updated>2008-09-19T17:48:37.991-07:00</updated><title type='text'>অগ্নি পরীক্ষায় ওবামার ‘চেঞ্জ’</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SNRH6GSA5YI/AAAAAAAAABs/utCR-fDKvnM/s1600-h/obama-mccain.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5247898529237624194" style="FLOAT: right; MARGIN: 0px 0px 10px 10px; CURSOR: hand" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SNRH6GSA5YI/AAAAAAAAABs/utCR-fDKvnM/s320/obama-mccain.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বুশের উত্তরসূরী রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইন (৭২) তাঁর দলের কনভেনশনে বলছিলেন, ‘আমেরিকানরা এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে আর বিষোদগার দেখতে চায় না। আমি দুই দলের সদস্যদের সাথেই কাজ করেছি। আমাদের সমস্যাটা কোথায় তা আমি জানি। আর এও জানি নিরপেক্ষভাবে দলের উর্ধ্বে ঊঠে কিভাবে এর সমাধান করতে হয়। আসুন, আমরা দুই দলের মধ্যকার ভাল ভাল ধারনাগুলো কাজে লাগাই। আমরা সবাই এক খোদার বান্দা, সবাই আমেরিকান। এই আমেরিকানদের জন্যই আমি যুদ্ধ করেছি। আর এবার আমি ঠিক আপনার জন্যই লড়ছি’। তিনি আমেরিকানদের তাঁর নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি যাচাইয়ের আহবান জানিয়ে যখন আরো বললেন, ‘আমরা নির্বাচিত হয়ে ওয়াশিংটনে পরিবর্তন আনব আর ওয়াশিংটনকেও সুযোগ দিব আমাদেরকে বদলাতে। দেশ চালাতে ভবিষ্যত ক্যাবিনেটে আমি ডেমোক্রেটদেরও অন্তর্ভূক্ত করব’। তখন আমি ভাবছিলাম আমাদের দেশের রাজনীতিকদের মিডিয়াতে হরহামেশা বোমা ফাটানো দায়িত্বহীন কথাবার্তা। এরকম একজনও জীবিত রাজনীতিবিদ পাওয়া গেলনা যিনি কিনা দেশের সব মানুষকে স্বনির্ভর বাংলা গড়ার সুরের মূর্চ্ছনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখাবেন। আমেরিকার দুই দলের নামকরা মোটামুটি সব প্রেসিডেন্টেরই অতীত ঘাঁটলে দেখা যাবে তাঁদের মেয়াদে কোন না কোন বড়সড় কেলেংকারীর ছাপ রেখে গেছেন। বুশের তো কেলেংকারীর অন্তই নেই। তাঁর বাবারও ছিল। ক্লিনটন, রিগ্যান সবারই ছিল। কিন্তু নির্বাচন এলে তাঁরা শুধুমাত্র ঠিক আগের প্রেসিডেন্ট টার্ম ছাড়া খুব বেশী দূর যেয়ে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘঁটি করেন না। বর্তমান ও সামনের অনাগত দিনের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান প্রজন্ম কি রেখে যেতে পারে তার কথা শোনায়। ব্যারাক ওবামা (৪৭) তাঁর স্বাস্থ্যসেবা, ট্যাক্স হ্রাস, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য সহজল্ভ্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চাকুরি নিশ্চিত করণসহ প্রভূত নির্বাচনী ওয়াদার ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, ‘প্রত্যকে  প্রজন্মের মানুষদেরই দায়িত্ব রয়েছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ রেখে যাওয়া। বুশের বিধ্বস্ত ও ধ্বংসাত্মক নীতিতে জাতি বিভক্ত হওয়ায় আমি চাই সব আমেরিকানদের একসাথে নিয়ে চলতে। কারন, আমি দেশকে বড্ড বেশী ভালবাসি’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;     যাহোক, আমরা আজকে আমেরিকার সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়ানো নিয়েই আমাদের আলোচনা বৃত্তাবদ্ধ করে রাখব। &lt;br /&gt;    &lt;br /&gt;     বিশ্বব্যাপী বর্তমান ভাঙা ভাবমূর্তি মেরামতে নিজেকেই সবচেয়ে বেশী যোগ্য কারিগর প্রমান করতে ওবামা-ম্যাককেইন বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন লাভের পর অর্থ যোগানদাতাদের নিকট ই-মেইলে জানিয়ে দেন তিনি সারাহ পলিনকে ‘ওয়াশিংটন সংস্কার’-র জন্য রানিংমেট হিসেবে বাছাই করেছেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তিনিও স্বীকার করে নিলেন আট বছর বুশ অফিস করায় ‘ওভাল অফিস’কে এখন ‘রিফর্ম’ করতে হবে। তিনি তাঁর নিজ দলের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কিছু রিপাবলিকানরা দূর্নীতি উৎসাহিত করায় আজ আমরা আমেরিকানদের বিশ্বাস নষ্ট করেছি।’ আমেরিকার অংগরাজ্য মিনোসোটার সেন্ট পল এনার্জি সেন্টারে দলের কনভেনশনে ম্যাককেইন আলাস্কার গভর্ণর ১৯৮৪ সালের সাবেক রানারস্‌ আপ মিস আলাস্কা সারাহ পলিনের (৪৪) নাম ঘোষনা করেন। সারাহ তাঁর দীর্ঘ অনলবর্ষী বক্তৃতায় নিজের পরিচয় ‘হকি মাতা’ বলে ওবামার বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষন দিয়ে রিপাবলিকানদের ভীষন উত্তেজিত ও উৎফুল্লিত করেছেন। ডায়াসে তিনি স্বামী টড পলিন ও পাঁচ সন্তান নিয়ে হাজির হন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সন্তান ডাউন সিনড্রোম ছেলে ট্রিডের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। সাধারনভাবে আমেরিকায় পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত নাজুক হলেও শাসকদের ক্ষেত্রে আমেরিকানরা উলটো দেখতে চায়। প্রার্থীরা তাই পরিবার-পরিজনদের সাথে করে স্টেজে উঠে শক্ত পারিবারিক বন্ধন প্রদর্শনের প্রথম অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়। সারাহ বললেন, ‘তাদের সংসার দু’যুগের বেশী সময় ধরে আজো অভঙ্গুর’। সন্তানদের মধ্যে ১৭ বছর বয়স্কা ব্রিস্টল পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্বা। বন্ধু ও হবু স্বামী সমবয়সের লেভী জনস্টনও উপস্থিত ছিল। গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সারাহ তার কুমারী মেয়ের পেটের বাচ্চা নষ্ট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। রিলেজিয়াস কমিউনিটির ব্যক্তিত্বরা এতে বাহ্‌বা দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে  থেকে পলিন এতগুলো সন্তান লালন-পালন ও সংসার সামলানোকে তাঁরা ‘অসাধারন’ বলে অভিহিত করেছেন।&lt;br /&gt;     সবাইকে চমকে দিলেও রিপাবলিকানরা মনে করছেন, ম্যাককেইন রানিং মেট নির্বাচনে ভুল করেননি। পলিনকে মনোনয়ন করার মূল কারনসমূহের একটি হল ‘জেন্ডার কার্ড’। হিলারীর ১৮ মিলিয়ন ভোট বাগানোর মোক্ষম হাতিয়ার একমাত্র সারাহ্‌ই। বাছাই পর্বে ওবামাকে হারাতে হিলারী খুব নোংরা ও ব্যক্তিগত আক্রমন করে এড দিয়েছিলেন। হিলারী সর্বশক্তি দিয়ে ওবামাকে এখন সমর্থন করলেও তাঁর ব্যবহৃত পূর্বের কৌশলগুলো বুমেরাং হয়ে ওবামাকে বারে বারে আঘাত করছে। হিলারীর পূর্বের ওই টেপ বাজিয়ে নেপথ্যের কন্ঠ বলছে, ‘হ্যাঁ, হিলারী সঠিকই বলেছেন’। হিলারীর ওই বিজ্ঞাপনটির সারমর্ম ছিল এরূপ, ভোর তিনটায় ওয়াশিংটন হাউসে ফোন এলে ওবামার সাহস নেই ফোন ধরার। কারন তিনি ‘অপরিপক্ক’, একমাত্র হিলারীই পারবেন অসময়ে উদ্ভূত যেকোন পরিস্থিতি সামাল দিতে। স্বামী বিল ক্লিনটনসহ তিনি তাঁদের গোঁড়া সমর্থক বিশেষকরে মহিলা ভোটারদের ওবামার পক্ষে ভোট দেয়ার প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হিলারী বলছেন, ‘এই ২০০৮ সালেও ম্যাককেইন মনে করেন না যে, পুরুষ  ও মহিলাদের বেতনে বৈষম্য থাকা বাঞ্চনীয় নয়’। &lt;br /&gt;   &lt;br /&gt;    প্রতিপক্ষের এরকম অপবাদ আগেভাগে আঁচ করেই ওবামা তাঁর রানিংমেট হিসেবে ৬৬ বছর বয়স্ক জো বাইডেনকে পছন্দ করেছিলেন। বাইডেন ৬ মেয়াদ ধরে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে আসছেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আমেরিকার ‘ফরেন রিলেশন কমিটির’ চেয়ারম্যান ছাড়া ‘ইয়ুগোশ্লাভ যুদ্ধ’, ‘ইরাক যুদ্ধ’-র রেজুলেশন তৈরীতেও তাঁর প্রধান ভূমিকা রয়েছে। ‘সিনেট জুডিসিয়ারী কমিটি’, ‘ড্রাগ পলিসি’, ‘অপরাধ প্রতিরোধ’, ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’, ‘ভায়োল্যান্টক্রাইম কন্ট্রোল এন্ড ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট’, ‘ভায়োলেন্ট এগেইনস্ট উইমেন অ্যাক্ট’ ইত্যাদির সাথে তাঁর জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে।&lt;br /&gt;    &lt;br /&gt;     জো বাইডেনের বিপরীতে পলিনকে রক্ষনশীল দল রিপাবলিকান-কৌশলীদের পছন্দ করার আরো একটি কারন রয়েছে। সেটি হল সারাহ্‌র কট্টর ধার্মিক ইমেজ। যিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ মনে করেন, এতে করে আনূমানিক ৮৭ মিলিয়ন ক্যাথলিকদের ‘সুইং ভোট’ ঝুঁকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। গত জুনে পলিন তাঁর সাবেক গীর্জার বাইবেল ছাত্রদের উদ্দেশ্যে  বক্তৃতায় ইরাকে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েন প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘Our national leaders are sending them out on a task that is from God (অর্থাৎ আমাদের নেতৃবৃন্দ ঈশ্বর অর্পিত কর্ম সম্পন্ন করতেই ইরাকে সৈন্য পাঠিয়েছেন।‘) তিনি আরো বলেছেন, ‘That’s what we have to make sure that we’re praying for , that there is plan and that plan is God’s plan (অর্থাৎ এই কারনেই আমাদেরকে অবশ্যই তাদের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আর সেখানে একটা পরিকল্পনাও রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনাটা হল ঈশ্বরের পরিকল্পনা।‘) পলিনের বিশেষ এই ভাষনটি তাঁর নিজ শহর ওয়াসিলার ‘ওয়াসিলা এসেম্বলী অব গড’ সাইটে দেখানো হয়। তিনি ছাত্রদেরকে নিজেকে ‘বাইবেল বিলিভিং’ পরিচয় দিয়ে আরো বলেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে এই বুঝাতে চাই যে, তোমরা যীশুর ভালবাসা আলাস্কার সর্বত্র ছড়িয়ে দাও। আমি গভর্ণর অফিসে বসে যীশুর ইচ্ছারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টিত। রাজ্যের ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপ লাইনের প্রজেক্ট বাস্তবায়নের চেষ্টাও ঈশ্বরের ইচ্ছায়। আমার স্টাফরা কখনো কোন ভাল কাজ করতে পারত না যদি না আলাস্কাবাসীদের হৃদয়-মন ঈশ্বরের সাথে মিশে না থাকত’। তিনি আরো বলেন, ‘I think God’s will has to be done in unifying people and companies to get that gas line built.’&lt;br /&gt;    ম্যাককেইনের ‘ভেরী এগ্রেসিভ’ প্রচারনার বিপরীতে ওবামাও  খুব খাটছেন ক্যাথলিকদের মন পাওয়ার। ম্যাককেইনের সমর্থকরা ওবামাকে দোষছেন ‘দ্যা এবোরশেন প্রেসিডেন্ট’ বলে। কারন ওবামা গর্ভপাত ও সমকামী অধিকার আন্দোলনের পক্ষে। অবশ্য ওবামাশিবির যুক্তি দেখাচ্ছে, ‘অর্থনীতি’, ‘পরিবেশ’ ও ‘দারিদ্র্য’ মোকাবেলায় তারা যে নীতি গ্রহন করেছে তা বাস্তবায়িত হলে ক্যাথলিকদের দাবী অনুযায়ী রিপাবলিকানদের চেয়েও গর্ভপাত হ্রাস পাবে।&lt;br /&gt;ওবামার প্রচারণা-গোষ্ঠী ক্যাথলিকদের বিশেষ টার্গেট নিয়ে ‘ইয়ং ক্যাথলিক’, ‘সোশ্যাল জাস্টিস ক্যাথলিক’ ও ‘উইমেন রিলিজেয়াস কমিউনিটি’ ভাগ করে তাদের পেছনে কাজ করছে। রিগ্যান প্রশাসনের সাবেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডগলাস কমিক প্রণীত ওবামাকে নিয়ে লেখা  “Can a Catholic Support Him” বইটিকে তারা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;     যাহোক, ওবামার সাড়া জাগানো ভাবমূর্তি মোকাবেলায় জেন্টেলম্যান ম্যাককেইন বেশ সংযত, মিতভাষী। বেশ সম্মানজনক পথ তিনি বেছে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ছয়বার সরাসরি ‘ওবামা’ নাম ধরে কথা বলেছেন। তিনি তাঁকে ‘অপরিপক্ক’ ও ‘দেশের চেয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত’ বলে মনে করেন। ওবামা কিন্তু এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন। তিনি কথাবার্তায় ম্যাককেইনের নাম অসংখ্যবার উচ্চারন করছেন। বলছেন, ‘I’ve got news for you, John McCain. We all put our country first.’ এই “Country First” ই হল এবারের জন ম্যাককেইনের মূল শ্লোগান। ওদিকে ম্যাককেইন শিবিরও ‘Change’ শব্দের দিকে আঙুল তুলে কথা বলছে। ওবামার জনপ্রিয় শ্লোগান ‘চেঞ্জ’-র সার্থক রূপায়ক একমাত্র ম্যাককেইনই অভিহিত করে রিপাবলিকান কৌশলী স্টিভ শমিড (Steve Schmidt) বলেছেন, ‘John McCain has a record of fighting to change.’ ওবামার শ্লোগানটি এভাবে হাত বদল হয়ে যাওয়া বিচিত্র কিছু না। কারন ভোটের শেষ মুহুর্তে রিপাবলিকানদের ‘ডার্টি গেম’-র নজির আমেরিকানদের কাছে রয়েছে। গেল বারের নির্বাচনে জন কেরীর ‘স্বাস্থ্য’ ও ‘ইরাক ইস্যু’ বেশ জনপ্রিয় লাভ করায় বুশ দেশের ‘নিরাপত্তা’কেই মূল ইস্যু বানিয়ে আমেরিকানদের উত্তেজিত করে ফলাফল পালটে দেন।&lt;br /&gt;   পলিনের বাকপটুতা ও জেদী ইমেজ এখন আমেরিকার রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়। মাত্র দশ হাজার লোকের শহর ওয়াসিলার একসময়ের মেয়র এই পলিনকে আগে মূল রাজনীতিতে পরিচিতি না থাকায় সাংবাদিকরা জ্বালায়নি। এখন চটকদার নিউজ পরিবেশন করতে মিডিয়াকর্মীরা তাঁর নথিপত্র ঘাঁটা  শুরু করে দিয়েছে। নিজের বোনকে তালাক দেয়ার অপরাধে পলিন তাঁর পুলিশ অফিসার সাবেক বোনজামাইকে চাকরি থেকে ছাঁটাই  করার অনুরোধ করেছিলেন পুলিশের উর্ধতন এক কর্মকর্তাকে। তাঁর এই অন্যায় অনুরোধ আমলে না দেয়ায় খোদ ওই পুলিশ কর্মকর্তাকেই পলিন ডিসমিস করেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে। সরকারী কোষাগার তছরুপের অভিযোগও চলে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ‘সরকারী সফর’ তিনি দেখিয়ে ৪৩,৮৯০ ডলারের ট্যাক্স রিসিট জমা দিয়েছেন। অথচ পলিনের এই সফরসমূহ ছিল স্বামী ও সন্তানসহ তাঁর ওয়াসিলার নিজ বাড়ীতে ৩১২ রাত কাটানো। মাত্র ঊনিশ মাসের গভর্ণরশীপে ১৭ হাজার ডলার নিয়েছেন ৬০০ মাইল দূরে ‘ডিউটি স্টেশন’ দেখিয়ে সরকারী অফিস করার। পলিন অবশ্য এর উত্তরে বলেছেন, আগের গভর্ণর ফ্র্যাঙ্ক মুরকাওস্কির চেয়ে তিনি অনেক কম খরচ করেছেন। তাঁর মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটা তো চাকরিরই অংশ। ভ্রমনের জন্য তিনি এসব করতেই পারেন’।  &lt;br /&gt;    সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ওবামা পলিনের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে নাক গলাতে মোটেই  পছন্দ করছেন না। তিনি বলছেন, ‘আমরা কারো পরিবারের পিছনে লাগি না। তাদেরকে নিয়ে রাজনীতিও করতে চাইনা। এটা সঠিক ও প্রাসঙ্গিকও নয়। আমার লোকজনের কেউ এতে জড়াচ্ছে না, জড়ালে অবশ্যই তাকে ফায়ার করব’। তিনি বলছেন, ‘এগুলোকে  আমাদের রাজনীতির  অংশ বানানো উচিত নয়। পলিনের গভর্ণরের দায়িত্ব পালনে এবং আগামীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মদক্ষতা প্রদর্শনে যোগ্যতার মাপকাঠি ওইসব হতে পারেনা। সবাইকে অনুরোধ করব এই ধরনের গল্প ফাঁদা থেকে দূরে থাকতে’। ম্যাককেইন দল কিন্তু ওবামাকে অগ্রিম দূষছেন পলিনের দূর্বল দিকগুলোতে ঘায়েল করার অভিযোগে।&lt;br /&gt;    রিপাবলিকানদের নিন্দনীয় প্রচারণা ওবামা-বাইডেনকে সার্বক্ষনিক তটস্থ করে রেখেছে। ইন্টারনেটে পলিনের লোকজন সম্প্রতি একটা এড ছড়িয়েছে। এডটা হল এরকম, পলিনকে নিয়ে ওবামা কথা বলছেন। এমন সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি কি নেতৃত্বের আসনে বসতে প্রস্তুত’? ওবামা বলছেন, ‘না’। আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘বাজে কথা ছড়াতে কি আপনি রেডী’? ওবামার উত্তরঃ ‘হ্যাঁ’। বিভিন্ন রাজ্যে ছড়ানো আরো একটা ক্যাম্পেইনিং হল, ‘হোয়াইট হাউস’ মানেই হল ‘সাদাদের স্থান’, সুতরাং সেখানেই কৃষ্ণাঙ্গের না যাওয়াই হল আমেরিকান ট্র্যাডিশন ।  &lt;br /&gt;     ওবামাকে এরকম বহু আক্রমন মোকাবেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে রিপাবলিকানদের আরো একটি নোংরামী ‘লিপস্টিক অন অ্যা পিগ’ ক্যাম্পেইন বন্ধে দাবী জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমাকে যা খুশী বল তাতে আমার মাথা-ব্যাথা নাই, কিন্তু তাই বলে কাউকে নোংরা ও ব্যক্তিগত আক্রমন করতে পারবা না’। ‘লিপস্টিক অন অ্যা পিগ’ হল, পিগ (শুয়োর)-এর শরীর রং দিয়ে ভরে দিলেও সে পিগই।  পলিন কৌতুক করে বলেছিলেন, আমেরিকান ষাঁড়ের সাথে ‘হকি মাতার’ অর্থাৎ তাঁর পার্থক্যটা হল ‘লিপস্টিক’। ওবামাকে বিদ্রুপ করে বুশ বলেছেন, ‘একটা পুরোনো মরা মাছকে যদি তুমি ‘চেঞ্জ’ নামের কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখো, আট বছর পর এথেকে দূর্গন্ধই ছড়াবে’। এদের এগ্রেসিভ প্রচারনায় ওবামা ক্যাম্পেইন ভীত হয়ে পড়েছে। তারাও একটু একটু করে এই লাইনে পা বাড়াচ্ছে। ম্যাককেইনের কম্পিউটার জ্ঞান না থাকা নিয়ে ‘৮২ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী’ বলে বিদ্রুপ করে এরাও ইন্টারনেটে এড দিয়েছে। &lt;br /&gt;    গত ২৮ আগস্ট ডেনভারে ঐতিহাসিক ভাষন দেয়ার পর ওবামা র জনপ্রিয়তা ম্যাককেইনের চেয়ে আট পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। শুরুতে ওবামার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ডেমোক্রেটরা মোটামুটিভাবে এবারকার নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয় ধরে নিয়েই এগুচ্ছিল। কিন্তু পলিনকে মনোনয়ন দেয়ার পর এখন ওবামা কৌশলীদের আগের সব হিসাব-নিকাশ পালটে যেতে বসেছে। বাগ্মী পলিনের প্রথম আক্রমনেই ম্যাককেইন ৪ পয়েন্টে এগিয়ে ওবামা ক্যাম্পেইনে বাজীমাত করে দেন। জো বাইডেন এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন সামনের দিনগুলোতে সামনা-সামনি ডিবেটে কিভাবে এই বিদূষী মহিলাকে রুখা যায়। ‘ওয়ান অন ওয়ান’ ডিবেটে ম্যাককেইনকে মোকাবেলায় ওবামা খুব সহজে পার পেয়ে যাবার আশা করা গেলেও বাইডেনের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। আর সেখানেই হয়ে যেতে পারে নাটকীয় কোন কিছু, যদিও সারা দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষেরা বুশের আদর্শের বিপরীত মেরুর ওবামার দিকে তাকিয়ে আছে সেদেশে সত্যিকার ‘পরিবর্তন’-এর রূপ দেখবার।  &lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-8257338451183023294?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/8257338451183023294/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=8257338451183023294' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8257338451183023294'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/8257338451183023294'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/09/blog-post_19.html' title='অগ্নি পরীক্ষায় ওবামার ‘চেঞ্জ’'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SNRH6GSA5YI/AAAAAAAAABs/utCR-fDKvnM/s72-c/obama-mccain.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-2840201017993766041</id><published>2008-09-09T20:16:00.000-07:00</published><updated>2008-09-14T16:14:32.843-07:00</updated><title type='text'>সুরক্ষা স্বাধীনতা এবং সীমান্তে ‘পাখির ছানা’</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMc9YbHDggI/AAAAAAAAABk/ZGnCwryEgCk/s1600-h/untitled.bmp"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5244227780899734018" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMc9YbHDggI/AAAAAAAAABk/ZGnCwryEgCk/s320/untitled.bmp" border="0" /&gt;&lt;/a&gt; &lt;span style="font-size:130%;"&gt;খুব সন্তর্পণে বাংলাদেশে আরো একটা কাজ হয়ে গেল! পরিবর্তনের পাগলা হাওয়ায় পর্দার অন্তরালে কত অসাধ্য কাজ সাধন হওয়ার মত এটিও আমজনতার চোখের আড়ালেই থেকে গেল। অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ের সাথে বাঘা শক্তি-পরাশক্তিসমূহ জড়িত বলে হয়তো প্রিন্ট ও স্ক্রীন মিডিয়া বিষয়টি নিয়ে বেশী কথা বলতেও সাহস পায়নি। বাংলাদেশকে সম্পূর্ন অন্ধকারে রেখে বাংলাদেশেরই সীমান্ত সার্ভে করে ফেলছে আমেরিকা যুক্তরাস্ট্র। গত ১৩ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সংস্থার প্রতিনিধিরা এ নিরাপত্তা সার্ভেতে অংশ নেন। সার্ভে চলে ২৮ জুন পর্যন্ত। তবে কেন এই সার্ভে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি বাংলাদেশের কাছে। সার্ভে টিম যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার সময় মৌখিকভাবে বলে গেছে তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিঠি দেয়া হবে (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত, ১২ আগস্ট)। এতদিনে উক্ত সরকারী কর্মকর্তার চিঠি যুক্তরাস্ট্রে কারো কাছে পৌঁছেছে বলে ধরে নিলেও এর পরের অধ্যায়গুলো আমাদের মত ছা-পোষা মানুষেরা কোনদিনও জানতে পারবে না।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে অথচ বাংলাদেশই জানে না? কি সাংঘাতিক কথা! অবশ্য জানার কথাও না! কারন আমাদের ইন্দ্রিয়জ্ঞানের দৌড় প্রতিযোগিতা যদি গজেন্দ্রের সাথে হয় তাহলে দোষ দিবই বা কাকে? যাহোক, তাহলে কাদেরকে জানিয়ে এটি করা হল? আবার কেনইবা করা হল? সীমান্তের ওপারের দেশটিও আমেরিকাকে এ ব্যাপারে না করেনি। সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির স্বার্থ আধিপাত্যবাদী আঞ্চলিক শক্তির সাথে এক হয়ে গেলে সেখানে আর ‘না’ বলে কিছু থাকেনা। নতুন করে এ অঞ্চলে তথাকথিত ‘অশুভ চক্র (axis of evil)’ বানানোর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ‘অবৈধ একটি সন্তান’ জন্ম দেয়ার খায়েস আর সইতে পারছে না সময়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ন আমাদের প্রতিবেশী কিছু অবিশ্বাসী বন্ধুরা। জাতিসংঘসহ বড় বড় দেশের উঁচু পদে সমাসীন থাকার সুবাদে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশবিরোধী নানামুখী অপ্রচার ও কৌশলের নতুন মাত্রায় আজ অবতীর্ন এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।&lt;br /&gt;বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন শচীন কর্মকার গত ২৭ জুলাই এক ই-মেইল ম্যাসেজের মাধ্যমে সিআইএ পরিচালকের কাছে ভারতের পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশ ভূখন্ডে ইরাকের কুর্দিস্তানের অনুরুপ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টানদের জন্য পৃথক স্বায়ত্তশাসিত সংখ্যালঘু এলাকা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সাহায্য চেয়েছে। মাইনরিটি কংগ্রেস পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এই কর্মকার ‘নাইন ইলেভেনের পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আজ আমাদের সাহায্য করো, আগামীকাল আমরা তোমাদের সহায়তা করবো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন ইহুদীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন, বাংলাদেশেও এখন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টানরা ঠিক একইভাবে মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে’। (সূত্রঃ দৈনিক আমারদেশ, ২৯ নভেম্বর ২০০৭)&lt;br /&gt;আজ একথা বলার অবকাশ নাই যে, পরিবর্তিত বিশ্বে ভারত নতুন করে তার সবল উপস্থিতি প্রমাণ করতে চাইছে। দেড় বিলিয়ন জনঅধ্যুষিত দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে ভারত তার সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রভাব-প্রতিপত্তির আধিপাত্যের কারনে বিশ্বরাজনীতিতে চীনের সমান্তরালে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে উঠেপরে লেগেছে। সেজন্য বিশ্বব্যাপী তাদের একদল গবেষক নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। চীনের সাথে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান ভাল সম্পর্কের বিপরীতে ভারত তার ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিন -পূর্ব এশিয়ার মাঝখানে দক্ষিন এশিয়ার অবস্থান। ভারতের বিকাশমান অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল বুঝাতে চীনকে স্মরন করিয়ে দিচ্ছে যে, ভারত মহাসাগরের উপর দিয়েই চলছে মুসলিম বিশ্বের ৭৫ শতাংশ বানিজ্যের আদান-প্রদান। রাশিয়া, আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের শক্তি প্রদর্শনের মূল কেন্দ্রও কিন্তু এখানেই। সেদেশের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্ণেল হারিহারান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর আশ্রয়ে পোষ্য গনতন্ত্র এবং চীনের সিংগেল পার্টি মডেলের বাইরে একমাত্র ভারতের বৃহত্তর ও আধুনিক গনতন্ত্রই এ অঞ্চলের অভিবাবকের ভূমিকা পালন করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া এদেশের রয়েছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত নিউক্লিয়ার শক্তিধর বৃহৎ সামরিক শক্তি’। (SAAG, Paper No: 2804)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদেশের ইংরেজী নিউজ চ্যানেল সিএনএন-আইবিএনের প্রধান সংবাদদাতা সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রাজস্থানের হিন্দু মৌলবাদী সরকার ‘অবৈধ’ বাংলাদেশীদের শায়েস্তা করতে গুয়ান্তেনামো বে’র আদলে ট্র্যানজিট ক্যাম্প স্থাপন করতে চায়। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বাসুন্ধারা রাজে বলেছেন, ‘Round them (Bangladeshis) up and put them in transit camps and feed them (তাদেরকে বেঁধে ট্র্যানজিট ক্যাম্পে ভরে রাখো এবং সেখানেই খাওয়াও)। অবশ্য তার এই অসাড় দাবীকে উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘Perhaps she is shaken after recent blasts in Jaipur and is saying anything that is not true. She should have avoided (making the statement). She has just exposed her weakness.’&lt;br /&gt;(খুব সম্ভবত মহিলাটি জয়পুরে সাম্প্রতিক বোমা বিস্ফোরনের কারনেই নড়েচড়ে উঠছেন। তিনি যা বলছেন তা সত্য নয়।এ ধরনের কথা বলা তার উচিৎও হয়নি। মুলতঃ (ঘটনা মোকাবেলা না করে) এর মাধ্যমে তিনি তার দুর্বলতাই প্রকাশ করছেন।) (সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪, মে২৪, ২০০৮)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মাকসুদ এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘আমরা একটা সন্ত্রাসের কালে বাস করছি। সব দেশেই কমবেশি সন্ত্রাস আছে। উপমহাদেশের দেশগুলোতেও মাঝেমধ্যে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা ঘটে। ভারতে কোথাও কোনো বোমা বিস্কোরিত হলে, তাতে মানুষ প্রাণ হারালে, এক সেকেন্ড বিলম্ব না করেও সেখানকার স্বাধীন সংবাদপত্র ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা’র বরাত দিয়ে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে। হোলির আগের দিন দিল্লির মার্কেটে বোমার ঘটনায় অথবা হায়দরাবাদের রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্কোরণের ঘটনায় যেমনটি ঘটেছে এবারও তাই হলো। বাংলাদেশের ইসলামি অপরাধীরা যে ওই অপরাধ করতে পারে না তা নয়, যদি করে তাহলে তাদের উপযুক্ত শাস্তি জেল-ফাঁসি আমরা দাবি করব। কিন্তু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার এক মিনিটের মধ্যে একটি দেশের দিকে তর্জনী তাক করা সমীচীন কি না তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবার বিষয়। একটি দেশ মানে সে দেশের গোটা জনগোষ্ঠী।গুয়ানতানামো ক্যাম্পের মতো কোনো ক্যাম্পে আটক করে নির্যাতন করা ভারতের মতো একটি মহান গণতান্ত্রিক দেশের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যদি কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে সেখানে গিয়েও থাকে তারও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ভারত সরকারের।‘ (প্রথম আলো, ২৭ মে ২০০৮)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবার আমরা জানার চেষ্টা কেমন আছেন দেশের সীমান্তবাসীরা এবং ভারতীয় মিডিয়াইবা সীমান্তের খবরগুলো কেমন চোখে দেখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী কুখ্যাত ডাকাতদের র‌্যাব মেরে ফেললে যেখানে মানবতা উৎরে ওঠে, গরু ব্যবসায়ী জাকির হোসেনদের মেরে লাশ গুম করে ফেললেও মানবতা সেখানে ভুলুন্ঠিত হয়না! ‘নিয়মবহির্ভূত সব হত্যাই নিন্দনীয় অপরাধ’ এ সত্যটুকু স্বীকার করার সৎসাহসও আমাদের যেন নেই। কেন যেন নামকরা মানবাধিকার কর্মীদের সব ভন্ডামী সীমান্তে এসে আটকে পড়ে।&lt;br /&gt;এসব নিস্পাপ ও দূর্বল ‘পাখির ছানাদের’ নিয়ে ওপারের জাঁদরেল শিকারীদের খেলা আমাদের দেশের নামকরা মানবতাবাদী ও একশ্রেনীর রাজনীতিকরা বোধ হয় উপভোগই করেন বলতে হবে।&lt;br /&gt;২০০৮ সালের ১ জানুয়ারী দেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’- উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র ২০০৭ সালে ১২ মাসেই ১২০ জন গরু ব্যবসায়ী ও আবাদী কৃষককে পাখির মত গুলী করে মেরেছে বিএসএফ। অর্থাৎ মাসে কিনা ১০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে গত বছরে। অপহরণ করেছে ৯৮ জনকে, ৩ জন বাংলাদেশী নারী বিএসএফ’র হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১৯৮ জন বাংলাভাষী নাগরিককে পুশ-ইন করা হয়েছে। প্রতি বছর এ হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত সাড়ে আট বছরে ৭০৭ জন অর্থাৎ বছরে গড়ে ৮৩ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০০৮ সালের এই লেখা (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত মোট ৭৮ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে তাদের হাতে। এখানেই শেষ নয়, সরকারীভাবে ভারত দাবী করে আসছে তাদের দেশে বড় বড় সব অনাসৃষ্টির পেছনে বাংলাদেশের হাত রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো তারা দাবী করে, এসব কাজে নাকি সহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। উত্তর ভারতে উলফার স্বাধীনতা আন্দোলন, বোডোল্যান্ড আন্দোলসহ সব চরমপন্থী আন্দোলনের কলকাঠি নাড়া হয় নাকি বাংলাদেশ থেকেই।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের সাথে ভারতের রয়েছে ৪,০৯৫ কিমি (২৫৩৯ মাইল) বিস্তৃত সীমান্ত। বাংলাদেশের অভিযোগ-অনুরোধ অগ্রাহ্য করে সীমান্তে ভারত মোট ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করবে, সীমান্তের বাকি এলাকা দুর্গম। ইতিমধ্যে ২ হাজার কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষও হয়েছে।&lt;br /&gt;ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রসংগ কেমনভাবে উপস্থাপন করা হয় তা জানার অধিকার বোধ হয় প্রত্যেক বাংলাদেশীরই রয়েছে। বাংলাদেশে ‘ভারত-বান্ধব’ বলে পরিচিত অনেক স্ক্রীন ও প্রিন্ট মিডিয়ার কথা শোনা যায়। কিন্তু ভারতে ‘বাংলাদেশ-বান্ধব’ বলে পরিচিত কোন মিডিয়া আছে কিনা তা বোধ হয় আমাদের নয়াদিল্লীতে কর্তব্যরত হাইকমিশনারই ভাল বলতে পারবেন।&lt;br /&gt;গত ১৮ জুলাই, ২০০৮ ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা দুইজন বিডিআর সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর পাঁচদিন পর আবারো সংঘর্ষ বাঁধে। ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে খবরটি আসে মোটামুটি এভাবে।&lt;br /&gt;বিডিআরের গুলিতে বিএসএফ জওয়ান ইয়াদুর আপ্পা জীবন উৎসর্গ করলেন। সম্পূর্ন বিনা উস্কানীতে বিডিআর এ ধরনের অপকর্ম ঘটালো গত পাঁচ দিনে দুইবার। ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের জওয়ানসহ সাধারন গ্রামবাসীদের এভাবেই বিডিআর হত্যা করে। ২৩ জুলাই ১২৩নং ব্যাটালিয়নের সুদর্শন (৪০)কে বিডিআর হত্যা করেছে। মিরসুলতানপুর গ্রামের এক কৃষককে চাষরত অবস্থায় গুলী করে মালদা হাসপাতালে পাঠিয়েছে ওরা। বিএসএফের গুলীতে দুইজন বিডিআর কর্মকর্তার করুণ বিয়োগাত্বক ঘটনার ব্যাখ্যা করতে গিয়েও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে ভারতীয় প্রচার মাধ্যম। মেরিনিউজ নেটওয়ার্ক চোরাকারবারীদের সাথে বিডিআরকেও অভিযুক্ত করে লিখেছে, অবৈধ গরু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ রাইফেলসের মৌন সম্মতিতেই তাদের চালান বাংলাদেশে পাঠায়। বিএসএফ সদস্য রামকিষান পান্ডে স্পীডবোটে ৩০০টি গরুর একটি পালকে রোধ করতে ধাওয়া করে। অথচ কারন ছাড়াই বিডিআর ১০০ রাউন্ড গুলী ছুঁড়তে ছুঁড়তে বিএসএফের দিকে ধেয়ে আসে। বিএসএফ এর জবাবে আত্মরক্ষার্থে মাত্র ১৯ রাউন্ড গুলী করে। বিডিআরের এরকম অযাচিত গুলীতে আহত হয়ে রামকিষান গঙ্গায় পড়ে গিয়ে সাঁতরে তীরে উঠেন। পরবর্তীতে বিএসএফ ২৫০টি গরুর মাথা উদ্ধার করে যার মুল্য ৭০ লাখ রুপী। অবশ্য চোরাচালানকারীরা ৫০টি গরুর মাথা নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এরপর সোভাপুর আউটপোস্টে ফ্ল্যাগ মিটিং বসে। দু’পক্ষই সংকল্পবদ্ধ হয় এ ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি রোধের। মেরিনিউজ খবর বিকৃতি করে আরো জানায়, পূর্বাপর বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করে বিডিআর এসব ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের সিদ্ধান্তকে খুব বেশী পাত্তা দেয়না।&lt;br /&gt;মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ উক্ত ঘটনাটির কারন অনুসন্ধান করে একটি বিশ্লেষনাধর্মী রিপোর্ট দেয়। রিপোর্টে বলা হয়, জুলাই ১৭, ২০০৮ রাতে একটি স্পীডবোট ও ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকা নিয়ে বিএসএফ পদ্মা নদীতে টহল দিতে দিতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের দেড় কিমি ভেতরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর গ্রামের ভেতর ঢুকে পড়ে। রাত পৌনে বারোটায় বিডিআর অনুপ্রবেশকারীদের ধরার চেষ্টা করলে স্পীডবোট থেকে বিএসএফ গুলী ছোড়ে। প্রাণ হারান বিডিআর অফিসার আব্দুল হান্নান এবং কৃষ্ণপদ পাল। প্রমান হিসেবে ‘অধিকার’ প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম দিয়েছে গ্রামবাসী জিয়াউল হক, ৩৯ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অপারেশন অফিসার মেজর আবু হাসান ও নিহতদের পোস্ট মর্টেম সম্পন্নকারী চিকিৎসক ডাঃ তাজউদ্দীন।&lt;br /&gt;বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিএসএফ কর্তৃক দুইজন বিডিআর নিহত হওয়ার খবর সম্পূর্ন অস্বীকার করে প্রেস রিলিজ দেয়। এত বড় ডাহা মিথ্যাচার কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম করতেও শরম পেয়েছে। ঢাকায় বসে প্রেস রিলিজে হাইকমিশনার জানায়, ‘বিএসএফের গুলী বিনিময় হয়েছে স্মাগলারদের সাথে, বিডিআরের সাথে নয়’। ভারতের সৌভাগ্য, এমন উদ্ধত ও মিথ্যা কথা বলায় হাইকমিশনারকে তলব করা তো দূরের কথা দায়ছাড়া গোছের ‘দুঃখজনক’ শব্দ ছাড়া দেশপ্রেমিক কোন শক্তির পক্ষ থেকে কড়া কোন প্রতিবাদও আসল না। অবশ্যি ভারতীয় বশংবদের বিপরীত প্রজাতির কেউ এমন কথা বলে থাকলে আমাদের মিডিয়া তৎপর হয়ে তাকে ক্ষমা চাওয়াতে বাধ্য করত। যাহোক, মেজর হাসান অভিযোগ করেন, ভারত ১৯৭৫ সালে প্রণীত ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত গাইডলাইন মেনে চললে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটত না।&lt;br /&gt;সবশেষে আমরা বলতে পারি, ভাল প্রতিবেশী পাওয়ার ভাগ্য সবার কপালে জোটে না। মর্যাদাকর রাস্ট্র প্রতিষ্ঠায় সারাক্ষন প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া করাও কোন কল্যানকর রাস্ট্রের কাম্য নয়। আমরা তা চাইও না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাই বলে ‘জ্বী হুজুর মার্কা’ নতজানু পররাস্ট্রনীতি শক্তিধরদের মোকাবেলার কোন সমাধানও দিতে পারেনি। এভাবে ঠান্ডা মাথায় যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়া নিয়মিতভাবে মানুষজনকে পাখির মত গুলী করে হত্যা ও অন্যদেশ কর্তৃক সীমান্ত সার্ভে করা পৃথিবীর অন্য কোন দেশের চৌহদ্দিতে হয় কিনা জানিনা। আমাদের দেশ, জীবন ও মান এত সস্তা হতে পারেনা। দূর্বল সরকারের সুযোগে স্বদেশের সার্বভৌমত্ব বিনাশে অশুভ কোন শক্তির উদ্ভব পক্ষ-বিপক্ষ কারো জন্য মংগল বয়ে আনবে না। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে গৌরবজনক অবস্থানে নিতে সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে হবে। শান্তিকামী বিশ্বসম্প্রদায়ের সহায়তায় দ্রুত আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী বার বার টান টান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পথ সম্মানজনক উপায়ে চিরতরে রুদ্ধ করা সময়ের দাবী। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;*লেখাটা দৈনিক নয়াদিগন্ত ছেপেছে ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮-এ।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;a href="http://www.dailynayadiganta.com/2008/09/15/fullnews.asp?News_ID=104040&amp;amp;sec=6/"&gt;http://www.dailynayadiganta.com/2008/09/15/fullnews.asp?News_ID=104040&amp;amp;sec=6/&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt; &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-2840201017993766041?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/2840201017993766041/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=2840201017993766041' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/2840201017993766041'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/2840201017993766041'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/09/blog-post_09.html' title='সুরক্ষা স্বাধীনতা এবং সীমান্তে ‘পাখির ছানা’'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMc9YbHDggI/AAAAAAAAABk/ZGnCwryEgCk/s72-c/untitled.bmp' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-7579570086889446892</id><published>2008-09-04T06:35:00.000-07:00</published><updated>2008-09-28T08:47:58.468-07:00</updated><title type='text'>মানুষ খুঁজে পাওয়া গেল ব্রাজিলের জংগলে</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_nA2-a2oI/AAAAAAAAAAg/CKarZWVRCIc/s1600-h/%E0%A7%8B%E0%A7%87.bmp"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5242162493225884290" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_nA2-a2oI/AAAAAAAAAAg/CKarZWVRCIc/s320/%E0%A7%8B%E0%A7%87.bmp" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_mzJOIOFI/AAAAAAAAAAY/K09gYhb3zvo/s1600-h/amazon4.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5242162257605441618" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_mzJOIOFI/AAAAAAAAAAY/K09gYhb3zvo/s320/amazon4.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক মানুষেরা বিজ্ঞানের এমন শীর্ষে অবস্থান করছে যে আজ তারা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সন্ধানে ব্যস্ত। মার্কিন মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ‘নাসা (NASA)’-র ৪২২ মিলিয়ন ডলার মিশনের একটি নভোযান ‘ফিনিক্স’ গত ২৫ মে মঙ্গলগ্রহের ভূ-পৃষ্ঠে অবতরন করে। ফিনিক্স সেখানে চার মাস এক সপ্তাহ চলাফেরা করে পৃথিবীতে ক্ষণে ক্ষণে রিপোর্ট পাঠাবে। তার কাজ হল প্রাণের অস্তিত্বের অনুসন্ধান করা। ধারনা করা হয়, মঙ্গলের মাটির কয়েক ইঞ্চি নীচে রয়েছে বরফের স্তর। ফিনিক্সের দায়িত্ব হল মাটিতে কতটুকু পানি বা কোন জীবানু লুকিয়ে রয়েছে কিনা তার অনুসন্ধান করা। এই নভো খেয়া যানটি এ পর্যন্ত কয়েকটি ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে । তার মধ্যে একটি ছবিতে এক ফুট তিন ইঞ্চি গভীর সাদা রঙের কোন বস্তুর দেখা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন এটি হয় বরফ নতুবা লবন। বরফ হলে এর শোধিত হওয়ার দাবী রাখে অথবা তরলীকরন ছাড়াই এটি কঠিন থেকে বায়বীয়তে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। কারন হল, গ্রহটির শীতল তাপমাত্রা (দিনের বেলায় ১৫ ডিগ্রী ও রাতে মাইনাস ১৪০ ডিগ্রী সেলসিলয়াস) এবং বায়ুমন্ডলের চাপও কম । আর যদি লবন হয়, তবুও তাৎপর্যপূর্ন। কারন, পানি বাস্পীভূত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে লবন তৈরির পদ্ধতিটাই হল সাধারন। বিজ্ঞানীরা পানির অস্তিত্ব প্রমানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সর্বশেষ ছবিতে তারা নিশ্চিত যে পানি আছেই। আরো প্রমানের জন্য তাঁরা উক্ত মাটির খন্ডটিকে পৃথিবী থেকেই ১৮০০ ডিগ্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও করছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবীর থেকে ন্যুনতম ৫০ মিলিয়ন মাইল দূরের গ্রহে প্রাণ আবিস্কারের নেশায় মানুষের যদি এই অবস্থা হয়, তখন একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের আর সব অগ্রগতি সম্মন্ধে কিইবা বলার থাকে? অথচ এই পৃথিবীর কোন জংগলেই লুকিয়ে রয়েছে হরেক রকমের মানবগোষ্ঠী যাদের সম্মন্ধে আধুনিক মানুষদের কোন ধারনাই নাই। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, সভ্য দুনিয়ার সাথে কোন সংযোগই নাই, গহীন বনে বাস করা এরকম গোত্রের মানুষ এখনো প্রচুর?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্রাজিল ও পেরুর সীমান্তবর্তী প্রদেশ ‘আকরি (Acre)’-র বনাঞ্চল আমাজনের দক্ষিনাঞ্চলের গহীন অরণ্যে এই ‘সংস্পর্শবিহীন গোত্র (Uncontacted tribe)’-এর সন্ধান পাওয়া গেছে। নৃতাত্ত্বিকদের ভাষায় ‘আনকন্টাক্টেড ট্রাইব’ তাদেরকে বলা হয়, যাদের সম্মন্ধে বাইরের মানুষেরা কমবেশী জেনে গিয়েছে কিন্তু তাদেরকে সভ্য মানূষদের সংস্পর্শে আনা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এ বছরের এপ্রিল ২৮ থেকে মে ২ পর্যন্ত ছোট ঊড়োজাহাজ নিয়ে টানা বিশ ঘন্টা ধরে ক্যামেরা নিয়ে এই নতুন গোত্রের মানুষদের সনাক্ত করা হয়। ৩০ মে বিবিসি, সিএনএন, ইউটিউবসহ আন্তর্জাতিক সব মাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশিত হয়। আদিবাসীদের নিয়ে ব্রাজিলের সরকারী গবেষনা প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন (The National Indian Foundation, সংক্ষিপ্ত নাম, ‘ফুনাই Funai’)’ বলেছে, সারা পৃথিবীতে একশোরো বেশী সংস্পর্শবিহীন গোত্রের মানুষজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন জংগলে। এদের মধ্যে শুধু মাত্র পেরু বা ব্রাজিলেই থাকতে পারে অর্ধেকেরো বেশী। ‘সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল (Survival International)’ নামে অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান, যারা আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে, তাদের মতে সব গোত্র সমূহই জোর করে তাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত, হত্যা ও নানাবিধ রোগ-শোকে আক্রান্ত হওয়াসহ প্রভূত বিপদের সম্মুখীন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওইসব গোত্রের মানুষদের নিকট পৌঁছানো যথেষ্ঠ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একে তো গহীন অরন্য, তারপর রয়েছে আদিবাসী কর্তৃক ‘বহিঃশত্রু অনুপ্রবেশকারীদের’ ঠেকানোর জন্য গাছের বড় বড় গুড়ি রাস্তায় ফেলে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি। এর ফলে তাদের সম্মন্ধে জানার শেষ পথও অসম্ভব হয়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সর্বশেষ আবিষ্কৃত নতুন এই গোত্রের মানুষদের চিহ্নিত করার মধ্যদিয়ে ব্রাজিলে এ পর্যন্ত মোট ৬৮ টি আনকন্টাক্টেড ট্রাইবের সন্ধান পাওয়া গেল, যারা কিনা আধুনিক দুনিয়ার মানুষ থেকে সরাসরি বিচ্ছিন্ন। হেলিকপ্টার দিয়ে প্রাপ্ত ছবিগুলোতে দেখা যায়, অচেনা এই গোষ্ঠীটি তীর, বল্লম নিয়ে ক্যামেরা বরাবর তাক করছে। তাদের বাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছে তাল জাতীয় শাখাহীন বৃক্ষের গুল্ম, লতা-পাতা দিয়ে ছাওয়া কুটির। এসব কুটিরকে বলা হয় ‘ম্যালোকাস (malocas)’। কুটিরের বাসিন্দারা বুঝি ভাবছে তাদের এলাকাটি হুমকির সম্মুখীন। তাই প্রতিরক্ষার জন্য তাদের নিত্য ব্যবহার্য হাতিয়ারসমূহ দ্বারা হেলিকপ্টারকে প্রতিহত করতে যুদ্ধ সাজে প্রস্তুত হয়ে আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের ডিরেক্টর স্টিফেন কোরী (Stephen Corry) বলেছেন, অনেকেই এই গোষ্ঠীটির অস্তিত্বের ব্যাপারে পূর্বে সন্দিহান ছিল। আজ এইসব ভিডিও ছবির মাধ্যমে পরিষ্কার হল যে আজো পৃথিবীতে অজানা মানুষের উপস্থিতি বিদ্যমান। এদেরকে সভ্য মানুষ বানানোর নামে তাদেরকে জংগল থেকে একেবারে নিয়ে আসারও পক্ষপাতী নন নৃতত্ত্ববিদরা (Anthropologists)। তাঁরা বলছেন, তা হলে হবে ‘স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের মত অপরাধ’ যাকে বলে ‘মন্যুমেন্টাল ক্রাইম (monumental crime)’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেননা, এদেরকে আধুনিক মানুষ বানানোর প্রচেষ্টার পূর্বের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। সভ্য মানুষদের সংস্পর্শে এসেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের খাবার খেতে পারেনা। সিদ্ধ করা খাবারে তাদের জিহবায় গোটা গোটা ফুসকুরি জাতীয় এমন সব অজানা রোগে আক্রান্ত হয় যা কিছুতেই সারানো যায় না। পানি-বসন্ত থেকে শুরু করে সাধারন ঠান্ডা-কাশিতেই তাদের মৃত্যু হয়। শরীর আধুনিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহন না করায় খুব সহজেই সাধারন অসুখেই প্রানহানি হওয়ায় নৃতাত্ত্বিকেরা তাদেরকে বাহিরে আনার প্রচন্ড বিরোধী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফুনাই (Funai)-র তোলা ফটোগুলো থেকে ধারনা করা হয়, গোত্রের প্রায় এক ডজনের মত মানুষ, যাদের শরীরের বেশীরভাগই অনাবৃ,ত, ৬টি কুটিরের সামনে তীর, ধনুক নিয়ে পজিশনরত। লাল রঙ দিয়ে শরীর চিত্রিত করা মানুষদের পুরুষ হিসেবে, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রঙ দ্বারা সারা গা মাখানো জনকে মহিলা হিসেবে মনে হয়।ছবিতে পুরুষদের খুব শক্তিশালো মনে হচ্ছে। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;p align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;আরো ছবি দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুনঃ&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;a href="http://www.boston.com/bigpicture/2008/05/uncontacted_tribe_photographed.html"&gt;http://www.boston.com/bigpicture/2008/05/uncontacted_tribe_photographed.html&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;এই দল সম্মন্ধে নৃতত্ত্ববিদরা একেবারে জানেন না বললেই চলে। তবে তাদের সন্দেহ গোত্রটির সাথে ‘টানো (Tano)’ এবং ‘আরোয়াক (Aruak)’-এর সংযুক্ততা থাকতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ায় একশোটিরো বেশী এসব সংস্পর্শহীন গোত্র বিভিন্ন অরন্য, সাগরতীরে বিচ্ছিন্নভাবে বাস করছে। অবৈধভাবে বৃক্ষ নিধনের ফলে সম্প্রতি পেরুর সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচশো জন ইন্ডিয়ান (আদিবাসীদেরকে ইন্ডিয়ানও বলা হয়) ব্রাজিলের দিকে গহীন পুরু অরণ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। আধুনিক লোকদের সংস্পর্শে থাকা তার পছন্দ করেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দীর্ঘ ও ভারী বল্লম নিয়ে হৃষ্টপুষ্ট শরীরের মানুষগুলোদের ‘শত্রু’ মোকাবেলার ভংগিকে রীতিমত যোদ্ধাদের দল বলে মনে হয়। জীব-জন্তুদের সাথে বাস করায় তাদের দাঁড়ানোর ভংগিটিও হয়তোবা কোন জন্তুর কাছ থেকে নকল করেছে। তবে বাসস্থানের জন্য ঘর বানানোর সাধারন বুদ্ধি ও কৌশল বুঝি তাদের রয়েছে। নইলে ঘরগুলো ঠিক আমাদের সাধারন মানুষদের ঢালু দুচালের শনের তৈরি ঘরের মতো হত না। &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;br /&gt;ব্রাজিলে সর্বমোট প্রাপ্ত ৬৮টি সংস্পর্শহীন গোত্রের প্রায় সব ক’টিই পাশ্চাত্যের সভ্যতার ব্যাপারে কমবেশী জ্ঞান থাকার কথা। কারন, রাবার চাষী, বন-চোর ও অন্যান্য গোত্র (যারা বাইরের মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখে)-র সাথে বেচাকেনা ইত্যাদিতে তাদের সাক্ষাৎ মেলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল অনুমান করেছে, পৃথিবীব্যাপী প্রায় ১০০টি গোত্র রয়েছে যারা সভ্য দুনিয়া থেকে একেবার সংস্পর্শহীন থাকাতেই পছন্দ করে যদিও বাইরের দুনিয়া সম্মন্ধে জ্ঞান তাদের কিছুটা রয়েছে। সত্যি বলতে কি, এসবগুলোর মধ্যে বংগোপসাগরের তীরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা ‘সেন্তিনেলিজ (Sentinelese)’ গোত্রই মুলতঃ জানার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে একমাত্র ‘সংস্পর্শহীন গোত্র’। কেননা, এরা কোনভাবেই বাইরের সাথে সম্পর্কিত নয়। দক্ষিণ আন্দামানের উত্তর সেন্তিনেলে ৭২ বর্গ কিমি জুড়ে এদের অবস্থান। দ্বীপের নিকটবর্তী মানুষেরা তাদেরকে কদাচিৎ দেখলেও বিস্তারিত জানার সুযোগ নেই। কারন, বাইরের কাউকে দেখলেই এরা ধেয়ে আসে, দখলদার ভেবে তীর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দেয়। ২০০১ সালে ভারতের আদমশুমারী অনুযায়ী এদের সংখ্যা বলা হয়েছিল ২১ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা। কিন্তু সত্যিকার তথ্য পাওয়া অসম্ভব। গবেষকরা মনে করেন, এই সংখ্যা হবে কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচচ ৫০০ জন। ২০০৪ সালে ভারত সাগরের ভূমিকম্প ও সুনামীতে তাদের ভাগ্য জানা না গেলেও তারা যে বেঁচে আছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সেন্তিনেলিজদেরকে বলা হয় ‘নেগ্রিটস (negritos)’ যারা হবে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার মানুষজন থেকে বিচ্ছিন্ন কোন এক জাতি। আবার এদের সাথে সংযুক্তা রয়েছে মালয় দ্বীপপুঞ্জের ‘সেমাং (Semang)’ গোত্রের সাথে। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের ‘এইটা (Aeta)’ গোত্র, এমনকি দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সাথেও এদের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন নৃতাত্ত্বিকেরা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুলনামূলকভাবে নেগ্রিটদের খাটো ও কালো চামড়ার শরীর এবং কুকড়ানো চুলসহ এমন সব আরো বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের সাথে আবার আফ্রিকানদের চেহারাও মিলে যায়। তবে এরা কিন্তু সাধারন আন্দামানবাসীদের চেয়ে লম্বা। গড় উচচতা পুরুষদের ৬ ফুট ও মহিলাদের ৫ফুট ৪ ইঞ্চি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসব আদিবাসীদের জীবন-রক্ষা ও তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিশ্ববাসীর আরো চিন্তা করা দরকার। নইলে এই মানুষগুলো একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোন গ্রহে প্রানের সন্ধান খোঁজার চেয়ে এই মানুষগুলোর প্রাণ রক্ষাও কম জরুরী নয়। &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;*লেখাটা ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক অন্যদিগন্ত সেপ্টেম্বর ২০০৮ সংখ্যায় এসেছে।  &lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-7579570086889446892?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/7579570086889446892/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=7579570086889446892' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/7579570086889446892'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/7579570086889446892'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/09/blog-post.html' title='মানুষ খুঁজে পাওয়া গেল ব্রাজিলের জংগলে'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_nA2-a2oI/AAAAAAAAAAg/CKarZWVRCIc/s72-c/%E0%A7%8B%E0%A7%87.bmp' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-4243965262893154510</id><published>2008-08-12T18:43:00.000-07:00</published><updated>2010-02-12T06:35:17.930-08:00</updated><title type='text'>রাহুল গান্ধীর ‘ব্যক্তিগত সফর’ এবং আমাদের  ‘বস্তি-দর্শন’ সংস্কৃতি</title><content type='html'>&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_sD5XvJnI/AAAAAAAAABA/o1tpeRdCE8M/s1600-h/rahul_gandhi_248pppp.jpg"&gt;&lt;img style="MARGIN: 0px 10px 10px 0px; FLOAT: left; CURSOR: hand" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5242168042966689394" border="0" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_sD5XvJnI/AAAAAAAAABA/o1tpeRdCE8M/s320/rahul_gandhi_248pppp.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পাঁচদিন ‘ব্যক্তিগত সফর’ শেষ করে ভারতের লোক সভার সদস্য ও গান্ধী পরিবারের তরুন উত্তরাধিকারী রাহুল গান্ধী ৫ আগস্ট ঢাকা থেকে দিল্লী ফিরে যান। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) তার এই সফরকে ‘ব্যক্তিগত সফর’ নামে অভিহিত করে ইনভার্টেড কমা দ্বারা শব্দ দুটিকে আবদ্ধ করে দিয়েছে। আমরা সবাই জানি, কোন শব্দকে ইনভার্টেড কমা দ্বারা আবদ্ধ করার অর্থ হলো ওই কথার সাথে বক্তা ঐকমত্য পোষন নাও করতে পারেন। অবশ্যি বাংলাদেশীয় সব গণমাধ্যমই সরল বিশ্বাসে তার বাংলা দর্শনকে ‘শিক্ষা সফর’ নাম দিয়ে ফলাও করে প্রচার করেছে। আমরাও বিশ্বাস করতে চাই, তিনি আমাদের অসৎ প্রতিবেশী নন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপমহাদেশের বিখ্যাত এক পরিবারের সদস্য তিনি। সেই সুবাদে প্রাচীন ও বড় দল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদকও বটে। তিনি এক স্থানে বলেছেন, তার পরিবার যা চায় তাই হয়। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির উদ্ভব নেহেরু-গান্ধীপরিবারের ধারনা থেকেই উৎসরিত। এমন অপমানজনক কথা নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চবাচ্য না হলেও খোদ ভারতের এমন কি পাকিস্তানের ফরেন অফিসও প্রতিবাদ পাঠিয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে উপমহাদেশের নামকরা ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব বলেছেন”....... an insult to the Bangladesh movement. Rahul is free to say whatever he wants to, but in a democratic country playing up family is certainly not in good taste।“&lt;br /&gt;অর্থাৎ এর মাধ্যমে রাহুল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে অপমান করেছে। সে যা খুশী তাই বলতে পারে কিন্তু পরিবার নিয়ে খেলা করা কোন গনতান্ত্রিক দেশের জন্য ভাল দৃষ্টান্ত নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৯২ সালে নরসীমা রাওয়ের আমলে বাবরী মসজিদ ভাঙার প্রসঙ্গে টেনে এনে রাহুল তার উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বলেছিলেন, ‘সে সময়ে গান্ধী-নেহেরু পরিবারের কেউ রাজনীতিতে জড়িত থাকলে এরকম ঘটনা ঘটত না।‘ বারে বারে পরিবার নিয়ে তার এরকম দেমাগোক্তিতে বিরুক্তি হয়ে দক্ষিনের বিজেপি নেতা বেংকাইয়া নাইডু বলেছেন, ‘তাহলে জরুরী অবস্থা আগমনের দায়িত্বও গান্ধী পরিবারকে নিতে হয়!‘&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা রাহুল সম্মন্ধে খানিকটা জানার আগে দেখি, কেমন কাটালেন ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী আমাদের নতুন অতিথি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিল্লীতে ফেরত যাওয়ার আগেরদিন বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারণা দেয়া হয়েছিল এখানে এসে তা পাল্টে গেছে। আমাকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ একটি চরম মৌলবাদী মুসলিম সাম্প্রদায়িক দেশ। এখানকার জনগণ অত্যন্ত দরিদ্র। কিন্তু বাস্তবে এসে আমার মনে হয়েছে যে, এখানকার লোকজন অত্যন্ত উদার প্রকৃতির। চরমপন্থী কোনো মৌলবাদী দেশ এটা নয়। জনগণ সহজ সরল প্রকৃতির। অর্থনৈতিকভাবেও এখানকার অবস্থা যতটা খারাপ বলা হয়েছে ততটা নয়। ভারতের গরিব মানুষের চেয়েও এখানকার দরিদ্রদের অবস্থা ভালো। তিনি দুই দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।‘ তাকে কারা বাংলাদেশ সম্পর্কে এরকম ধ্বংসাত্মক ধারনা দিয়েছেন তা আমরা জানি না। কারন এসব খারাপ কাজ সাধারনত দিনের আলোতে কেউ বলে কয়ে করেনা। তার কোন রেকর্ডও থাকেনা। সে যাহোক, ভারতের রাজনীতিতে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি রাহুল গান্ধী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহম্মদ ইউনূসের এনজিও গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাক সেন্টারের আমন্ত্রনে। এরকম খবরই অন্ততঃ আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যদিও ‘দৈনিক আমাদের সময়’ ৬ আগস্ট লিখেছে, ‘এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্র্যাকের ম্যানেজার (কমিউনিকেশন) পুষ্পিতা আলম বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।‘ তিনি জানিয়েছেন, আসলে ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকের আমন্ত্রণে রাহুল গান্ধী বাংলাদেশে আসেননি’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত পাঁচ দিন রাহুল গান্ধী মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারের ব্র্যাক ইনে অবস্থান করেন। এ সময় তার ও তার প্রতিনিধি দলের থাকা-খাওয়ার খরচ তারা নিজেরাই বহন করেন। কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, রাহুলকে দেওয়া নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফের খরচ বহন করেছে বাংলাদেশ পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সফরকালে রাহুল গাজীপুরে ব্র্যাক কর্মসূচি ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মসূচি পরিদর্শন করেন (দৈনিক সমকাল, ৬ আগস্ট)। তার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সবগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও ভারত থেকে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-এর ১০ সদস্যের একটি দল ঢাকায় আসে। রাহুল ভারতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জেড-প্লাস পেয়ে থাকেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি তার সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে বাস করা মানুষদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের উন্নয়নের চিত্র সম্বন্ধে ধারণা লাভ করেন বলে জানা যায়। বাংলাদেশের গ্রামীন জনপদ ও ভারতের বৃহত্তর অঞ্চলের গ্রামীন জনপদের মানুষদের বসবাসে মৌলিক পার্থক্য কতটুকু, তা তিনিই এখন ভাল বলতে পারবেন। এবার আমরা একটু নজর দিই আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহভারতের গ্রামীন জনপদে বাস করা মানুষদের সম্মন্ধে কি রিপোর্ট দেয়। দি ইন্ডিয়া টাইমস ১৮ এপ্রিল লিখেছে, সহস্রাব্দ উন্নয়ন গন্তব্য (Millennium Development Goal) ধরা ভারতের জন্য এখন অলীক স্বপ্নবৈ অন্য কিছু নয়। ইউএন চিল্ড্রেন্স ফান্ড ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে সেদেশে শিশু মৃত্যর হার আশংকাজনকভাবে নাগালের বাইরে যাওয়ায় যা তার প্রতিবেশী দেশসমূহের চেয়েও অনেক গুন বেশী। ইউনিসেফের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডিরেক্টর ড্যানিয়েল টুল (Daniel Toole) বলেছেন, ভারতে ৫ বছরেরও কম বয়সের ২.১ মিলিয়ন শিশু মারা যাচ্ছে প্রতি বছর।মেয়ে শিশুরা ন্যুনতম মৌলিক চিকিৎসাও পাচ্ছে না। আজো সেদেশে মেয়ে শিশুদের অনার কিলিং (honour killing) হয়। হু&lt;br /&gt;(WHO) বলেছে, ‘বিভিন্ন সেক্টরেভারতে উন্নয়নের জোয়ার বইছে একথা যেমন সত্য, প্রতি দশজন&lt;br /&gt;শিশুর একজন অপুষ্টিতে ভুগছে একথাও সমান সত্য।ভারত অচিরেই বিশ্বের ক্ষুধার্ত দেশসমূকে নেতৃত্ব দিবে।’&lt;br /&gt;তাই সংগত কারনেই প্রশ্ন জাগে, ভারতে ছেড়ে বাংলাদেশের গরীবদের জানা তার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা।&lt;br /&gt;ভাঙা চালের চা-স্টলে বসে চা পান করা কিংবা গ্রামে গিয়ে সাধারন মানুষদের সাথে ড্রাম বাজিয়ে নেচে গেয়ে&lt;br /&gt;অভিজ্ঞতা অর্জন করা রাহুলের জন্য কি সত্যি মানায়? কেন যেন আমাদের দেশটা টুরিজমের তালিকায় বস্তি, ভাঙা&lt;br /&gt;চাল, কিংবা ছিন্নভিন্ন নতুন করে স্থান পেয়ে গেল। হিলারী ক্লিনটনকে দিয়ে ডঃ ইউনুস যে যাত্রা শুরু করে দিয়ে&lt;br /&gt;গেলেন, আজ মনে হয় তা সব এনজিওর জন্য অনুকরনযোগ্য ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এছাড়া মিঃ জুনিয়র গান্ধী আরো একটি কাজ করেছেন। পত্রিকায় এসেছে, ‘রাহুল গান্ধীর সাথে গতকাল দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কর্মকর্তা ও সমমনা বুদ্ধিজীবীদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সম্পর্কে কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত বৈঠকটি চলে। বৈঠকের আগে সেখান থেকে টিভি ক্যামেরাম্যান এবং সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়। সাবেক সিপিবি ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের সাথে উক্ত বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে এ কথা জানতে চাইলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় এবং এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না। একদম নিষেধ করে দিয়েছেন।‘ এ কথা বলে তিনিও বেরিয়ে যান। বৈঠকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড· মোস্তাফিজুর রহমান, ট্রাষ্টি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহি, ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান, আনিসুল হক, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সাবেক উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক চক্রবর্তীও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।‘ (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত ও ইত্তেফাক ৫, ২০০৮)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গোপনীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সাংবাদিকেরা অনেক সময় অপছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে এলোমেলো কথা প্রকাশ করেন, যার জন্য শেষে অনেকেই লজ্জাজনক পরিস্থিতির শিকার হন। তাই আমরা কষ্ট করে হলেও ধরে নিলাম, উক্ত বৈঠকে মিডিয়া এড়িয়ে কানে কানে আমাদের সমাজের ব্রাহ্মগোত্র ভুক্ত সুশীল গোষ্ঠী রাহুলকে বুঝিয়েছেন, সিডর আক্রান্ত মানুষদের সাথে ৫ লাখ টন চাল দিবে বলে যে প্রতারণা করলে তা ঠিক করোনি, সীমান্তে পাখির মত গুলি করে আর মানুষজন মেরোনা, ট্রানজিট নিয়ে এরকম অযৌক্তিক জিদ ধরলে কি হয়, ফারাক্কার পানি ঠিকমত দিয়ে দাও, স্বাধীনতা যুদ্ধের পাওনাগুলো তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দাও, আমাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরন করোনা ইত্যাদি। বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবিরা নিশ্চয়ই তাকে বুঝিয়েছেন, দেখো নিছক এসব কারনেই এদেশের মানুষ বারে বারে এক অখ্যাত মেজরের অসংগঠিত দলকে ক্ষমতায় বসায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের বস্তি-দর্শন সংস্কৃতি সম্মন্ধে জানার আগে শ্রীমান রাহুল গান্ধী সম্মন্ধে আর একটু জেনে নেই।&lt;br /&gt;বিভিন্ন কারনে তিনি ভাল কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। বন্ধুরা বলে, তিনি খুবই লাজুক প্রকৃতির । তাই এসব বিষয়ে নিয়ে খুব খোলাসা করে কিছু বলেনও না। পশ্চিমে কাউকে রাজনীতি করতে গেলে প্রচুর ঘাম ঝড়াতে হয়। মেধাবী হতে হয়, পড়তে হয় নামকরা ইউনিভার্সিটিত, আইন বিষয়ে অনেক পড়তে হয়। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশ এর ব্যতিক্রম। আজকাল কোন পলিটিশিয়ানেরই মেধাবী ছেলে-মেয়েরা রাজনীতিতে আসে না। কারন, এটা অত্যন্ত দূষিত ও নোংরা পরিবেশ। তাই পরিবারের বিগড়ে যাওয়া সন্তানদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় রাজনীতিকেই অবশিষ্ট ক্যারিয়ার নির্মানের সোপান হিসেবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাহুল গান্ধী নয়াদিল্লীর মডার্ণ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা নেন। ওই সময়ে পাঞ্জাবে চলছিল ব্যাপক সহিংসতা যার ফলে তার দাদী ইন্দিরা গান্ধীকে প্রান হারাতে হয় (অক্টোবর, ১৯৮৪)। স্কুল ছেড়ে বোন প্রিয়াংকা সহ তিনি বাড়ীতেই পড়তে থাকেন। ১৯৮৯ সালে সেন্ট স্টিফেন কলেজে ইতিহাসে ভর্তি হন। কিন্তু মাত্র এক বছরেই ডিগ্রী না নিয়ে কলেজ ছাড়তে হয়। এই কলেজে তিনি মেধার ভিত্তিতে সুযোগ না পেয়ে স্পোর্টস (শুটার) কোটায় ভর্তি হন। কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ অনল উইলসন বলেন, রাহুল তখন পরিবার নিয়ে খুব একটা গর্ব করত না। আর অল্পদিন পাওয়ায় তার মেধা যাচাইয়ের কোন সুযোগ আমরা পাইনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর ১৯৯০ সালে চলে যান সোজা আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিহাস ছেড়ে এবার ভর্তি হন অর্থনীতি বিভাগে। প্রেমে পড়েন কলম্বিয়ান বালিকা স্প্যানীশ ভাষী জুয়ানিতার। তারা এখন চুড়ান্ত পরিনয়ের অপেক্ষায়। রাহুল চার বছরের অনার্স কোর্স শেষ করলেও প্রয়োজনীয় গ্রেডের অভাবে ডিগ্রী নিতে পারেন নি। তিনি মাঝে মাঝে চুপি চুপি দাবী করেন এমফিল করার। কিন্তু সংবাদ কর্মীরা হার্ভাডের এলামনাই এসোসিয়েশন ঘেঁটে প্রাক্তন ছাত্রদের তালিকায় তার নাম পাননি। রাহুলও আর এগোননি। এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়, রাজীব গান্ধীও কিন্তু ক্যামব্রিজে লেখাপড়ার শেষ পাঠটি চুকাতে পারেন নি। ইন্দিরা গান্ধীকেও অক্সফোর্ডের সমারভিল কলেজ থেকে ডিগ্রী না নিয়েই ফিরে আসতে হয়েছিল। আর কাকতালীয়ভাবে সবাই তারা তাদের প্রিয়জনকে খুজে পেয়েছিলেন ওইসব বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকেই। অনেকেই ব্যংগ করে বলেন, এজন্যই বুঝি বিধাতা তাদেরকে ওখানে পাঠিয়েছিলেন! এসব অসম্পূর্ন ডিগ্রী কিন্তু তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করতে পারেনি। নিয়মের অমোঘ ধারায় হয়তো রাহুলও সেভাবেই পার পেয়ে যাবেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাহুল পুরোদমে এখন রাজনীতি শিখছেন।নেহেরু পরিবারের এই উত্তরাধিকারকেসেভাবেই পূর্ন প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। একদল উপদেস্টা সার্বক্ষনিক মনিটর করছেন । ইমেজ যাতে আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিক থেকে তারা আগের চেয়ে এখন আরো বেশী সচেতন। রাজস্থানের গভর্ণর শালেন্দ্র কুমার সিং-এর পুত্র কানিশক তাদের মধ্যে তরুন একজন। তিনি রাহুলকে উপমহাদেশের গতানুগতিক ধারার রাজনীতির বাইরে আনতে সদা তৎপর। ক্যারিশ্মাটিক নেতা বানাতে তাকে নিয়ে যান বস্তিতে, দলিত গ্রামবাসীদের সাথে রাত কাটান ইত্যাদি। এসবই হচ্ছে তাদের নব আবিস্কৃত রাজনৈতিক কৌশল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৈশাখের প্রথম প্রহরে শখ করে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার মত ক্যামেরা ম্যানদের সাথে বিদেশীদের বিশেষকরে সাদা চামড়াওয়ালদের নিয়ে বস্তিতে ছুটে যাওয়া কিংবা গ্রাম-দর্শন কালচার বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ প্রকট। উদ্দেশ্য মহৎ হলে অবশ্যই দোষের নয়। গরীব মানুষদের জন্য বড় বড় কথা না বলে সত্যিকার ভাবেই কিছু একটা করা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য, উতসাহব্যঞ্জকও। কিন্তু আসলে কি তাই?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Writer আমিনূল মোহায়মেন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতর আলোকে স্বদেশকে বিদেশের মাটিতে ডুবানোর এরকম ভয়াবহ প্রকল খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন তার লেখা বাংলাদেশে মিডিয়ার নেতিবাচক ভূমিকাঃ প্রকৃতি, প্রভাব ও কারন প্রবন্ধে। তিনি লিখেছেন, ‘নব্বই এর দশকে বাংলাদেশে এনজিও খোলার হিড়িক পড়ে যায়। অধিকাংশ এনজিওর অর্থায়ন ঘটে বিদেশী উৎস থেকে। বিদেশ থেকে অর্থ আনার জন্য তারা বাংলাদেশের দারিদ্র, অনগ্রসরতা, ধর্মীয় কুসংস্কার - ইত্যাদিকে অতিরঞ্জিত করে বহির্বিশ্বে উপস'াপন করে। আমি এক সময় বাংলাদেশের একটি বৃহৎ এনজিওতে কাজ করতাম। হেড অফিসের একটি বিশাল ফ্লোর নিয়ে ছিল মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের স্টুডিও। ভিডিওগ্রাফীর প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে প্রায়ই সেখানে যেতাম। স্টুডিওতে চাটাই দিয়ে গ্রামের কুড়েঘর তৈরী করে সেখানে গ্রাম্য নারী সাজিয়ে অনেকের ইন্টারভিউ নিতে দেখেছি। এ ধরণের একটি ইন্টারভিউতে সাজানো গ্রাম্য নারীকে বর্ণনা করতে দেখেছিলাম তার উপর ফতোয়াবাজদের অত্যাচারের বানানো কাহিনী। সেই ভিডিওগুলো আবার ইংরাজীতে ডাবিং করে ফান্ড রেইজিং এর জন্য বিদেশে পাঠানো হতো। শিল্প-সাহিত্য বিশেষ করে চলচিত্রের সাথে সংশ্লিষ্টগণ দেশী-বিদেশী পুরস্কার পাবার আশায় বাংলাদেশের নেতিবাচক চিত্র ফুটিয়ে তুলে চলচিত্র তৈরী করেন। মাটির ময়নাসহ যে সকল বাংলাদেশী সিনেমা এ পর্যন- আন-র্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে তাদের সবগুলোতেই বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে দিক তুলে ধরা হয়েছে। জনপ্রিয় চলচিত্র নির্মাতা ও ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদ একবার বলেছিলেন, আমাদের দেশের চলচিত্রের জন্য বিদেশী পুরস্কার পাবার প্রধান শর্ত হচ্ছে তাতে বাংলাদেশকে দারিদ্র পীড়িত, পশ্চাদপদ ও সাম্প্রদায়িক হিসাবে দেখাতে হবে। একই কথা বলতেন আমার সিনেমাটোগ্রাফীর শিক্ষক প্রখ্যাত চলচিত্রকার মরহুম আব্দুস সামাদ। বিশাল প্রবন্ধে তিনি আরো লিখেছেন, এদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের দারিদ্র ও অনগ্রসরতা এখন একটা দর্শনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কেউ মিশরে গেলে পিরামিড দেখতে চায়, ইন্ডিয়ায় গেলে তাজমহল কিংবা বাঙ্গালোরের সিলিকন ভ্যালী দেখতে যায়। কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে কবরস্থানের উপরে বস্তি গড়ে উঠেছে। ওরা তাকে বলে মদীনাতুল মাইয়েত বা মৃতের শহর। সে দেশের সরকার ভিআইপি অতিথিকে এই শহরটি দেখাতে নিয়ে যায় না। ইন্ডিয়ায় অসংখ্য নবজাতক কন্যাশিশুকে প্রতিদিন জীবন- হত্যা করা হচ্ছে, অভাবের তাড়নায় কৃষকেরা আত্মহত্যা করছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত হচ্ছে অসংখ্য নাগরিক। তাদের নিয়ে তৈরী মিউজিয়ম বা এজাতীয় কিছু দেখাতে সে দেশের রাষ্ট্রীয় অতিথিদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় না। অথচ, আমাদের দেশে কোন ভিআইপি অতিথি এলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বস্তিতে, বাংলাদেশের দীন-হীন রূপটি দেখাতে। বাংলাদেশকে দারিদ্রের দেশ, মৌলবাদের দেশ, সাম্প্রদায়িকতার দেশ হিসাবে এরাই বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছে।‘&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবেই চলছে ভদ্র কায়দায় সেলিব্রিটিদের দিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার নামে দেশবিরোধী প্রচারনা। আয়োজন চলছে দেশকে মডার্ন কলোনাইজশেনভুক্ত করে স্থায়ীভাবে নির্ভরশীল বানানোর অদম্য প্রয়াস। ভাবতে কষ্ট লাগে ভারতের মতো যেদেশে কোটি কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তাদের কাউকেও আজ ধরে এনে বিল গেটসীয় কায়দায় বলানো হয়, আইটি খাতে বাংলাদেশের ছাত্রদেরকে লোভনীয় স্কলারশীপের ব্যবস্থা করার কথা বলবে রাহুল গান্ধী। একথা শুনে আমরা (যারা ডজন ডজন ভারতীয় ছাত্রদেরসাথে পড়াশোনা, এক সাথে চাকরি করার মাধ্যমে তাদেরকে ভাল করে জানি) শুধু নয় খোদ ভারতীয় নাগরিকরাই মুখ টিপে হাসে।আইটিতে তাদের অসামান্য উন্নতি নিঃসন্দেহে ঈর্ষার কারন, তাই বলে এ রকম বাগাড়াম্বর কথা শুনানো কি খুব বিলাসিতা নয় কি? এভাবেই কি দেশে দেশে গিয়ে আমাদের পন্ডিতজনেরা দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছেন? &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;* লেখাটি দৈনিক নয়াদিগন্ত ১৫ই আগস্ট, ২০০৮ এ প্রকাশ করেছে।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;a href="http://www.dailynayadiganta.com/2008/08/15/fullnews.asp?News_ID=98504&amp;amp;sec=6"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;http://www.dailynayadiganta.com/2008/08/15/fullnews.asp?News_ID=98504&amp;amp;sec=6&lt;/span&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-4243965262893154510?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/4243965262893154510/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=4243965262893154510' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/4243965262893154510'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/4243965262893154510'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/08/blog-post.html' title='রাহুল গান্ধীর ‘ব্যক্তিগত সফর’ এবং আমাদের  ‘বস্তি-দর্শন’ সংস্কৃতি'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_sD5XvJnI/AAAAAAAAABA/o1tpeRdCE8M/s72-c/rahul_gandhi_248pppp.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-4733367278357615787.post-1043083169213372864</id><published>2008-07-30T06:55:00.000-07:00</published><updated>2008-09-04T07:11:19.592-07:00</updated><title type='text'>এক নরক শিবিরের কাহিনী</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_rVAqUxkI/AAAAAAAAAA4/vp9PCNl_0U4/s1600-h/xin_0706021009122301155411.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5242167237469849154" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_rVAqUxkI/AAAAAAAAAA4/vp9PCNl_0U4/s320/xin_0706021009122301155411.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_rRohWEsI/AAAAAAAAAAw/YHs6QN6tdUI/s1600-h/2008-05-02-gitmo.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5242167179450127042" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_rRohWEsI/AAAAAAAAAAw/YHs6QN6tdUI/s320/2008-05-02-gitmo.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;কিউবার একেবারে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে গুয়ান্তেনামো উপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত আমেরিকার বিতর্কিত ‘গুয়ান্তেনামো বে নৌ-স্থাপনা’। আমেরিকানরা একশো বছরের বেশী সময় ধরে স্থাপনাটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ফ্লোরিডার মায়ামী বীচ থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে দক্ষিণ দিকের উভয় অঞ্চলই ইউএস ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স গুয়ান্তেনামো’ নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৮৯৮ সালের স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ পরবর্তীতে আমেরিকা কিউবার কাছ থেকে জায়গাটি লীজ হিসেবে নেয়। ১৯০৩ সালে দুই দেশের ঐক্যমতের ভিত্তিতে লিজটি সম্পাদিত হয়। আর এটিকে ১৯৩৪ সালে চুক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। কিউবার দৃষ্টিতে আমেরিকার বর্তমান উপস্থিতি অবৈধ। কারণ, বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সমঝোতা ১৯৬৯ সালের জেনেভার ভিয়েনা কনভেনশনের ‘চুক্তি আইন’ -এর ৫২ নং ধারা সরাসরি লংঘন করে। কিন্তু আমেরিকার পাল্টা কথা হল, লীজটি ভিয়েনা কনভেনশনের আগে হওয়ায় উক্ত চুক্তি আইনের ৪ নং ধারানুযায়ী তাদের উপর ৫২ নং ধারাটি মানা অপরিহার্য নয়। যুদ্ধ জয়ের পর কিউবার প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন জেনারেল টমাস এস্ট্রাডা পামা (Tomas Estrada Palma)। তিনি হলেন আমেরিকার নাগরিক । মে ২০, ১৯০২ থেকে সেপ্টেম্বর ২৮, ১৯০৬ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তিনিই দুই সহস্র মার্কিন স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে ৪৫ বর্গমাইল ব্যাপী দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণভার নিতে আমেরিকাকে প্রস্তাব দেন ১৯০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী। ১৯৩৪ সালে স্বর্ণমুদ্রার বদলে সমপরিমান অর্থ মার্কিন ডলারে ৪,০৮৫ ধার্য্য করে নতুন চুক্তি সাধিত হয়। এভাবেই গুয়ান্তেনামো বে’র শিবিরটিকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রনে নেয় আমেরিকা যুক্তরাস্ট্র। বারে বারে টানাপোড়ন চলতে থাকলেও দুদেশের মধ্যে ঐক্যমত বা আমেরিকা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে অথবা আরেকটি বিশেষ কারন আসা না পর্যন্ত আজীবন এটি ইউএস নৌ-বাহিনীর একটি স্থাপনা হিসেবেই ব্যবহৃত হতে থাকবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই স্থাপনায় মোট তিনটি ক্যাম্প রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে এগুলোতে বন্দীদের নির্যাতন করা হয় । নামগুলো হল, ‘ক্যাম্প ডেল্টা (Camp Delta)’, ‘ক্যাম্প ইগোয়ানা (Camp Iguana)’ ও ‘ক্যাম্প এক্স-রে (Camp X-ray)। ক্যাম্প এক্স-রেটি বর্তমানে বন্ধ আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নাইন-ইলেভেনের পেট ফুঁড়ে অনেক অবৈধ সন্তানের জন্ম হয়েছে। তার একটির নাম হল গুয়ান্তেনামো বে’র এই ডিটেনশন ক্যাম্প বা বন্দী শিবির । সংক্ষেপে একে ‘গিটমো (Gitmo)’ বা GTMO-ও বলা হয়। এই ক্যাম্পের নাম শুনলেই একটি দৃশ্য সবার চোখের সামনে ভেসে উঠে । তাহলো, পেছন দিক থেকে দুই হাত-পা বাঁধা, মাথা থেকে গলা পর্যন্ত ঢাকা কমলা রঙের কাপড় পরিহিত একদল মানুষদের জন্তুর মত খোঁয়াড়ে রেখে আমেরিকান সৈন্যদের পাহারা দেয়ার দৃশ্য। জীবন্ত মানুষদের উপর কত রকমের যে নির্যাতন চালানো যায় তার ছিটেফোঁটা ছবি বিভিন্ন ফূটেজে দেখে পৃথিবীর তাবৎ বিবেকবান মানুষদের বাকরুদ্ধ হওয়ার বাকি নেই। সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করতে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই চলছে এসব অত্যাচার। এতই ভয়ঙ্কর সেসব অত্যাচার যে, তা চালাতে গিয়ে খোদ নির্যাতনকারীদেরই অনেককে পাগল হতে হয়েছে। মাথা থেকে ঘাড় পর্যন্ত ঢেকে দু’হাত পেছনদিকে পিঠমোড়া করে বেধে ইলেকট্রিক তার পায়ের সাথে লাগিয়ে হতভাগা বন্দীদের ছোট্ট এক খন্ড পাথরের উপর রাতদিন উঠবস করা হয়। যার বিরুদ্ধে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটে জনপ্রিয় ‘আনসাবসক্রাইব (Unsubscribe)’ আন্দোলন শুরু করেছিল। দুনিয়ার এই দোযখকে সাবেক সোভিয়েত কম্যুনিষ্ট গুপ্তচর কর্তৃক শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের ক্যাম্প ‘গুলাগ (Gulag)’-র সাথে তুলনা করেছিলেন সংস্থাটির সেক্রেটারী জেনারেল আইরিন খান। তার এই সাহসী উচচারনে বুশ, চেনী, রামসফেল্ড সবাই ক্ষেপেছিলেন। যথাক্রমে তারা বলেছিলেন ‘উদ্ভট (absurd)’,‘পীড়াদায়ক (offended)’, ও ‘নিন্দাযোগ্য (reprehensible)’ অপরাধ। পৃথিবীর সব মানবাধিকার সংস্থাসমূহ এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ক্যাম্পগুলো বন্ধের দাবী জানিয়ে আসছে বহুদিন ধরে।&lt;br /&gt;২০০২ সালের জানুয়ারী মাসে আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ৭৭৫ জন যুদ্ধ-বন্দীদের এখানে ধরে আনে আমেরিকা যুক্তরাস্ট্র। ‘বৈধ’ ভাবে জঘন্য অত্যাচার চালানোর কুমতলবে তারা ঘোষণা দেয় এসব বন্দীদের অধিকার জেনেভা কনভেনশন কর্তৃক ‘যুদ্ধ-বন্দী আইন’ দ্বারা সংরক্ষিত নয়। তার মানে হল, এদের উপর আচরণে কোন নিয়ম কানুন না মানলেও চলবে। ‘যুদ্ধবন্দী (Prisoner of War)’ নাম পালটে এদেরকে বলা হল ‘শত্রুযোদ্ধা (Enemy Combatant)’। টানা চার বছর অকথ্য নির্যাতন শেষে মার্কিন উচচ আদালত ২০০৬ সালের ২৯ জুন ঘোষণা দেয় এরা ‘শত্রুযোদ্ধা’ নয়, ‘যুদ্ধবন্দী’। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ ওই বছর জুলাই ৭-এ আভ্যন্তরীন একটি মেমো দিয়ে বিশ্ববাসীকে এই বলে সান্ত্বনা দিল যে, ‘হুম্‌, ভবিষ্যতে তাদের সে মর্যাদা দেয়া হবে’। তবে সেই মর্যাদা কবে থেকে দেয়া শুরু হবে, সুনির্দিষ্টভাবে তা না বলে মানবাধিকার সংগঠনসমূহদের অন্ধকারে রাখা হল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেক চেষ্টার পরেও ৯/১১-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি আদায় করতে না পেরে এদের মধ্যে ৪২০ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। মে ২০০৮ পর্যন্ত আনুমানিক ২৭০ জন যুদ্ধ বন্দী এই ক্যাম্পে আটকাবস্থায় দিনাতিপাত করছে। পেন্টাগন বলছে (ফেব্রুয়ারী ৯, ২০০৮), এদের মধ্যে মাত্র ৬ জনকে ৯/১১ এর সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার করা হবে। তারা আশা করেছিল এ সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০তে দাঁড়াবে। এটা যেন ঠিক ‘স্যাম্পল থিউরী (Sample Theory)’-র ম্যাস (mass) প্রোডাক্টশনের ব্যাচ থেকে এক্সপেরিমেন্টের জন্য কিছু সিলেকশন অথবা জন্তু-জানোয়ারের পাল থেকে বেছে বেছে তরতাজা কয়েকটা পশু ধরে কুরবানীর জন্য নিয়ে আসার মত random selection।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই হতভাগা মজলুম বনি-আদমদের মুখ দিয়ে জোর করে কথা বের করে আনার জন্য যে বর্বর পদ্ধতিসমূহ প্রয়োগ করা হয়েছে বা এখনো হচ্ছে তা বর্ণনা করলে যে কোন মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠবে। তার একটি হল ‘স্লিপ ডিপ্রাইভেশন (Sleep Deprivation)’ বা ‘নিদ্রা-প্রবঞ্চণা’। হেরাল্ড ট্রিবিউন জুলাই ২, ২০০৭ এ লিখেছে, এই পদ্ধতিটি তারা চীনা কমিউনিস্টদের কৌশল থেকে নকল করেছে যারা কিনা কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রয়োগ করত। এ পদ্ধতিতে কাউকে নিদ্রা থেকে একাধারে অনেকদিন বঞ্চিত রেখে ঘুমুতে দিয়েই হঠাৎ জাগিয়ে তুলে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। ইসরাইলের সাবেক প্রধাণমন্ত্রী (১৯৭৭-১৯৮৩) মেনাসেম বেগিন (Menachem Begin) রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ কর্তৃক তার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘ক্রমাগত নিদ্রাহীনতার কারনে মাথার ভিতরে এক ধরণের কুঞ্ঝঘটিকা বা এলোমেলোভাব সৃষ্টি হয়। মন-প্রাণ ক্লান্তিতে বিষে যায়, পা দুটো মনে হয় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। তখন জীবনে একটাই চাওয়া থাকে, তা হল ‘ঘুম’।‘ তিনি বলেছেন, ‘যার অভিজ্ঞতা আছে কেবলমাত্র সেই-ই বলতে পারবে, এর সাথে ক্ষুধা বা তৃষ্ণার কোন তুলনা চলেনা। অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল একে চিহ্নিত করেছে ‘বর্বর’, ‘অমানবিক’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপমানজনক’ পদ্ধতি হিসেবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ওয়াটারবোর্ডিং (Waterboarding)’ হল আরেকটি নির্যাতনের পদ্ধতির নাম। এই পদ্ধতিতে হাত-পা বেঁধে শুইয়ে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে মাথা কাত করে উপর দিক থেকে পানি ঢালা হয়। নির্যাতিত মানুষটি নিঃশ্বাস বন্ধে ছটফট করতে থাকে, ভাবে পানিতে ডুবে বুঝি এখনই তার মৃত্যু হবে। এভাবেই চলতে থাকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে ‘ইন্টারোগেশন’! বাহ্যত. শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় এই পদ্ধতিটি আমেরিকান সৈন্যদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়, যদিও এর প্রভাবে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা, মস্তিস্ক ও ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতিসহ বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টায় হাত-পা ও শরীর প্রচন্ডভাবে আন্দোলিত হওয়ায় হাড়-গোড় ভেঙে যাওয়া এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, নিয়মিত বিচারের আওতায় না এনে সি.আই.এ এই পদ্ধতিটি তিনজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী (খালেদ শেখ মোহাম্মদ, আবু যুবায়দা ও আব্দাল রাহিম আল নাশরী)-এর উপর প্রয়োগ করে আসছে। আর এই জঘন্য পদ্ধতিটি কিনা অনুমোদন করেছিল আমেরিকার খোদ ‘জাস্টিস্‌ ডিপার্টমেন্ট’! অবশ্য, উচচ আদালত এতদিনে তাদেরকে ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবে মর্যাদা দেয়ার কথা বলছে।&lt;br /&gt;এতসব নির্যাতন সইতে না পেরে এ পর্যন্ত চারজন জনম-দুঃখীর আত্মহত্যার খবর দুনিয়ার মানুষ জানতে পেরেছে। পাশাপাশি পত্রিকায় এসেছে শত শত আত্মহত্যা প্রচেষ্টার খবরও। বিচারের আগেই খেতাবপ্রাপ্ত এসব সন্ত্রাসী বন্দীদের কাছে দুনিয়ার জীবন বুঝি আর শেষ হতে চায় না। এরা বুঝি এখন আর মানুষ নয়! তিনজন বন্দীর মরা লাশ পাওয়া গেছে জুন ১০, ২০০৬-এ। আমেরিকার সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগণ বলেছে, ‘আমাদের (অর্থাৎ আমেরিকানদের) উপর অপরাধ চালানোর অনূশোচনা থেকেই তাদের এসব আত্মহত্যা!’ একেই বলে সভ্যতার চরম অপমান, মানবতার বুক ফাঁটা ক্রন্দন!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কানাডার নাগরিক তরুন যুবক ওমর খাদরের উপর নিদ্রা-প্রবঞ্চণা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন প্রকারের অত্যাচার চালনা হয়েছে উক্ত নরক শিবিরে। আফগানিস্তানে এক আমেরিকান সৈন্য হত্যার অভিযোগ তাকে ধরে আনা হয় ২০০২ সালে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। গত ১৫ জুলাই ২০০৮ এ তার আইনজীবি ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে ধারণ করা ইন্টারোগেশনের ভিডিও টেপ প্রকাশ করেছেন । উদ্দেশ্য হল, কানাডিয়ানদের সহানুভূতি জাগ্রত করা যাতে করে কানাডিয়ান সরকার গুয়ান্তেমো বে’র বন্দীশালা থেকে ওমরকে তার নিজ দেশে ফেরৎ এনে স্বদেশের আইনে সোপর্দ করে। এতে দেখানো হয়, ছেলেটির গগণবিদারী চিৎকারে পাষন্ডদের হৃদয় এতটুকুও টলেনি। ওমরের মায়ের বুক চাপড়ানোর দৃশ্য টিভিতে দেখলে কেউই চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভিডিও ফুটেজে দেখানো হয়েছে, ওমর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কানাডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার এক এজেন্টকে বলছে, ‘হয় আমাকে বাঁচাও, নয়তো মেরে ফেলো (Kill me or Help me)’। ‘নিদ্রা-প্রবঞ্চণা’ তাকে এমনভাবে শেষ করে ফেলছে যে, সে বাস্পরুদ্ধ কন্ঠে করে বলে যাচ্ছে, ‘আমার হাত নাই, পা নাই চোখ নাই’। সাক্ষাৎকার নেয়া কর্মকর্তা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছে, ‘না, তোমার তো সবই আছে। এই যে তোমার হাত, ওই হল তোমার পা, তোমার চোখ, সবই আছে’। ওমর বলছে, ‘না আমার কিচ্ছু নাই, তোমরা আমায় যত্ন নিচ্ছ না, তোমরা আমাকে মেরে ফেলো, না হয় বাঁচাও’। চিৎকার করে সে তার মাকে ডাকছে ‘ইয়া উম্মী’, ‘ইয়া উম্মী (মা, আমার মা)’। তার মা মাহা আল-সামনাহ্‌ পরদিন (জুলাই ১৬, ২০০৮) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে ডাকছে, আর আমি এখানে বসে আছি। আমি আর পারছি না।‘ তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদছি। খোদা, এখানে বসে বসে তাকে ডাকা ছাড়া আমি কিইবা করতে পারি। আহ্, আমার ছেলে যদি আমার আমার উত্তর শুনত! খোদা, তুমিই তার ডাকের উত্তর দাও।‘&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকজন বন্দীর নাম ত্রিশ বছর বয়স্ক সেলিম হামদান। নভেম্বর ২০০১-এ আফগানিস্তান থেকে ধরে এনে ৬ বছর ধরে ওই ক্যাম্পে সব ধরনের নির্যাতন চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, বিন লাদেনের ট্রাক ড্রাইভার ও আল-ক্বায়েদার সদস্য, যদিও সে এসব অস্বীকার করছে। ইউএস সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক যুদ্ধবন্দীদের সাংবিধানিক অধিকার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক রুলিং জারির পর জুলাই ১৬, ২০০৮ এ তাকে নিয়মিত আইনের আওতায় এনে শুনানী শুরু করা হয়। আদালতে সে বর্ণনা করেছে, কিভাবে ৫০ দিন ধরে তার উপর নির্যাতনের বিভিন্ন পদ্ধতি যেমন, নিদ্রা-প্রবঞ্চণা, যৌন নিপীড়িনসহ নানা ধরনের অত্যাচার করা হত। শ্রান্ত-ক্লান্ত শরীর ঘুমের জন্য এলিয়ে দেয়ার পাঁচ-দশ মিনিটের মাথায়ই দরজায় কান ফাটানো আওয়াজ দিয়ে উঠিয়ে আবার শুরু হত জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের প্রচেষ্টা। সেলিমের আইনজীবি গত ২১ জুলাই মার্কিন আদালতে বলছে, ‘তার মক্কেল আল-ক্বায়েদার সদস্য নয়, কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত নয়। নিজের বড়সড় পরিবারটি চালাতে সে মাসিক দুইশো ডলারের বিনিময়ে ছিল একজন লো-লেভেলের ট্রাক ড্রাইভার’। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইয়েমেনী নাগরিক সেলিম হামদানই প্রথম যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে । অনুমান করা হচ্ছে, ওমর খাদর হবে এদিক থেকে দ্বিতীয়। অক্টোবরে তার শুনানী শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপসংহারে বলা যায়, যেকোন সন্ত্রাসী, দূর্নীতিবাজ বা দুস্কৃতিকারীদেরকে তড়িঘড়ি করে ধরে এনে নিয়মিত বিচারের সম্মুখীন করে তাদের সর্বোচচ সাজা নিশ্চিত করাতে যেকোন সরকারের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। সবারই কাম্যও তাই। এতে করে একটি দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হয়। সাথে সত্যিকারের অপরাধীরাও দূর্বল হয়। তাছাড়া, কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ ব্যতিরিকে কাউকেই সন্ত্রাসী বা দাগী আসামী আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণ অনুমানের উপর ভিত্তি করে অকথ্য নির্যাতন চালানো পৃথিবীর কোন দেশের আইনই অনুমোদন করেনা। ক্ষমতা থাকলে কাউকে ধরে এনে চোখ, মুখ বেঁধে পিটিয়ে হাড়-গোড় ভেঙে নির্যাতন চালানো অত্যন্ত সহজ কাজ, এটা নিশ্চয়ই কোন কৃতিত্বের কাজ নয়। আর আন্তর্জাতিক বিধি মোতাবেক প্রতিটি দেশের সংবিধানই বন্দীসহ যেকোন মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য নাগরিক-অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। ন্যায়দন্ড সমুন্নত রাখাই অন্ততপক্ষে ক্ষমতাবানদের ব্রত হওয়া উচিৎ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পূর্বে কম্যুনিস্টরা যুদ্ধবন্দীদের উপর এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করত আর দেশ হিসেবে আমেরিকা যুক্তরাস্ট্র ছিল এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী সোচচার। আর আজ তারাই ওই পদ্ধতিগুলো কমুনিস্টদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিখে উলটো ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বানিয়ে বন্দীদের উপর হুবহু প্রয়োগ করতে এখন লজ্জা পাচ্ছে না।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/4733367278357615787-1043083169213372864?l=shahinsiddiquee.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/feeds/1043083169213372864/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=4733367278357615787&amp;postID=1043083169213372864' title='10 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1043083169213372864'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/4733367278357615787/posts/default/1043083169213372864'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shahinsiddiquee.blogspot.com/2008/07/blog-post.html' title='এক নরক শিবিরের কাহিনী'/><author><name>Shahin Siddiquee</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12493176281470123359</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://4.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SMNT7MjWc_I/AAAAAAAAABM/N2e4RIEyANE/S220/DSC01707.JPG'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_w0EOV6iI9sI/SL_rVAqUxkI/AAAAAAAAAA4/vp9PCNl_0U4/s72-c/xin_0706021009122301155411.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>10</thr:total></entry></feed>
